Advertisement
E-Paper

মাঠে মেলা, ফুটবল কোথায়

বিশ্ব ফুটবল এসে দাঁড়িয়েছে বাঙালির আঙিনায়। অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপ নিয়ে উন্মাদনার শেষ নেই। স্কুলে-কলেজে ফুটবল বিলি করছে রাজ্য সরকার।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০১৭ ০০:২৬

বিশ্ব ফুটবল এসে দাঁড়িয়েছে বাঙালির আঙিনায়। অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপ নিয়ে উন্মাদনার শেষ নেই। স্কুলে-কলেজে ফুটবল বিলি করছে রাজ্য সরকার।

অথচ খেলার মাঠগুলোর কী অবস্থা তা নিয়ে কারও হুঁশ নেই। কোথাও খেলার বদলে মেলা, সভা, জলসা হচ্ছে। কোথাও আবার সন্ধে নামলেই মদের আসর বসছে।

মুর্শিদাবাদের শেখপাড়া ক্লাবের মাঠে শুধু এ পার নয়, ও পার বাংলার দলও খেলে গিয়েছে এক সময়ে। তা খেলার মাঠ থেকে মেলার মাঠ হয়ে গিয়েছে। ডোমকল শহরের প্রাণকেন্দ্রে স্পোর্টস কমপ্লেক্সের মাঠ। তারও একই দশা। এর উপরে আছে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ। রাষ্ট্রপতি, মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যপালের মতো কেউ এলেই হেলিপ্যাড করা হয় এই মাঠে। বছর তিনেক আগে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় ডোমকল এসেছিলেন। স্পোর্টস কমপ্লেক্সের মাঠ খুঁড়ে তিনটি হেলিপ্যাড করা হয়েছিল। তার পর বছর দেড়েক ধরে বেহাল পড়েছিল এই মাঠ। খুঁটি পোতার জন্য মাঠে গর্ত করায় প্রাতর্ভ্রমণকারীর পা মচকেছে। সন্ধেয় মদ খেয়ে বোতল ভেঙে রাখায় পরের দিন মাঠে খেলতে গিয়ে পা কাটার নজিরও আছে।

ডোমকল বিটি হাইস্কুলের মাঠের অবস্থাও খারাপ। মাঠের চারপাশ ধীরে-ধীরে বেদখল হচ্ছে। প্রশাসন নির্বিকার। ডোমকল মহকুমা ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদক ধীমান দাস বলছেন, “মাঠগুলির পরিকাঠামোর উন্নয়ন ও অপব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে একাধিক বার অনুরোধ করেছি। কিন্তু কেউ গা করেন না।” এ প্রসঙ্গে ডোমকলের মহকুমাশাসক তাহিরুজ্জামান বলেন, “যাঁরা অনুষ্ঠান করেন, তাঁদের মাঠকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার কথা। সেই দায়িত্ব কেউ পালন না করলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।”

নদিয়ার করিমপুর রেগুলেটেড মার্কেটের মাঠে কিছু দিন আগেও সন্ধেয় মদের আসর বসত। সকালে সে মাঠে অনুশীলনে গিয়ে ভাঙা বোতল পড়ে থাকতে দেখত খেলুড়েরা। এখন সেই সমস্যা দূর হলেও মাঠে বাস-লরি সারানো এবং ধোয়ার কাজ হয়। করিমপুর জগন্নাথ বিদ্যালয়ের মাঠের একাংশ জঙ্গলে ভরেছে। যমশেরপুর, ধোড়াদহ-সহ নদিয়ার একাধিক মাঠের অবস্থা করুণ। করিমপুর আঞ্চলিক ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদক সুজিত বিশ্বাস বলেন, “মাঠগুলির ঠিক মতো পরিচর্যা হয়না। খেলার পরিবর্তে সেগুলি অন্য কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। মাঠগুলি খেলার উপযুক্ত করলে ছেলেরা আরও মাঠমুখী হবে।’’ করিমপুর ১-এর বিডিও সুরজিৎ ঘোষের দাবি, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে এ বিষয়ে খোঁজ নেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তাদের মতে, এখন ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার চাপ বেড়েছে। তার উপরে বাড়ি বিপদ কম্পিউটার গেমস আর সোশ্যাল মিডিয়ার আড্ডা। খেলাধুলো করে কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই বললেই চলে। এই পরিস্থিতি ছেলেমেয়েদের মাঠে আনতে গেলে সবার আগে ভাল মাঠ চাই। নইলে বিশ্বকাপের উন্মাদনা যে দু’দিনে মিইয়ে যাবে, বলাই বাহুল্য।

Fair Football Field
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy