নিয়ন্ত্রণহীন চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সার। বিশেষত একটু প্রত্যন্ত এলাকায় দাম রীতিমতো চড়া দাম। এই নিয়ে চাষিদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। কিন্তু পরিস্থিতি সামাল দিতে কারও বিশেষ হেলদোল দেখা যাচ্ছে না।
চাষিদের দাবি, সারের বাজারের উপর প্রশাসনের কোনও নিয়ন্ত্রণ না থাকার কারণে মধ্যসত্ত্বভোগী এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী কালোবাজারি করছে। যদিও সার ব্যবসায়ীদের দাবি, লাভ (মার্জিন মানি) খুবই কম, সেই সঙ্গে পরিবহণ খরচও বাড়ছে। তার উপর সার সংস্থাগুলি অনেক ক্ষেত্রে সারের সঙ্গে আনুষঙ্গিক সামগ্রী নিয়ে বাধ্য করায় অনেক সময় ব্যবসায়ীরা বেশি দাম নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
নদিয়ার বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন চাপড়ায় বেশ কিছু দিন ধরেই চড়া দামে সার বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ। বিশেষ করে ইউরিয়া সারের দাম প্রায় আকাশছোঁয়া। চাষিদের অভিযোগ, এক বস্তা ইউরিয়া সারের দাম যেখানে প্রায় ২৬৬ টাকা, সেখানে ৪০০ থেকে সাড়ে ৪০০ টাকা দামে বস্তা কিনতে হচ্ছে। খুচরো দাম আরও বোশি। পাশাপাশি পটাশ, ১৫-১৫ সারও অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
লক্ষ্মীগাছার বাসিন্দা সাহিদুল্লা মণ্ডল বলেন, “আমি প্রায় আড়াই বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি। তার জন্য অনেক বেশি দামে ইউরিয়া কিনতে হয়েছে। পটাশের দামও এক থেকে দেড়শো টাকা বেশি দামে কিনতে হয়েছে।” তাঁর আক্ষেপ, “একে ফসলের দাম পাওয়া যাচ্ছে না। তার উপর যদি এ ভাবে চাষের খরচ বাড়তে থাকে, আমাদের পথে বসতে হবে।” হাঁটরার বাসিন্দা জানি আলম মোল্লাও বলছেন, “এত বেশি দামে যদি সার কিনতে হয়, চাষ করব কী করে? এমনিই তো খরচ অনুয়ায়ী দাম মেলে না। তার উপর এত বেশি দামে সার কিনে লাভ পাওয়া প্রায় অসম্ভব।”
বেশি দামে যে সার বিক্রি হচ্ছে সে কথা স্বীকার করেও এক সার ব্যবসায়ীর বক্তব্য, “সার সংস্থাগুলি যে ‘মার্জিন মানি’ দেয় তাতে লাভ খুবই কম থাকে। অনেক ক্ষেত্রে পরিবহণ খরচও পাওয়া যায় না। সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, সংস্থাগুলি সারের সঙ্গে কীটনাশক বা অন্য আনুষঙ্গিক সামগ্রীও নিতে বাধ্য করছে। তার ফলে গ্রামাঞ্চলের খুচরো ব্যবসায়ীরা বেশি দাম নিতে বাধ্য হচ্ছেন।” তাঁর দাবি, “অনেকে সারের ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। আমাদের জেলাতেই প্রায় একশো জন সারের ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছেন।”
নদিয়া ডিস্ট্রিক্ট এগ্রি-ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নকেশচন্দ্র দাস বলেন, “অনেক সময় আমাদের কানেও বেশি দামে সার বিক্রির খবর আসে। আমরা সমস্ত ব্যবসায়ীকে দাম বেশি না নেওয়ার জন্য সতর্ক করেছি। তার পরেও যদি অভিযোগ আসে, সেটা খতিয়ে দেখে সাংগঠনিক ভাবে কড়া পদক্ষেপ করা হয়।” চাপড়া ব্লক কৃষি আধিকারিক সৈকত বেরা বলেন, “চাষিরা অনেক সময়েই সারের দাম বেশি নেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু কেউই অভিযোগ করতে চান না। এমনকী দাম বেশি নেওয়ার প্রমাণ দেখাতে পারেন না। আমরাও নজর রাখি। আচমকা দোকানে হানা দিই। দাম বেশি নেওয়ার প্রমাণ পেলেই পদক্ষেপ করা হয়।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)