Advertisement
E-Paper

স্বস্তি ফিরলেও ভাবাচ্ছে শিলাবৃষ্টি

টানা দাবদাহের অবশেষে বৃষ্টি এল ঝেঁপে। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন চাষিরা। ৪০ ডিগ্রির নীচে নামছিলই না পারদ। টানা রোদ-গরমের ফলে পাট-সহ বিভিন্ন ফসলের দফারফা অবস্থা হয়ে উঠেছিল। এ দিকে বৃষ্টি নিরুদ্দেশ। কবে দেখা মিলবে, স্পষ্ট ভাবে জানা যাচ্ছিল না তা-ও। শেষে শনিবার সন্ধ্যার ঘণ্টা খানেকের বৃষ্টি ঠাণ্ডা করে দিল পরিবেশ।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ০৯ মে ২০১৬ ০১:২৭
নুইয়ে পড়েছে ফুলের খেত।— নিজস্ব চিত্র

নুইয়ে পড়েছে ফুলের খেত।— নিজস্ব চিত্র

টানা দাবদাহের অবশেষে বৃষ্টি এল ঝেঁপে। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন চাষিরা।

৪০ ডিগ্রির নীচে নামছিলই না পারদ। টানা রোদ-গরমের ফলে পাট-সহ বিভিন্ন ফসলের দফারফা অবস্থা হয়ে উঠেছিল। এ দিকে বৃষ্টি নিরুদ্দেশ। কবে দেখা মিলবে, স্পষ্ট ভাবে জানা যাচ্ছিল না তা-ও। শেষে শনিবার সন্ধ্যার ঘণ্টা খানেকের বৃষ্টি ঠাণ্ডা করে দিল পরিবেশ। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন চাষিরা। বৃষ্টির জেরে আবহাওয়া ঠান্ডা হওয়ায় টানা গরমের হাত থেকে কিছুটা হলেও রেহাই পেয়েছেন মানুষ।

নদিয়ার কিছু কিছু এলাকায় বৃষ্টির পাশাপাশি ঝড়ও হয়েছে। শিলাবৃষ্টি হয়েছে নাকাশিপাড়ায়। ফলে ওই সব এলাকায় উল্টে পাট ও ফুল চাষের ক্ষতি হয়েছে। আবার ঝড়ের জন্য জেলার বেশ কিছু এলাকায় কলা বাগান ও ফুল চাষেরও ক্ষতি হয়েছে। কৃষিবিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এমনিতেই রোদ-গরমের ফলে ফসলের অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। বিশেষ করে পাটের। তবে ঝড় ও শিলাবৃষ্টি যে দিকে হয়েছে, সেটুকু বাদ দিলে এই বৃষ্টি চাষিদের পক্ষে আশির্বাদ স্বরূপ।

বর্ধমানের সহ-কৃষিঅধিকর্তা পার্থ ঘোষের কথায়, “বৃষ্টির অভাবে পাটের বৃদ্ধি কমে গিয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টির ফলে পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক হবে। সবজি চাষেও উপকার হবে। বৃষ্টি না হওয়ায় চাষিরা আমন ধানের বীজতলা ফেলতে পারছিলেন না। এ বার তা পারবেন।”

শনিবার সন্ধ্যের পর থেকে নদিয়ার রানাঘাট থেকে শুরু করে শান্তিপুর, ধুবুলিয়া, কালীগঞ্জ নাকাশিপাড়া, কৃষ্ণনগর, কৃষ্ণগঞ্জ-সহ বেশ কিছু এলাকায় ঝড় বৃষ্টি হয়েছে।ধুবুলিয়া ও নাকাশিপাড়াতে শিলাবৃষ্টিও হয়েছে। শিলাবৃষ্টির জেরে মূলত পাট ও ফুল চাষের ক্ষতি হয়েছে।তাছাড়াও ঝড় বৃষ্টির জেরে কলাগাছ উপড়ে গিয়ে কলা বাগান ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। কালীগঞ্জ ব্লকের মাটিয়াড়ি ও হাটগাছা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ৪০টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিক রিপোর্ট পাওয়া গিয়েছে। তা ছাড়াও কলাচাষেও সামান্য ক্ষতি হয়েছে। অন্য দিকে নাকাশিপাড়া ব্লকের নাকাশিপাড়া ধর্মদা, বিল্বগ্রাম এলাকায় ঝড় বৃষ্টির পাশাপাশি শিলাবৃষ্টি হয়েছে। শিলাবৃষ্টির জেরে ওই এলাকায় পাট চাষ ক্ষতি হয়েছে। শিল পড়ার ফলে পাট গাছের মাথা ভেঙ্গে পড়েছে। ধুবুলিয়ার বনগ্রাম, চুপিপোতা, ডাবরকুলি, খাজুরি, তাতলা, রুকুনপুর-সহ আশপাশের বেশ কিছু গ্রামে শিলাবৃষ্টির জেরে পাট ও ফুল চাষের ক্ষতি হয়েছে। ধুবুলিয়ার বনগ্রামের পাটচাষি সঞ্জীব সরকার বলেন, “এ বারে আমি ১০ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। শনিবার সন্ধ্যায় শিলাবৃষ্টির জেরে পাট গাছের মাথা ভেঙে গিয়েছে।” ওই গ্রামের পাট চাষি দশরথ রাহা বলেন, “আমি বিঘা দশেক জমিতে পাট চাষ করেছিলাম এবং এক বিঘা জমিতে ফুল চাষ করেছিলাম। শনিবারের শিলাবৃষ্টি সব ফসলের দফারফা করেছে।” কৃষ্ণনগর সদরের মহকুমা শাসক মৈত্রেয়ী গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “ঝড় বৃষ্টির জেরে কালীগঞ্জে প্রায় ৪০টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তাছাড়াও কিছু কিছু এলাকায় কলা বাগান ও পাটচাষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বিডিওদের এবিষয়ে রিপোর্ট পাঠাতে বলা হয়েছে।”

ঝড় বৃষ্টির জেরে রানাঘাটের ধানতলা, নোকারি, পূর্ণনগর এলাকায় ফুল চাষের ক্ষতি হয়েছে। মূলত রজনীগন্ধা ফুলের সব থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে। রজনীগন্ধার স্টিক ভেঙ্গে গিয়েছে। গাছ মাটিতে নুইয়ে পড়েছে। নোকারি ফুল বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক জ্যোতির্ময় মজুমদার বললেন, “সোমবার অক্ষয় তৃতীয়া। তার আগে ফুলের ক্ষতি হয়ে গেল।”

নদিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি বানীকুমার রায় বলেন,“ঝড়-বৃষ্টিতে বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে কিছু এলাকায় শিলাবৃষ্টির জেরে পাট চাষের ক্ষতি হয়েছে।” নদিয়ার মত মুর্শিদাবাদের চাষিরাও বৃষ্টির জন্য আকাশের দিকে চেয়েছিলেন। শনিবার সন্ধ্যার পর মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি শুর হয়। ডোমকলের কুপিলার পাট ও সব্জি চাষি হুজ্জাতুল্লা বিশ্বাস বলেন, “বৃষ্টি কম হওয়ার জন্য পাটের বৃদ্ধি হচ্ছিল না। তা ছাড়া বেগুন, পটল-সহ অন্যান্য সবজিতেও পোকা দেখা দিচ্ছিল। শনিবারের বৃষ্টিতে আমাদের উপকার হবে।” মুর্শিদাবাদের রানিনগরের সহ কৃষিঅধিকর্তা মিঠুন সাহা বলেন, “এই বৃষ্টি ফসলের পক্ষে ভাল হবে।”

Hailstorm Flower Cultivation Flower damaged
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy