Advertisement
E-Paper

করোনা-ভয়ে দাঁড়ি পড়ল টিকাকরণে

সদ্যোজাতকে কোলে আঁকড়ে মায়েদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভিড় জেলার কোনও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে আর চোখে পড়ছে না।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ২৩ এপ্রিল ২০২০ ০৫:২৫
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

করোনাভাইরাসের প্রকোপ ঠেলতে, সামাজিক দূরত্ব অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠায় সদ্যোজাতদের টিকাকরণ প্রকল্প আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিল জেলা স্বাস্থ্য দফতর।

এর ফলে, জন্মের চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে তিনটি বাধ্যতামূলক টিকা ছাড়া অন্য কোনও টিকা বা বুস্টার ডোজ় আপাতত দেওয়া হচ্ছে না বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে।

সদ্যোজাতকে কোলে আঁকড়ে মায়েদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভিড় তাই জেলার কোনও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে আর চোখে পড়ছে না। জেলা স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা বলেন, ‘‘জানি, এর ফলে মায়েদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এলে পাছে মা কিংবা সদ্যোজাতের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ায়, তাই আপাতত জেলারউপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিতে কোনও টিকা দেওয়া হচ্ছে না।’’

সময় মতো টিকা না দিলে সমস্যা হতে পারে, এই আশঙ্কায় সচ্ছল পরিবারের অনেকেই বেসরকারি হাসপাতাল থেকে টিকা দিয়ে নিচ্ছেন। চিকিৎসকদের একাংশ দাবি করেছেন, বিভিন্ন রোগের হাত থেকে সুরক্ষিত রাখতেই টিকাকরণ প্রকল্প। শুধু তাই নয়, করোনার ছায়া এ দেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে তেমন ভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অভিমত, তার বড় কারণ, এ দেশে সদ্যোজাতদের নিয়ম করে বিসিজি’র টিকা দেওয়া হয়। তা হলে এই টিকা না দেওয়ার পরোক্ষ ফল কি ভুগতে হবে না?

বহরমপুরের এক শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘‘সময়ের টিকা সময়ে দেওয়ার জন্যই জাতীয় টিকাদান সময় তালিকা, বেঁধে দেওয়া রয়েছে। সেই সময় মতো টিকা না দিলে সমস্যা হওয়ার কথা। টিকা শিশুদের নানা রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়। সময় মতো সেই টিকা না দিলে শিশুদের শারীরিক সুরক্ষায় ব্যঘাত ঘটতে পারে। ফলে জরুরি টিকাগুলি সময় মতো দেওয়া উচিত।’’

তবে জেলা স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা পাল্টা বলেন, ‘‘সময়ের টিকা সময়ে দেওয়া উচিত ঠিকই। কিন্তু এখন করোনাভাইরাসের মতো মহামারী আমাদের সামনে, তাই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে টিকাকরণ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। টিকা দিতে গিয়ে কোনও শিশু বা মায়ের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে খারাপ হবে। তাই করোনাভাইরাস সংক্রমণ রুখতে টিকাকরণের বিষয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’’

মুর্শিদাবাদের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রশান্ত বিশ্বাস অবশ্য বলছেন, ‘‘স্বাস্থ্যভবনের নির্দেশে শিশুদের টিকাকরণ কর্মসূচি বন্ধ রয়েছে। কী কারণে তা বন্ধ হয়েছে তা স্বাস্থ্যভবনই বলতে পারবে। সেখান থেকে যা নির্দেশ আসে তা কার্যকর করাই আমাদের কাজ।’’

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, শিশু জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওপিভি (ওরাল পোলিও ভ্যাকসিন), বিসিজি, ও হেপাটাইটিস-বি টিকা দেওয়া হয়। ওই তিনটি টিকা অবশ্য এখনও দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ৬ সপ্তাহ থেকে ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের একাধিক টিকা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, শিশুর ৬, ১০ ও ১৪ সপ্তাহে ওপিভি টিকা দেওয়া হয়। তার পর রয়েছে, পেন্টাভ্যালেন্ট ভ্যাকসিন- দেওয়া হয়। ৬ ও ১৪ সপ্তাহ বয়সে শিশুকে আইপিভি দেওয়া হয়। ৬, ১০ ও ১৪ সপ্তাহ দেওয়া হয় আরভিভি।

(অভূতপূর্ব পরিস্থিতি। স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিয়ো আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন, feedback@abpdigital.in ঠিকানায়। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।)

Coronavirus
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy