মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারকে চাকরি দেওয়া হবে বলে জানাল জেলা প্রশাসন। শুধু তা-ই নয়, পরিবারকে শুক্রবার রাতের মধ্যেই আর্থিক সাহায্য করা হবে। মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক নিতিন সিংহানিয়া জানান, জেলার পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য কন্ট্রোলরুম চালু করা হবে। ২৪ ঘণ্টা ওই কন্ট্রোলরুমের মাধ্যমে জেলার পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হবে।
শুক্রবার সকালে বেলডাঙার বাসিন্দা আলাউদ্দিন শেখের দেহ ঝাড়খণ্ডে উদ্ধার হওয়ার খবর মেলে। সেখানে কাজে গিয়েছিলেন ওই পরিযায়ী শ্রমিক। পরিবারের দাবি, ‘নৃশংস ভাবে’ আলাউদ্দিনকে খুন করা হয়েছে। জানা যায়, ঝাড়খণ্ডে ফেরিওয়ালার কাজ করতেন আলাউদ্দিন। ভাড়াবাড়ি থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। তবে গ্রামবাসীদের অভিযোগ, যুবককে পিটিয়ে খুন করার পর তাঁর দেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, মুর্শিদাবাদের শ্রমিক হওয়ার কারণেই যুবকের এই পরিণতি।
আলাউদ্দিনের মৃত্যুর খবরে শোরগোল পড়ে যায় মুর্শিদাবাদে। শুক্রবার সকাল থেকেই উত্তেজনা ছড়ায় বেলডাঙায়। বিক্ষোভে পথে নামেন স্থানীয়েরা। ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক এবং রেল অবরোধ করা হয়। প্রায় সাড়ে ঘণ্টা অবরোধ চলে। অবরোধের জেরে উত্তর এবং দক্ষিণবঙ্গের সমস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। চরম ভোগান্তির শিকার হন হাজার হাজার যাত্রী। ভাঙচুর চলে বেলডাঙার রাস্তায় থাকা ট্রাফিক কিয়স্কে। ভাঙা হয় পুলিশের গাড়ি। ছোড়া ইটের ঘায়ে অন্তত ১২ জন জখম হন।
আরও পড়ুন:
পরিস্থিতি সামাল দিতে রাস্তায় নামেন মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক। উত্তেজিত জনতাকে প্ররোচনায় পা না-দেওয়ার অনুরোধ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, মৃতের পরিবারের পাশে রয়েছেন তাঁরা। যা ঘটেছে তা অনভিপ্রেত। এই ঘটনার বিচার হবে। তার পরেই জেলাশাসক নিতিন পরিবারকে চাকরি, অর্থ সাহায্যের কথা জানান। তিনি আরও জানান, লেবার কমিশনার, একজন ল’ অফিসার এবং একজন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদমর্যাদার আধিকারিককে নিয়ে বিশেষ দল গঠন করা হবে। সেই দলই পরিযায়ী শ্রমিকদের অবস্থার উপর নজরদারি চালাবে।
পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বেলডাঙার পরিযায়ী শ্রমিক হত্যায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য হেমন্তকে অনুরোধ করেছেন তিনি। জানা যাচ্ছে, ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী অভিষেককে আশ্বাস দিয়েছেন, এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে তাঁর পুলিশ। ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। দ্রুত অভিযুক্তদের ধরা হবে।
অন্য দিকে, মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর -১ ব্লকের ভিঙ্গল গ্রাম পঞ্চায়েতের বৈরাট গ্রামের মৃত পরিযায়ী শ্রমিক মোবারক আলির পরিবারের পাশে দাঁড়ল স্থানীয় ব্যবসায়ী মতিবুর রহমান। এক সময় তিনিও ছিলেন শ্রমিক। তাই কোনও শ্রমিকের দুর্দশার কথা শুনলেই সাহায্যের জন্য ছুটে যান। তেমনই মোবারকের আর্থিক অনটনের কথা জানতে পেরে এক লক্ষ টাকা অর্থ সাহায্য করলেন মতিবুর।