Advertisement
E-Paper

কন্যার আইআইটি স্বপ্নপূরণে কর্মস্থল বদলান ইঞ্জিনিয়ার বাবা-মা! প্রথম হয়ে তাঁদেরই কৃতিত্ব দিলেন আরোহী

একমাত্র কন্যার আইআইটিতে পড়ার স্বপ্নপূরণ করতে চেনা শহরের স্বাচ্ছন্দ্য ছেড়েছিলেন বাবা-মা। অনির্দিষ্ট কালের জন্য চলে গিয়েছিলেন পুণে থেকে ১০০০ কিলোমিটার দূরের এক ‘অচেনা’ শহরে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০২ জুন ২০২৬ ১৬:০১

ছবি: সংগৃহীত।

বইয়ে মুখ গুঁজে দিনরাত পড়াশোনা, মেধা? না কি লক্ষ্যের পিছনে পড়ে থাকার ক্ষমতা? আইআইটিতে পড়ার যোগ্যতা অর্জনের পরীক্ষায় সফল হওয়ার চাবিকাঠি কোনটি? ১৯ বছরের আরোহী দেশপাণ্ডে, যিনি এ বছর জেইই অ্যাডভান্সড পরীক্ষায় মেয়েদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন, মনে করেন, পরীক্ষার্থী নিরাপদ বোধ করছেন কি না, সেটাও খুব জরুরি। তাঁর ক্ষেত্রে সেই নিরাপদ আশ্রয় হয়েছিলেন তাঁর বাবা-মা। তাঁরা না থাকলে হয়তো এই সাফল্য আসত না, মত জেইই অ্যাডভান্সড কৃতীর।

পুণের বাসিন্দা আরোহী। বাবা এবং মা দু’জনেই ইঞ্জিনিয়ার। তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রের কর্মী বাবা প্রসাদ দেশপাণ্ডে। মা অমিতা দেশপাণ্ডে পরিবেশ বিষয়ক প্রযুক্তিবিদ। দু’জনেই নিজেদের চাকরির সঙ্গে বোঝাপড়া করে, চেনা শহরের স্বাচ্ছন্দ্য ছেড়ে অনির্দিষ্ট কালের জন্য চলে গিয়েছিলেন কোটায়। পুণে থেকে ১০০০ কিলোমিটার দূরের এক ‘অচেনা’ শহরে। কারণ, একমাত্র কন্যাকে আইআইটিতে পড়ানোর স্বপ্নপূরণ করতে সেখানে থাকতেই হত। প্রসাদ বা অমিতা, কেউই চাননি, সেই লড়াই মেয়ে একা লড়ুক।

এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরোহী জানিয়েছেন, তাঁর বাবা এবং মা দু’জনেই কোটা থেকে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ করেছেন বছরের পর বছর। সব কিছুর থেকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন মেয়ের পাশে থাকাকেই। আর এই বিষয়টিই আরোহীকে মানসিক শান্তি আর স্বস্তি দিয়েছিল। আরোহীর মতে, ‘‘জেইই অ্যাডভান্সডের প্রস্তুতি মানে শুধু পড়াশোনা নয়। এই সফরটা মানসিক ভাবে সুস্থ থাকার, ভাল থাকার এবং শান্তিতে থাকারও। রাস্তাটা কঠিন বলেই বোধ হয়, সফরে টিকে থাকার জন্য আবেগকে বশে রাখা জরুরি। কারণ, ওই পথে এগোতে গেলে বহু ব্যর্থতা, খারাপ লাগা এবং হতাশার মুখোমুখি হতে হবে। আমার তো প্র্যাকটিস টেস্টে বহু বার খারাপ নম্বর এসেছে। খারাপ লেগেছে। হাল ছাড়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কিন্তু সেই সব আবেগ সামলানোর নিরাপদ আশ্রয়ও পাশেই পেয়েছি। মা-বাবা ছিল বলে রাস্তা অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে।’’

আরোহী নবম শ্রেণিতে ওঠার পরই তাঁকে নিয়ে বাবা-মা চলে যান কোটায়। সেখানে এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলতে থাকে আরোহীর আইআইটি-র প্রবেশিকা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ। আরোহী বলেছেন, ‘‘কোটায় আমার সহপাঠীরা অনেকেই একা থেকে পড়াশোনা করেন। আমি তাঁদের লড়াইকে অত্যন্ত সম্মান করি। কিন্তু আমি নিজে হয়তো একা এই লড়াইটা লড়তে পারতাম না। মা-বাবা ছিল বলেই আমি সব কিছু ভুলে নিশ্চিন্তে নিজের সম্পূর্ণ মনোযোগ পড়াশোনায় দিতে পেরেছি।’’

তবে আরোহী জানিয়েছেন, তিনি বা তাঁর বাবা-মা, কেউই ভাবেননি তিনি গোটা দেশে মেয়েদের মধ্যে প্রথম হবেন। তাঁরা একটিই বিষয় ভেবেছেন, আরোহী যেন পরীক্ষায় নিজের সেরাটা দিতে পারে। আরোহীও তাই ভেবেছেন, তাঁর কথায়, ‘‘প্রথম হওয়া তো দূর দেশের এত পরীক্ষার্থীর মধ্যে র‌্যাঙ্ক করবও ভাবিনি। আমি চেয়েছিলাম সেরাটা দিতে আর সেটা করার পরে আমার যাই রেজ়াল্ট হোক, আমি তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকবো। তবে এখন আমি খুশি।’’

আইআইটিতে ভর্তির পরীক্ষায় দেশজুড়ে এ বার মেয়েদের জয়জয়কার। ১০ হাজারের বেশি ছাত্রী এ বছর জেইই অ্যাডভান্সড পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। আর তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নম্বর পেয়েছেন আরোহী। জেইই অ্যাডভান্সডে দেশের মহিলা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন তিনি। এর আগে ‘জেইই মেন’-এও ৯৯.৯৯৬ শতাংশ নম্বর পেয়েছিলেন আরোহী। দ্বাদশের পরীক্ষায় ৯৭.৮ শতাংশ এবং দশমের পরীক্ষায় ৯৬.৭ শতাংশ নম্বর পেয়েছিলেন এই কৃতী ছাত্রী।

JEE Advanced 2026 IIT
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy