Advertisement
E-Paper

‘জিনা হারাম করে দেব’, ব্লক অফিসে হুমকি নেতার

হন্তদন্ত হয়ে বিডিও অফিসে ঢুকেই টেবিল চাপড়াতে শুরু করেছিলেন তিনি। তার পর, মিনিট দশেকের শাসানি, গালমন্দের পরে ফিরে যাওয়ার আগে ছুঁড়ে দেন— ‘‘প্রাণের মায়া নেই, বেশি বাড়াবাড়ি আমি পছন্দ করি না কিন্তু!’’

সুপ্রকাশ মণ্ডল

শেষ আপডেট: ২৪ মার্চ ২০১৭ ০২:০১
রাজীব দালাল।

রাজীব দালাল।

হন্তদন্ত হয়ে বিডিও অফিসে ঢুকেই টেবিল চাপড়াতে শুরু করেছিলেন তিনি। তার পর, মিনিট দশেকের শাসানি, গালমন্দের পরে ফিরে যাওয়ার আগে ছুঁড়ে দেন— ‘‘প্রাণের মায়া নেই, বেশি বাড়াবাড়ি আমি পছন্দ করি না কিন্তু!’’

হরিণঘাটা পুরসভার চেয়ারম্যান রাজীব দালাল, সরকারি কর্তাকে খুনের হুমকি দেওয়াই নয়, বুধবার সকালে, হরিণঘাটার বিডিও অফিসে তাঁর ঝোড়ো প্রবেশ এবং মিনিট দশেকের মধ্যেই প্রস্থানের পরে সেই দফতরে কাজের পরিবেশটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। বৃহস্পতিবার, তারই প্রতিবাদে বিডিও অফিসের কর্মীরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে কাজ করেছেন।

দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় ফিরে, দলীয় সভা থেকে সরকারি বৈঠক— মুখ্যমন্ত্রী বার বারই সতর্ক করেছেন, ‘ব্যবহারটা ভাল করুন।’ দলের নেতা-কর্মীদের বলছেন, ‘‘কোনওরকম গুন্ডামি, ভেঙে দেব, গুঁড়িয়ে দেব’র রাজনীতি, হুমকি, বরদাস্ত করব না আমি।’’ সে কথা যে মান্যতা পাচ্ছে না— কোথাও বিডিওকে হুমকি, কোথাও নকলে বাধা দেওয়ায় শিক্ষককে বাঁশ পেটা কিংবা পুলিশ কর্মীর কলার ধরে শাসানি, তৃণমূলের নেতা কর্মীদের দৌরাত্ম্য চলছেই। ভাল ব্যবহার দূরের কথা, দলীয় নেতাদের দাদাগিরির ঠেলায় দলের মুখ যে ক্রমেই কালো হয়ে উঠছে, মেনে নিয়েছেন দলের শীর্ষ নেতারাও। হরিণঘাটার ঘটনা সেই তালিকায় নতুন সংযোজন মাত্র।

Advertisement

তবে, রাজীব বলছেন, ‘‘এমন কিছু ঘটেছে বলে জানা না নেই আমার।’’

বুধবার, হরিণঘাটা পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর বীনা সূত্রধরের মেয়ে, কলেজ পড়ুয়া স্বর্ণালী ওবিসি শংসাপত্রের জন্য পুরসভায় আবেদন করেছিলেন। ওই সেলের অতিরিক্ত ইন্সপেক্টর জগদীশবাবু দেখেন, স্বর্ণালীর নথিতে কিছু সমস্যা রয়েছে। বুধবার স্বর্ণালীকে ডেকে তিনি জানান, শুনানির দিন যেন বাবাকে নিয়ে আসেন স্বর্ণালী।

কাউন্সিলরের কন্যা, অপমানিত হয়েছিলেন তাতেই। জগদীশবাবুর সামনে থেকেই রাজীবকে ফোন করেন তিনি। তার পরেই রাজীবের প্রবেশ। জগদীশবাবু জানান, আধ ঘণ্টার মধ্যেই জনা কয়েক পারিষদ নিয়ে ওই দফতরে ঢোকেন রাজীব। জগদীশবাবু বিডিওকে জানান, রাজীব এসেই অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করেন। শাসিয়ে যান, ‘আমার পুরসভার কেউ এলে যেন দাঁড়াতে না হয়।’ তার পর ওই খুনের হুমকি।

কিশোরবাবু বলেন, ‘‘যা বলার, ঊর্দ্ধতন আধিকারিকদের বলেছি।’’ বৃহস্পতিবার কল্যাণীর এসডিও অফিসে পুরসভার পুরপ্রধানদের নিয়ে বৈঠক করেন জেলাশাসক সুমিত গুপ্ত। স্বর্ণালীর অভিযোগ, তাঁকে তিন দিন ধরে ঘুরিয়েছেন জগদীশবাবু। কলেজ কামাই হওয়ায় অসুবিধায় পড়ে তাই রাজীববাবুকে ফোন করে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘‘আমি রাজীববাবুকে ফোন করেছিলাম। তবে, ফোনে উনি কী বলেছেন জানি না।’’

Rajiv Dalal TMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy