Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৮ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

ধনতেরসের বাণিজ্যে ঘুরে দাঁড়াল সোনা

বুধবার থেকেই সোনার দোকানে ধনতেরসের কেনাকাটার ভিড় দেখা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার ভিড়ের বহর দেখে মুখে চওড়া হাসি বেশির ভাগ স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের।

দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়
১৩ নভেম্বর ২০২০ ০১:৩৬
করোনা তো কী? সোনার দোকানে জমজমাট ধনতেরসের ভিড়। বৃহস্পতিবার কৃষ্ণনগরে। ছবি: সুদীপ ভট্টাচার্য

করোনা তো কী? সোনার দোকানে জমজমাট ধনতেরসের ভিড়। বৃহস্পতিবার কৃষ্ণনগরে। ছবি: সুদীপ ভট্টাচার্য

ছবিটা মাত্র দু’দিনেই বেমালুম বদলে গিয়েছে। ঝিমিয়ে পরে সোনার বাজার ধনতেরসের দু’দিন আগে থেকেই গা ঝাড়া দিয়ে উঠে বসেছে! করোনার আবহে এতটা অনেক স্বর্ণব্যবসায়ী প্রত্যাশা করেননি। নদিয়ার প্রায় সব এলাকায় ছোটবড় স্বর্ণব্যবসায়ীরা এখন একবাক্যে বলছেন, এ বছর কেনাকাটা এখনও পর্যন্ত বেশ ভালই হচ্ছে।

বুধবার থেকেই সোনার দোকানে ধনতেরসের কেনাকাটার ভিড় দেখা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার ভিড়ের বহর দেখে মুখে চওড়া হাসি বেশির ভাগ স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের। বস্তুত এক সপ্তাহ আগেও সোনার বাজারের বিবর্ণ চেহারা দেখে তাঁরা কেউ কল্পনা করতে পারেননি যো স্লগ ওভারে খেলা এমন ঘুরে যাবে!

মঙ্গলবার কলকাতায় মহাজনের ঘরে গিয়ে নদিয়ার স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুজিত কুমার দে দেখেছিলেন, প্রায় সব স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বিপুল গয়না তুলছেন নিজের দোকানের জন্য। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, টাকা দিয়েও পছন্দসই গয়না পর্যাপ্ত পরিমাণে পাননি অনেকে। সুজিতবাবুর কথায়, “সে দিনই মনে হয়েছিল, ধনতেরসে বিক্রি খারাপ হবে না। বুধবার থেকেই আমার অনুমান কাঁটায় কাঁটায় মিলে গেল। প্রচুর মানুষ সোনার দোকানে আসছেন এবং কমবেশি কিছু জিনিস কিনছেন। সত্যি কথা বলতে, করোনা-লকডাউন-মন্দা সত্ত্বেও যে এ রকম বিক্রি হবে তা আমরা আশা করিনি।”

Advertisement

জেলার বড় শহরগুলোতে স্থানীয় সোনার দোকানের পাশাপাশি ভিড় উপচে পড়ছে নামি ব্র্যান্ডের শো-রুমেও। তুলনামূলক ভাবে সেখানে ভিড় বেশি। এমনই একটি নামি সোনার দোকানের তরফে সাধন দাস বলেন, “কোভিড পরিস্থিতিতে এ বারে আদৌ ধনতেরসে ব্যবসা কী হবে এ নিয়ে আমাদের প্রবল সংশয় ছিল। কিন্তু ভালই বিক্রি হচ্ছে।” তাঁর কথায়, তিথির কারণে এ বার ধনতেরসের কেনাবেচা দু’দিন ধরে চলবে। বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশী শুরু হয়ে আজ শুক্রবার দিনভর থাকবে। তাই লোকে কেনাবেচার সময় বেশি পাচ্ছেন। বুধবার লোকাল ট্রেন চালু হওয়ার প্রভাবও বিক্রির উপর কিছুটা পড়েছে। সাধনবাবুর কথায়, “আমরা প্রতি গ্রাম সোনায় বেশ কিছুটা ছাড় দিচ্ছি। তার উপর সামনে বিয়ের সিজ়ন রয়েছে। অনেকে এই অফারের সুযোগ নিয়ে বিয়ের গয়না কিনছেন। অনেকে আবার সৌভাগ্যের সন্ধানে এই তিথিতে অল্প হলেও সোনা বা রূপো কিনে রাখছেন।”

প্রায় একই কথা বলেছেন চাকদহের সোনা ব্যবসায়ী পলাশ ভৌমিক। তাঁর কথায়, “লকডাউন থেকে সোনারূপোর ব্যবসা ধুঁকছিল। একে মানুষের হাতে টাকা নেই, তার উপর মারাত্মক চড়ে গিয়েছিল দাম। এক সময় গয়নার সোনার দর প্রতি দশ গ্রাম ৫৭০০০ টাকা ছুঁয়েছিল। তা বেশ কিছুটা নেমে আবার অনেকটা টাকা চড়ে যায় সপ্তাহ দু’য়েক আগে। কয়েকদিন হল আবার হাজার দেড়েক টাকা কমেছে সোনার দাম। ধনতেরসের মুখেই দামটা কিছুটা কমে যাওয়ায় অনেকে সোনা কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন।’’ তারই ফল এই বিক্রি।” এক থেকে দশ গ্রামের সোনার কয়েন থেকে শুরু করে গহনা বিকোচ্ছে। রূপোর সিঁদুর কৌটো, চাবির রিং, সোনার কানের দুল, লকেট, মঙ্গলসূত্র এমনকি সোনার টিপ পর্যন্ত রয়েছে কেনাবেচার তালিকায়।

নবদ্বীপের স্বর্ণ-রৌপ্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপালচাঁদ মল্লিক বলেন, “একটা শ্রেণীর মানুষের হাতে অর্থ আছে। সামনে বিয়ের সময় আছে, দামটাও কমেছে প্রায় হাজার দেড়েক। মজুরি ছাড়ের একটা আকর্ষণ আছে। অনেকে এই সময়ে সোনা কিনে রাখছেন ফের যদি দাম চড়ে যায় সেই আশঙ্কায়। সবকিছু মিলেমিশে ধনতেরসের বাজার চাঙ্গা হয়েছে। ”

অখিল ভারতীয় স্বর্ণকার সঙ্ঘের রাজ্যের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং দক্ষিণ কৃষ্ণনগর স্বর্ণশিল্পী ওয়েলফেয়ার সমিতির সম্পাদক অক্ষয় ভট্টাচার্য অবশ্য বলেন, “ধনতেরসের কেনাবেচা সীমাবদ্ধ এক শ্রেণীর অর্থবান মানুষের মধ্যে। তা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ভাবে আশাবাদী হওয়ার কারণ নেই।’’

আরও পড়ুন

Advertisement