Advertisement
E-Paper

ফের অশান্ত বেলডাঙা! জাতীয় সড়ক অবরোধ করে চলছে বিক্ষোভ, ভাঙা হল রেলগেট, শনিবারও আক্রান্ত সংবাদমাধ্যম

বিহারে জেলার আরও এক পরিযায়ী শ্রমিককে মারধর করার অভিযোগ তুলে শনিবার বেলায় বেলডাঙার বড়ুয়া মোড় অবরোধ করেন কয়েকশো মানুষ। অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:১৪
বেলডাঙা স্টেশন লাগোয়া রেলগেটের কাছে ভাঙচুর বিক্ষোভকারীদের। শনিবার বেলায়।

বেলডাঙা স্টেশন লাগোয়া রেলগেটের কাছে ভাঙচুর বিক্ষোভকারীদের। শনিবার বেলায়। —নিজস্ব চিত্র।

ফের অশান্ত মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। বিহারে জেলার আরও এক পরিযায়ী শ্রমিককে মারধর করার অভিযোগ তুলে শনিবার বেলায় বেলডাঙার বড়ুয়া মোড় অবরোধ করেন কয়েকশো মানুষ। অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক। সেখানে খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত হন এবিপি আনন্দের সাংবাদিক পার্থপ্রতিম ঘোষ এবং তাঁর সঙ্গে থাকা চিত্রসাংবাদিক উজ্জ্বল ঘোষ। প্রসঙ্গত, শুক্রবার অশান্ত বেলডাঙায় খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন জ়ি ২৪ ঘণ্টার সাংবাদিক সোমা মাইতি এবং ওই সংবাদমাধ্যমেরই এক চিত্রসাংবাদিক। শুধু তা-ই নয়, ওই দিন আক্রান্ত হন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের অন্তত ১২ জন কর্মী।

শনিবার সকালে বিক্ষোভকারীরা বেলডাঙা স্টেশন লাগোয়া রেলগেটেও ভাঙচুর চালান। ভেঙে ফেলা হয় স্টেশনের কাছে থাকা রেলের সিগন্যাল। এর ফলে শনিবারও সেখানে ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। আপাতত কৃষ্ণনগর এবং লালগোলার মধ্যে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মিলিন্দ কে দেউস্কর জানিয়েছেন, বেলডাঙার পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে অতিরিক্ত বাহিনী (আরপিএফ, আরপিএসএফ) পাঠাচ্ছেন তাঁরা। নতুন করে উত্তেজনার খবর পেয়ে বেলডাঙায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল সংখ্যক পুলিশও।

বেলডাঙায় অশান্তির সূত্রপাত হয় শুক্রবার সকালে। বেলডাঙার সুজাপুর কুমারপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা আলাউদ্দিন শেখ (৩০) ঝাড়খণ্ডে ফেরিওয়ালার কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার সকালে গ্রামে তাঁর মৃত্যুর খবর এসে পৌঁছোয়। জানা যায়, ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রামবাসীদের দাবি, যুবককে পিটিয়ে খুন করার পর তাঁর দেহ ঘরে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার ওই পরিযায়ী শ্রমিকের দেহ গ্রামে ফেরে। তার পরেই দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারি এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়ে শুক্রবার পথে নামেন বিক্ষোভকারীরা। ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক এবং রেল অবরোধ করা হয়। শুক্রবার প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা ধরে অবরোধ চলে। চরম ভোগান্তির শিকার হন হাজার হাজার যাত্রী। ভাঙচুর চলে বেলডাঙার রাস্তায় থাকা ট্রাফিক কিয়স্কে। ভাঙা হয় পুলিশের গাড়ি। ছোড়া ইটের ঘায়ে অন্তত ১২ জন জখম হন।

শুক্রবার পরিস্থিতি সামাল দিতে রাস্তায় নেমেছিলেন মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক নিতিন সিংহানিয়া। তিনি জানান, জেলার পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য কন্ট্রোলরুম চালু করা হবে। ওই কন্ট্রোলরুমের মাধ্যমে জেলার পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হবে বলে জানান তিনি। উত্তেজিত জনতাকে প্ররোচনায় পা না-দেওয়ার অনুরোধ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি জানান, মৃতের পরিবারের পাশে রয়েছেন তাঁরা। যা ঘটেছে তা অনভিপ্রেত। এই ঘটনার বিচার হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। তার পরেও অবশ্য আর এক পরিযায়ী শ্রমিককে মারধর করার অভিযোগ তুলে শনিবার নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হল বেলডাঙায়।

Beldanga migrant worker
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy