জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা। কিন্তু পরীক্ষা-ভীতির চেয়েও কিশোরীমনের কোণে ছিল অন্য আতঙ্ক। বাবা বলেছেন, ‘‘মাধ্যমিক পরীক্ষা মিটলেই তোর বিয়ে।’’
এখনই বিয়ে করতে হবে? আর পড়াশোনার করতে পারব না? এমনই সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতে পরীক্ষাকেন্দ্রের বদলে গঙ্গার ধারে উপস্থিত হয়েছিল ছাত্রী। এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনায় শোরগোল মুর্শিদাবাদের ফরাক্কায়।
ফরাক্কা ব্লকের নিউ ফরাক্কা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের পরীক্ষাকেন্দ্র পড়েছে নয়নসুখ এলাকার স্বর্ণময়ী বালিকা বিদ্যালয়ে। নিউ ফরাক্কা উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের এক পরীক্ষার্থীর বাড়ি মালদহের বৈষ্ণবনগর থানা এলাকায়। মঙ্গলবার সহপাঠীদের মতো বছর ষোলোর মেয়েটিও দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষা দিতে বেরিয়েছিল। কিন্তু, সকলের নজর এড়িয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রের বদলে সে হাজির হয় গঙ্গার ঘাটে। ঘাটে অনেকের চোখের সামনে গঙ্গায় ঝাঁপ দেয় কিশোরী। কয়েক জনের তৎপরতায় মেয়েটিকে উদ্ধার করা যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোন ফরাক্কা থানার আইসি সুজিত পাল।
কেন এই কাজ করতে গেলে? সকলের প্রশ্নে কান্নায় ভেঙে পড়ে ওই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন পুলিশ আধিকারিকেরা। খানিক সামলে উঠে ছাত্রীটি জানায়, মাধ্যমিক পরীক্ষা মিটে গেলেই তার বিয়ে দিয়ে দেবেন বাবা-মা। কিন্তু সে এখন বিয়ে করতে চায় না। বাড়িতে কেউ তার কথা শুনতে চাইছেন না। তাই নিজেকে শেষ করে দিতে চায় সে।আবার কান্নার দমক বাড়ে।
আরও পড়ুন:
পুলিশ কিশোরীটিকে আশ্বস্ত করে। আইসি বলেন, ‘‘নাবালিকা অবস্থায় কারও বিয়ে হওয়া আইনত অপরাধ। তেমন হলে পুলিশই মেয়েটির পড়াশোনার দায়িত্ব নেবে।’’ এর পর মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর বাবা-মাকে ফোন করে পুরো বিষয়টি জানিয়েছে পুলিশ। দম্পতিকে থানায় তলব করা হয়েছিল।
অভয় পেয়ে শান্ত হয়েছে মেয়েটি। পুলিশই গাড়ি করে তাকে সময়মতো পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দিয়েছিল। ইংরেজি পরীক্ষা শেষ করে বাড়ি ফিরেছে সে। জেলা পুলিশ-প্রশাসন জানিয়েছে, এমন অভিযোগ পেলে দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে।