Advertisement
E-Paper

চিকিৎসার টাকা ভাঙিয়েই হোটেল ভাড়া, পেটের ভাত

চিকিৎসার জন্য তামিলনাড়ুর ভেলোরে গিয়ে আটকে পড়েছেন করিমপুরের জনা দশেক বাসিন্দা।

কল্লোল প্রামাণিক

শেষ আপডেট: ০১ মে ২০২০ ০৮:২০
নিজস্ব চিত্র

নিজস্ব চিত্র

চিকিৎসার জন্য তামিলনাড়ুর ভেলোরে গিয়ে আটকে পড়েছেন করিমপুরের জনা দশেক বাসিন্দা। প্রায় ছয় সপ্তাহ হোটেলে বন্দি তাঁরা।
কেউ গিয়েছিলেন ফেব্রুয়ারির শেষে। কেউ বা মার্চের মাঝামাঝি। তাঁরা জানান, উন্নত চিকিৎসা পরিষেবার জন্য তামিলনাড়ুর ভেলোর সিএমসিতে গিয়েছিলেন। কাউকে চিকিৎসক দেখেছেন। কারও চিকিৎসা হয়নি। এর মধ্যে লকডাউন চালু হওয়ায় সিএমসি কর্তৃপক্ষ ইমার্জেন্সি ছাড়া রোগী দেখা বন্ধ করে দিয়েছে। লকডাউন চলায় তাঁদের কেউই বাড়ি ফিরতে পারছেন না।
করিমপুরের গড়াইমারি থেকে চিকিৎসা করাতে যাওয়া গীতা পত্তনদার বলেন, ‘‘চিকিৎসা তো হয়নি, উল্টে চিকিৎসার জন্য আনা টাকা ভাঙিয়ে ঘরভাড়া গুনতে হচ্ছে। পেটের ভাত জোগাড় করতে হচ্ছে। জিনিসপত্রের দাম আকাশ ছোঁয়া। কবে বাড়ি ফিরব বুঝতে পারছি না।’’
ভেলোরে চিকিৎসা করতে গিয়েছেন করিমপুরের গোয়াস গ্রামের বাসিন্দা মনোজ সরকার। তিনি জানান, পেটের সংক্রমণ হওয়ায় পয়লা মার্চ স্ত্রী ও সাড়ে তিন বছরের ছেলেকে নিয়ে ভেলোরে গিয়েছেন। ২১ মার্চ বাড়ি ফেরার জন্য ট্রেনের টিকিট কাটার চেষ্টা করেন। সফল হননি। তার পর থেকে সব ধরনের পরিবহণ বন্ধ। এখন সঙ্গের টাকা ফুরিয়ে গিয়েছে। লকডাউনের প্রথম সাত দিন তামিলনাড়ু সরকার দিনে তিন বার খাবার দিচ্ছিল। এখন দিনে মাত্র এক বার দেওয়া হয়। তাও কখন জুটবে ঠিক নেই। দক্ষিণ ভারতীয় খাবার খেতেও সমস্যা হচ্ছে। প্রতি দিন হোটেলের ভাড়া গুনতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘করিমপুরের নয় জন ছাড়া তেহট্ট মহকুমার ১৯ জন ও আশপাশের হোটেলে মোট ৭০-৮০ জন বাঙালি আটকে আছেন।
হোটেলে বন্দি করিমপুরের বাসিন্দা মামনি বিশ্বাস। তিনি জানান, স্বামী কাতারে থাকেন। কোমরের ব্যথার চিকিৎসার জন্য ছোট ছেলেকে রেখে কয়েক দিনের জন্য ভেলোরে গিয়েছিলেন। চিকিৎসকও দেখেছেন। কিন্তু বাড়ি ফিরতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘‘বাড়িতে সাত বছরের ছেলে কান্নাকাটি করছে। তাকে কখনও ঠাকুরদা-ঠাকুরমা কিংবা দাদু-দিদার কাছে রাখা হলেও থাকতে চাইছে না।” একই সমস্যায় পড়েছেন তাঁর সঙ্গী গোয়াস গ্রামের অনিতা মজুমদারও। তিনিও ছেলেমেয়েদের বাড়িতে রেখে ভেলোরে গিয়েছেন। অনিতা বলেন, “বাচ্চা মেয়েটা রান্না করছে। দুই ভাই-বোনে খাচ্ছে। অনেক দিন হয়ে গেল। ওরা আর পারছে না। যে ভাবেই হোক এখন বাড়ি যাওয়ার ব্যবস্থা হলে খুব ভাল হয়।”

Coronavirus Lockdown
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy