E-Paper

ফেরিঘাটের অনিয়ম প্রকাশ্যে

ডোমকল ব্লকের নদিয়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে ১৬টি ফেরিঘাট চালু আছে বর্তমানে। যে ঘাটগুলিতে বর্ষায় নৌকোয় পারাপার হয়।

সুজাউদ্দিন বিশ্বাস

শেষ আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬ ০৬:১৯
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

টানা পাঁচ বছর ধরে টানাপড়েন চলছিল ডোমকলের ১৯টি ফেরিঘাট নিয়ে। অভিযোগ, পারাপার এবং অর্থ সংগ্রহ চললেও সরকারি কোষাগারে এতদিন কোনও টাকা জমা পড়েনি সেই ঘাটগুলি থেকে। কিন্তু এ বার নতুন করে নিলামে ঘাটের দর উঠেছে ২ কোটি ২৭ লক্ষ টাকা। যা দেখে চক্ষু চড়কগাছ প্রশাসনের। এতদিন সরকারি ওই ঘাটগুলির ইজারার অর্থ নিয়ে কী ভাবে লুটপাট চলেছে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিরোধীদের দাবি, তৃণমূল নেতাদের একাংশের বেআইনি আয়ের অন্যতম উৎস ছিল এই ঘাটগুলি। অভিযোগ, সেই জন্য নানা কৌশল করে এতদিন আটকে রাখা হয়েছিল নিলাম প্রক্রিয়া। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, একাধিক বার আদালতে মামলা করে ঘাটের নিলাম আটকে রাখা হয়েছিল। এমনকি, এ বারও মামলা করা হয়েছিল এক তৃণমূল নেতার পক্ষ থেকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই মামলা ধোপে টেকেনি।

ডোমকল ব্লকের নদিয়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে ১৬টি ফেরিঘাট চালু আছে বর্তমানে। যে ঘাটগুলিতে বর্ষায় নৌকোয় পারাপার হয়। শুখা মরসুমে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে চলে পারাপার। যানবাহন চলাচলের জন্য সেখান থেকে পয়সা সংগ্রহ করা হয় যাত্রীদের কাছ থেকে। দীর্ঘদিন ধরে ডোমকল এলাকার পাটনিরা ওই কাজ করে আসছিলেন। কিন্তু তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরে একটু একটু করে বদলাতে শুরু করে ঘাটের চেহারা। সেখানে নাক গলাতে শুরু করেন তৃণমূল নেতাদের একাংশ। প্রথম দিকে সামান্য অর্থ দিয়ে কৌশলে নিলাম করে নেওয়া হত বলে অভিযোগ। ব্লক প্রশাসনের তরফে জানা গিয়েছে, এর আগে ২৭ লক্ষ টাকাও বছরের নিলাম হয়নি এই ঘাটের। অথচ, এ বার সেই ঘাট অনলাইনে দরপত্র হওয়ায় কোটি কোটি টাকা নিলামের দর উঠেছে।

ডোমকলের বিধায়ক, সিপিএমের মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘‘এই ঘাটগুলির অনিয়ম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আমরা লড়াই করেছি। আমি বিধায়ক হওয়ার পরে প্রশাসনকে দফায় দফায় বলেছিলাম বিষয়টি সমাধানের জন্য। ভাল লাগছে সরকারি কোষাগারে অবশেষে মোটা অঙ্কের টাকা জমা পড়ায়।’’ এতদিন ঘাটের টাকা নিয়ে যে দুর্নীতি হয়েছে, তা নিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে ব্লক প্রশাসন। ব্লক প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন ঘাট নিয়ে বিড়ম্বনায চলছিল। একাধিক বার মামলা করে নিলাম আটকে রাখা হয়েছিল।’’ প্রশাসনের অভিযোগের পরেই জালিয়াতিতে মূল অভিযুক্ত এক তৃণমূল নেতা পলাতক। এ নিয়ে জেলার প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি অপূর্ব সরকারকে ফোন করা হলে সেটি বেজে যায়।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

ferry ghat

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy