Advertisement
E-Paper

‘কোভিড ১৯’ হাসপাতালে প্রস্তুতি যুদ্ধের

এত দিন জেলার বাইরে থেকে ফেরা পরিযায়ী শ্রমিকদের চিহ্নিত করে তাঁদের স্বগৃহে নিভৃতবাসে (‌হোম কোয়রান্টিন) রাখাটাই ছিল জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতরের কাছে প্রধান চ্যালেঞ্জ।

সুস্মিত হালদার

শেষ আপডেট: ০৫ এপ্রিল ২০২০ ০৬:২১
ছবি: পিটিআই।

ছবি: পিটিআই।

বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালের বদলে জেলাতেই করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা করার জন্য যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পরিকাঠামো তৈরির কাজ চলছে। কৃষ্ণনগর শহরের বাইরে, জাতীয় সড়কের পাশে পালপাড়া মোড়ে বন্ধ পড়ে থাকা বেসরকারি গ্লোকাল হাসপাতালে শুক্রবারই তৈরি হয়ে গিয়েছে ‘কোভিড ১৯’ বা বিশেষ করোনা হাসপাতাল। কল্যাণীতেও বেসরকারি এসএনআর কার্নিভাল হাসপাতালকে করোনা হাসপাতালে রূপান্তরিত করার কাজ প্রায় শেষের মুখে। সেই সঙ্গে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে তৈরি হয়েছে ৬০ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ড।

এত দিন জেলার বাইরে থেকে ফেরা পরিযায়ী শ্রমিকদের চিহ্নিত করে তাঁদের স্বগৃহে নিভৃতবাসে (‌হোম কোয়রান্টিন) রাখাটাই ছিল জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতরের কাছে প্রধান চ্যালেঞ্জ। কিন্তু পরিস্থিতি পাল্টে যাচ্ছে দ্রুত। মূলত ২২ মার্চ থেকে পরিযায়ী শ্রমিকেরা জেলায় ঢুকতে শুরু করেছিলেন। সেই হিসাবে তাঁদের ১৪ দিন নিভৃতবাসে থাকার মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে। এ বারে এসপার ওসপার কিছু একটা হবেই।

স্বাস্থ্যকর্তারা জানাচ্ছেন, কিছু-কিছু করে লোকের মেয়াদ শেষ হয়ে যেতে থাকাতেই গৃহ নিভৃতবাসের মোট সংখ্যা ক্রমশ কমছে। এই ধারা চললে ভালই। কিন্তু যদি তাঁদের একাংশ শেষ লগ্নে অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকেন বা তাঁদের থেকে আরও কিছু মানুষ এর মধ্যেই সংক্রমিত হয়ে গিয়ে থাকেন, সে ক্ষেত্রে সামাল দেওয়া কঠিন হবে। এর জন্যই তৈরি হচ্ছে আইসোলেশন ওয়ার্ড, যেখানে তাঁদের ভর্তি করে লালারসের নমুনা পরীক্ষা করতে পাঠানো হবে। যদি করোনা সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাঁদের ‘কোভিড ১৯’ হাসপাতালে পাঠানো হবে।

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, কৃষ্ণনগরে গ্লোকাল হাসপাতালে প্রাথমিক ভাবে ১০০ শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও দেড়শো থেকে দুশো শয্যা রাখা যাবে বলে স্বাস্থ্যকর্তাদের দাবি। তেহট্টের বার্নিয়ায় পাঁচ জনের পরে নদিয়ায় আর কোনও করোনা আক্রান্তের সন্ধান এখনও পর্যন্ত মেলেনি। তাই এই হাসপাতালে এখনও কাউকে ভর্তি করা হয়নি।

কল্যাণীতে জাতীয় সড়কের পাশে এসএনআর কার্নিভাল হাসপাতালেও ১০০ শয্যার ব্যবস্থা হচ্ছে। সেখানে এমনিতে ৫০টি শয্যা ছিল। ফলে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতরোর তরফে আরও ৫০ শয্যার পরিকাঠামো তৈরির উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে। জেলার এক কর্তার কথায়, “ওই হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীদের কোভিড ১৯ হাসপাতালে কাজ করতে বলা হয়েছিল। কোনও চিকিৎসক রাজি হননি। তবে কয়েক জন নার্স ও কর্মী কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন।”

জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা যায়, শক্তিনগর জেলা হাসপাতালের চিকিৎসকেরা পালপাড়া মোড়ের করোনা হাসপাতালে এবং জেএনএম হাসপাতালের চিকিৎসকেরা কল্যাণীর হাসপাতালে চিকিৎসা করবেন বলে প্রাথমিক ভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরে প্রয়োজন হলে জেলার অন্য ব্লক, গ্রামীণ, স্টেট জেনারেল বা মহকুমা হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক নিয়ে আসা হতে পারে।

শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে ৬০ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরির জন্য শল্য ও মানসিক বিভাগের রোগীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রথমে ঠিক ছিল, ৭০টি শয্যার ওযার্ড হবে। কিন্তু জায়গার অভাবে শেষ পর্যন্ত ১০ শয্যা কম রেখেই ওয়ার্ডটি চালু করতে বাধ্য হয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। কয়েক দিন ধরে ওই হাসপাতালের বদলে রোগীদের রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে আইসোলেশনে পাঠানো হচ্ছিল। এ দিন থেকে শক্তিনগরেই ফের রোগী ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর।

Coronavirus Health
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy