পারিবারিক বিবাদের চরম পরিণতি। মুর্শিদাবাদের লালবাগ থানার রনসাগর এলাকায় স্বামীকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল স্ত্রীর বিরুদ্ধে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের নাম আশুতোষ মণ্ডল। বয়স ৫৮ বছর। তাঁর খুনে স্ত্রী কমলা মণ্ডলের যোগ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ওই মহিলাকে আটক করেছে পুলিশ।
পরিযায়ী শ্রমিক ছিলেন আশুতোষ। মাস তিনেক আগে ভিন্রাজ্য থেকে বাড়ি ফেরেন। কিছু দিন আগে বাড়িতেই ছোট একটি মুদি দোকান করেছিলেন। ওই দোকনটি চালাতেন আশুতোষের স্ত্রী কমলা। দম্পতির দুই সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে বিভাস মণ্ডল ভিন্রাজ্যে শ্রমিকের কাজ করেন। ছোট ছেলে প্রকাশ মণ্ডল মানসিক ভারসাম্যহীন। প্রতিবেশীদের দাবি, অভাব-অনটন এবং ছোট ছেলের চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকত। শনিবার রাতেও প্রচণ্ড চিৎকার-চেঁচামেচি শোনা গিয়েছে তাঁদের। অভিযোগ, ঘর থেকে কোদাল তুলে এনে আশুতোষের মাথায় ঘা মারেন কমলা। অকুস্থলেই মৃত্যু হয় প্রৌঢ়ের।
আরও পড়ুন:
কিন্তু কমলা কেরলে থাকা বড় ছেলেকে ফোনে জানান, তাঁর ছোট ভাই প্রকাশ বাবাকে খুন করে ফেলেছে। আতঙ্কিত বিভাস পিন্টু মণ্ডল নামে এক প্রতিবেশীকে ফোন করে বাড়িতে খোঁজ নিতে বলেন। পিন্টু আশুতোষের বাড়িতে গিয়ে দেখেন মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন তিনি। পাশেই নির্লিপ্ত মুখে বসে রয়েছেন কমলা। পিন্টু অন্য প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে দেহ উদ্ধার করে লালবাগ মহকুমা হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
গ্রামবাসীদের দাবি, খুনের দায় এড়াতে কমলা তাঁর প্রতিবন্ধী সন্তানকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন। কমলাকে আটক করে থানায় নিয়ে গিয়েছে পুলিশ। তদন্ত চলছে।