Advertisement
E-Paper

লাশ আসতেই জ্বলে উঠল চাকদহের ‘শেষ প্রান্তর’

দীর্ঘ প্রতিক্ষায় ছিল ‘শেষ প্রান্তর’। অপেক্ষা ছিল একটা বেওয়ারিশ লাসের। শুক্রবার শেষ হল সেই প্রতীক্ষা। মিলল দাবিদারহীন একটি মৃতদেহ। সেই মৃতদেহ দিয়ে চালু হল চাকদহ পুরসভার নব নির্মিত বৈদ্যুতিক চুল্লি— শেষ প্রান্তর।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ ডিসেম্বর ২০১৬ ০২:০৭
চাকদহের সেই শ্মশান।—ফাইল চিত্র

চাকদহের সেই শ্মশান।—ফাইল চিত্র

দীর্ঘ প্রতিক্ষায় ছিল ‘শেষ প্রান্তর’। অপেক্ষা ছিল একটা বেওয়ারিশ লাসের। শুক্রবার শেষ হল সেই প্রতীক্ষা। মিলল দাবিদারহীন একটি মৃতদেহ। সেই মৃতদেহ দিয়ে চালু হল চাকদহ পুরসভার নব নির্মিত বৈদ্যুতিক চুল্লি— শেষ প্রান্তর।

৮ ডিসেম্বর আনন্দবাজার পত্রিকায় খবর প্রকাশের পরই মিলল সেই বেওয়ারিশ মৃতদেহ।

চাকদহ তো বটেই, কাছাকাছি অন্তত ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং কল্যাণী পুরসভা এলাকার মধ্যে কোথাও বৈদ্যুতিক চুল্লি নেই। বৈদ্যুতিক চুল্লিতে দাহ করতে গেলে একদিকে উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহর, অন্যদিকে জেলারই রানাঘাটে মৃতদেহ নিয়ে যেতে হত।

চাকদহ শহরের কাছাকাছি চাঁদুড়িয়া-১ এবং চাঁদুড়িয়া-২ গ্রাম পঞ্চায়েতে গঙ্গার ধারে দুটি কাঠের চুল্লি রয়েছে। তাতে একদিকে পরিবেশ যেমন দূষিত হচ্ছিল, তেমনই চরম অসুবিধা পোহাতে হচ্ছিল দাহ করতে আসা মানুষজনদের।

তিন বছর আগে বামেদের সরিয়ে পুরসভার দখল নেয় তৃণমূল। পুরপ্রধান দীপক চক্রবর্তী জানান, তাঁরা প্রথম থেকেই বৈদ্যুতিক চুল্লি চালু করার বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের ৩৫ লক্ষ টাকা পাওয়া যায়। সেই টাকাতেই বৈদ্যুতিক চুল্লি তৈরির কাজ শুরু হয়। তাতে পুরসভারও ১৫ লক্ষ টাকা খরচ হয়।

তিন মাস আগে শেষ হয় সেই চুল্লির কাজ। তার পরেও সেটি চালু করা যায়নি। কিন্তু কেন? পুর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিলেন, আসলে তাঁদের বৈদ্যুতিক চুল্লি পরীক্ষিত নয়। কোনও মৃতদেহ মেলেনি। সেই জন্য তা চালু করা যায়নি। বৈদ্যুতিক চুল্লি সরকারিভাবে চালু করার আগে ভাল করে পরীক্ষা করে দেখা দরকার।

কারণ, কেউ নিজের প্রিয় জনের মৃতদেহ পরীক্ষার জন্য দিতে স্বাভাবিকভাবেই রাজি নন কেউ। বিষয়টি স্পর্শকাতরও। সেই জন্য পুরসভা চেষ্টা চালায়, যাতে রানাঘাট মহকুমা হাসপাতাল বা কল্যাণী জেএনএম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে একটি দাবিদারহীন মৃতদেহ পাওয়া যায়। পুরপ্রধান দুটি হাসাপাতালেই চিঠি দিয়েছিলেন।

আনন্দবাজার পত্রিকায় এই খবর প্রকাশের পর জেএনএম মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ জানান, তাঁরা বেওয়ারিশ লাস দিতে পারবে। এই তথ্য জানার পর পুরকর্তৃপক্ষ মেডিক্যাল কলেজের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। মেডিক্যাল কলেজের সুপার সুবিকাশ বিশ্বাস জানান, একটি বেওয়ারিশ মৃতদেহ আমাদের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই ছিল। মহকুমা শাসকের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে তা চাকদহ পুরসভাকে দেওয়া হয়ছে।

শুক্রবার দুপুরে সেই মৃতদেহ দিয়েই চালু করা হয় শেষ প্রান্তরের চুল্লি। সফলভাবেই সেই মৃতদেহ দাহ হয়। পুরপ্রধান জানান, খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে ওই চুল্লি উদ্বোধন করা হবে।

Chakdaha Municipality Electric fireplace
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy