লালগোলা স্টেশন সংলগ্ন ৬৮টি নির্মাণ ভাঙল রেল দফতর। অন্য দিকে, ভগবানগোলা রেল কলোনির উচ্ছেদ নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে স্থগিতাদেশ বহাল থাকল।
সোমবার পূর্ব নির্ধারিত সময়মতো রেলের তরফে লালগোলা স্টেশন সংলগ্ন রেলের জমিতে থাকা ৬৮টি বাড়ি ও দোকান ভাঙা হয়। বাসিন্দা এবং ব্যবসায়ীরা অনেকে আগেই নির্মাণ সরিয়ে নিয়েছিলেন। লালগোলা রেল কলোনির বহু পরিবারের ঠিকানা এখন আত্মীয়ের বাড়ি। কেউ আবার ত্রিপল টাঙিয়ে খোলা আকাশের নীচে রাত কাটাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রায় ৩৫ বছরের বেশি সময় ওই এলাকায় থাকছিলেন তাঁরা। রেল উচ্ছেদ করায় এখন তাঁরা কোথায় যাবেন, সেই চিন্তা তাঁদের। উচ্ছেদ প্রসঙ্গে রেলের স্থানীয় এক আধিকারিক বলেন, “আগে দেওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।”
ভগবানগোলা স্টেশন সংলগ্ন রেল কলোনি ভাঙনপাড়ার বাসিন্দাদের আরও এক মাস সময় দিয়েছে হাইকোর্ট। তাতে স্বস্তি ফিরেছে বাসিন্দাদের। সোমবার কলকাতা হাই কোর্টে মামলার শুনানিতে বিচারপতি পার্থসারথি সেন রেলের কাছে উচ্ছেদ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছেন। কী কাজে রেল ওই জমি ব্যবহার করবে, কেন হঠাৎ উচ্ছেদের প্রয়োজন পড়ল, এই ধরনের একাধিক প্রশ্নের উত্তর রেলের কাছে জানতে চেয়েছেন বিচারপতি।
মামলাকারীদের আইনজীবী কিরণ শেখ মঙ্গলবার বলেন, “মেমো নম্বরহীন বিজ্ঞপ্তি রেল কেন দিয়েছে? ভাঙনপাড়ার বাসিন্দাদের পুনর্বাসন দিয়ে তারপর উচ্ছেদ করতে হবে। এই সংক্রান্ত একটি মামলা বামেদের তরফে করা হয়েছিল। সেই মামলার শুনানিতে বিচারপতি রেলের কাছে দু’ সপ্তাহের মধ্যে বিভিন্ন উত্তর জানতে চেয়েছেন। পরবর্তী শুনানি হবে ২০ জুলাই, তবে হাই কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত ভগবানগোলা রেল কলোনিতে উচ্ছেদ করতে পারবে না রেল।”
ভাঙনপাড়ায় রেলের জমিতে প্রায় সাড়ে চারশো পরিবার বাস করে। সেখানে বহু দোকানও রয়েছে। সেখানে উচ্ছেদ হলে কয়েক হাজার মানুষ বিপদে পড়বেন। তাই সেখানে পুনর্বাসনের দাবি উঠেছে। তবে এই নিয়ে এ দিন রেলের তরফে কেউ কিছু বলতে চাননি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)