আঁচ আগেই মিলেছিল। সাংসদ মহুয়া মৈত্র আসতে পারেন বলে খবর থাকায় কৃষ্ণনগর আদালতে ডিম-টমেটো হাতে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিলেন বিজেপির মহিলা কর্মীরা। মহুয়া আসেননি। উল্টে বিষয়টি জেনে ফেসবুকে আইনি পদক্ষেপের
হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।
বুধবার সরাসরি তাঁঁর গায়ে ডিম মারতে না পারলেও বেশ কিছু বিজেপি কর্মীকে ঘণ্টা চারেক লাগাতার সেই চেষ্টা করতে দেখা গেল। পরে অবশ্য পুলিশ নিরাপদেই কৃষ্ণনগরের সাংসদকে পলাশির সেই বাড়ি থেকে বার করে গাড়িতে তুলে দেয়। তিনি জাতীয় সড়ক ধরে মুর্শিদাবাদের দিকে চলে যান।
তবে এ দিনের এই ঘটনায় শুধু বিজেপির বিরুদ্ধে নয়, স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব ও পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মহুয়া।
তৃণমূলের একটি সূত্রের দাবি, এ দিন পলাশির ওই কর্মিসভায় কালীগঞ্জের একাধিক প্রভাবশালী স্থানীয় নেতাকে দেখা যায়নি। সেই প্রসঙ্গ টেনেই কালীগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভানেত্রী শেফালি খাতুনের স্বামী তথা তৃণমূল নেতা জিয়াউর রহমান ওরফে রিঙ্কুর নাম উল্লেখ করেন মহুয়া। তাঁর দাবি, রিঙ্কু আগেই তাঁকে সম্ভাব্য গোলমালের কথা জানিয়েছিলেন।
সমাজমাধ্যমে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আমি চাইলে বেরিয়ে যেতে পারতাম। কিন্তু আমি দলীয় পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে থাকব।”
সেই সঙ্গে, স্ত্রী শেফালির জন্য রিঙ্কুর টিকিট চাওয়ার প্রসঙ্গ টেনেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মহুয়া। তাঁর কটাক্ষ, “যারা এত দিন নেচে বেড়াত, স্ত্রীকে টিকিট দেওয়ার কথা বলত, তারা আজ কোথায়? আগে থেকেই জানত, বিজেপি এটা করবে। কর্মীরা এদের চিনে রাখুন, আমরাও চিনে রাখব।” জিয়াউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
ঘটনাচক্রে, জাতীয় সড়কের ধারে যাঁর বাড়িতে এই কর্মিসভা ডাকা হয়েছিল, কালীগঞ্জের সেই তৃণমূল বিধায়ক আলিফা আহমেদও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না বলে দলীয় সূত্রের। এ বিষয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে ফোন করা হলেও তিনি তা ধরেননি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)