Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২০ মে ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

দমকলের দাবি ডোমকল ও জঙ্গিপুরে

সুতির পারাইপুরে আগুন লাগার খবরটা ধুলিয়ান দমকল কেন্দ্রে পৌঁছেছিল মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই। ২১ এপ্রিল দুপুরে ৩০ কিলোমিটার দূরে আগুনের খবর পেয়ে দ

বিমান হাজরা
রঘুনাথগঞ্জ ২৫ জুন ২০১৪ ০০:৩১
Save
Something isn't right! Please refresh.
Popup Close

সুতির পারাইপুরে আগুন লাগার খবরটা ধুলিয়ান দমকল কেন্দ্রে পৌঁছেছিল মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই। ২১ এপ্রিল দুপুরে ৩০ কিলোমিটার দূরে আগুনের খবর পেয়ে দমকলের কর্মীরা যখন গ্রামে গিয়েছিলেন ততক্ষণে আগুনে পুড়ে ছাই ২৫টি বাড়ি। দমকলের ভরসায় না থেকে গ্রামবাসীরা পাশের নদীতে থেকে জল তুলে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছিলেন। সম্প্রতি সাগরদিঘিতে বিদ্যুৎ দফতরের সাব স্টেশনে উত্তেজিত বিক্ষোভকারীরা ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয়। সে আগুন নেভাতে দমকল নয়, এগিয়ে এসেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারাই। উমরপুরের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, শ্রীকান্তবাটিতে দুর্ঘটনায় ছাত্র মৃত্যুর জেরে বাসে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার পর দীর্ঘ যানজট পেরিয়ে যখন দমকলের গাড়ি এসে পৌঁছেছিল তখন উত্তেজিত জনতার রোষ গিয়ে পড়েছিল দমকল কর্মীদের উপর।

গ্রামে-গঞ্জে আগুন লাগলে দমকল নয়, ছুটে আসেন এলাকার বাসিন্দারা। এমনটাই দস্তুর মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর ও ডোমকলে। এই দুই মহকুমা সদরে এখনও পর্যন্ত কোনও দমকল কেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। এ রাজ্যে বাম জমানায় টানা তিন দশক ধরে মন্ত্রী ছিলেন ডোমকল থেকেই। তবু দমকল থেকে বঞ্চিত ডোমকল। তৃণমূল জমানায় রাজ্যের মন্ত্রী জঙ্গিপুর মহকুমা থেকেই। এই জঙ্গিপুর থেকেই নির্বাচিত সাংসদ দু’বার কেন্দ্রীয় সরকারে মন্ত্রী মনোনীত হয়েছেন। তবু দমকলের নিরাপত্তা পায়নি জঙ্গিপুর। এ রাজ্যে দমকল কেন্দ্রের সংখ্যা ১১২টি। পাশের জেলা বীরভূমে ৩ টি মহকুমাতেই রয়েছে দমকল। আর এক প্রতিবেশী জেলা নদিয়ায় ৪টি মহকুমায় দমকল কেন্দ্র গড়ে উঠেছে ৬টি। অথচ মুর্শিদাবাদের ৫টি মহকুমায় এখনও পর্যন্ত গড়ে উঠেছে মাত্র ৩ টি দমকল কেন্দ্র। রাজ্যে আরও যে ১৯ টি দমকল কেন্দ্র সম্প্রতি অনুমোদন পেয়েছে তার মধ্যে রয়েছে লালবাগের নাম।

ধুলিয়ান দমকল কেন্দ্রের আধিকারিক বিষ্ণুপদ রায় বলেন, ‘‘মাসে গড়ে ৬টি করে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে জঙ্গিপুর মহকুমায়। এপ্রিল মাসে সে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ তে। এছাড়াও রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়-সহ ভিভিআইপিদের আনাগোনা, হেলিকপ্টার ডিউটি তো লেগেই আছে। নিজের দমকল কেন্দ্র ছেড়ে বাধ্য হয়ে গাড়ি নিয়ে যেতে হয় ‘ভিভিআইপি ডিউটিতে’। মহকুমা শহর জঙ্গিপুরে দমকল কেন্দ্র থাকলে আমাদের এভাবে ধুলিয়ানে দমকল কেন্দ্র ছেড়ে ঝুঁকি নিয়ে জঙ্গিপুরে যেতে হত না।”

Advertisement

জঙ্গিপুরে দমকল কেন্দ্র গড়ার দাবি আজকের নয়। বাম জমানাতেও অনেক বাম নেতাই বার বার এ দাবি তুলেছেন। মিলেছে আশ্বাস-- ‘এ আর এমন কি? জমি পেলেই হয়ে যাবে।’ সেই আশ্বাসে ভরসা রেখেছেন স্থানীয় মানুষও। তৃণমূলের শাসনে যেন সেই একই সুর, ‘জমির খোঁজ চলছে।’ জঙ্গিপুর ব্যবসায়ী সমিতির সহ সভাপতি বিকাশ নন্দ বলেন, “জঙ্গিপুর মহকুমার রঘুনাথগঞ্জে একটি দমকল কেন্দ্র গড়তে বাম জমানায় অনুমোদন মেলে। জমির জন্য পুরসভাকে বার বার তাগাদা দেয় রাজ্য সরকার। মাত্র বিঘে তিনেক জমি। কিন্তু তারও সংস্থান করতে সেভাবে উদ্যোগ নেয় নি বাম নিয়ন্ত্রণে থাকা পুরবোর্ড।” ফলে সেই দমকল কেন্দ্র গড়ে ওঠে ধুলিয়ানে ২০০১ সালে।

এ ব্যাপারে এমন অভিযোগও ওঠে যে , পাশাপাশি দুই শহর ধুলিয়ান ও অরঙ্গাবাদকে ঘিরে গড়ে উঠেছে শতাধিক ছোট বড় বিড়ি কারখানা। সেই সব কারখানায় কাজ করে হাজার ১৫ শ্রমিক। কোটি কোটি টাকার ব্যবসা হয় বিড়ি শিল্পে। প্রতিটি কারখানায় কয়েক কোটি টাকার বিড়ির পাতা ও মশলা মজুত থাকে। তাই অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কার কথা বিবেচনা করে জঙ্গিপুরে জমির অভাবে বাতিল হওয়া দমকল কেন্দ্র গড়ে ওঠে ধুলিয়ানে তৎকালীন শাসক দলের নেতাদের প্রভাবেই। এরপর বাম জমানায় যতবারই উঠেছে জঙ্গিপুরে দমকল কেন্দ্র গড়ার প্রস্তাব, ততবারই তা বাতিল হয়েছে। দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১০ সালে পূর্বতন বাম আমলে দমকল বিভাগ মুর্শিদাবাদের লালবাগ, ডোমকল, ও জঙ্গিপুরে ৩টি দমকল কেন্দ্র গড়ার প্রস্তাব করে। কিন্তু ওই পর্যন্তই। তা অনুমোদনের সুযোগ আর ঘটেনি।

ডোমকলের বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী আনিসুর রহমান বলেন, “ডোমকলে একটা জমি মিললেও তার সামনে জবরদখলকারীদের সরানো যায়নি। পরে জলঙ্গিতে বাস স্ট্যান্ডের কাছে জমি পাওয়ার চেষ্টাও শেষ পর্যন্ত আটকে যায়। ফলে দমকল কেন্দ্র গড়ে তোলা যায় নি।” জঙ্গিপুরে দীর্ঘ দু’দশক পুরপ্রধান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন সিপিএমের বর্তমান জেলা সম্পাদক মৃগাঙ্ক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “বাম আমলে জঙ্গিপুরে দমকল কেন্দ্র গড়ার জন্য পুরসভার সঙ্গে রাজ্য দমকল দফতরের কথাবার্তা বেশ কিছুটা এগিয়েছিল। দফতরের কর্তারা জঙ্গিপুরে এসে জমি দেখে মাপজোখ করেও যান। জমিগুলি কেন্দ্রীয় সরকারের ফরাক্কা ব্যারাজ ও রাজ্যের পূর্ত দফতরের। তারপর সব কিছু থমকে যায়। দমকল দফতরও তখন আর কিছু জানায়নি পুরসভাকে। সেখানেই আটকে আছে বিষয়টি।”

জঙ্গিপুর পুরসভা এখনও বামেদেরই নিয়ন্ত্রণে। উপ-পুরপ্রধান অশোক সাহা বলেন, “বর্তমান রাজ্য সরকার জঙ্গিপুরে দমকল কেন্দ্র স্থাপনের ব্যাপারে আর কিছুই জানায়নি আমাদের। যেভাবে জঙ্গিপুর শহরের বিস্তার ঘটেছে তাতে দমকলের নিরাপত্তার দাবি উঠেছে।” একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কাছের দমকল কেন্দ্র ধুলিয়ান থেকে ৩৫ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে জঙ্গিপুরে আসার আগেই সব কিছু পুড়ে শেষ হয়ে যায়। তাই বর্তমান রাজ্য সরকারের কাছে পুরসভার পক্ষ থেকে একটা আবেদন পাঠাবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান অশোকবাবু। তবে সমস্যা হল পুরসভার নিজস্ব কোনও জমি নেই।

এক্ষেত্রে রঘুনাথগঞ্জ ও জঙ্গিপুর শহরে সম্ভাব্য তিনটি জমির হদিশ দিয়েছেন ব্যবসায়ী সমিতি। একটি জমি ম্যাকেঞ্জি পার্কের পাশে পূর্বতন বিদ্যুৎ দফতরের ছেড়ে দেওয়া সরকারি জমি। অন্যটি জঙ্গিপুর শহরে সেতু লাগোয়া পূর্ত দফতরের মাঠ। আর একটি খালি জমি প্রতাপপুর কলোনির কাছে, যার মালিক ফরাক্কা ব্যারাজ কর্তৃপক্ষ। সে জমিটি যাতে পাওয়া যায় সে জন্য স্থানীয় সাংসদের সঙ্গে কথা বলে তাঁর সাহায্য নেওয়া যেতেই পারে।

তৃণমূলের রাজ্য কমিটির সদস্য শেখ ফুরকান বলেন, “জঙ্গিপুরে দমকল কেন্দ্র অত্যন্ত জরুরি। আমি দফতরের মন্ত্রীর সঙ্গে এ নিয়ে কথাও বলেছিলাম। মন্ত্রী জানিয়েছেন, জঙ্গিপুর মহকুমায় দমকল কেন্দ্র রয়েছে ধুলিয়ানে। সেক্ষেত্রে জঙ্গিপুরে আর একটি দমকল কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানাতে হবে স্থানীয় পুরসভাকে। সে আবেদন পেলে রাজ্য সরকার বিবেচনা করবে বলে আশ্বাসও দিয়েছেন মন্ত্রী।” তাঁর আশ কিন্তু ঠিক কবে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে তা জানা নেই জঙ্গিপুর, ডোমকলের।



Something isn't right! Please refresh.

আরও পড়ুন

Advertisement