রাজ্য তো বটেই, এক সময় দেশের অন্যতম সেরা হাসপাতালগুলির তালিকায় তার নাম ছিল। কারণ, শুধুমাত্র হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল রাজ্যে আর নেই।
কিন্তু, দালালচক্রে পড়ে কল্যাণী গাঁধী মেমোরিয়াল হাসপাতালের সেই গৌরব আজ আর নেই। আগে এই হাসপাতালে ভর্তির জন্য রোগী নিয়ে এসে রাতভর হাসপাতালের বাইরে অপেক্ষা করতেন মানুষজন। সেই হাসপাতালে এখন সারি সারি শয্যা খালি পড়ে থাকে। রোগী ভর্তি হয় না।
সেই হাসপাতালের হৃত গৌরব ফেরাতে শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হল স্থানীয় পুরসভা তথা তৃণমূল নেতৃত্ব। সমাধানের প্রস্তাবে সবুজ সঙ্কেত মিলেছে মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, হাসপাতালটিকে কল্যাণী জেএনএম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিয়ন্ত্রণে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়। সে প্রস্তাবে মুখ্যমন্ত্রী সম্মতিও দিয়েছেন। তার ফলে হাসপাতালের হাল ফেরানো যে অনেকটাই সম্ভব হবে, তা মানছেন সব পক্ষই।
গাঁধী মেমোরিয়াল রাজ্যের একমাত্র কার্ডিও থোরাসিক হাসপাতাল। কম খরচে বক্ষ এবং হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য ১৯৬৭ সালে এই হাসপাতালটি তৈরি হয়েছিল। ২০১২ সাল পর্যন্ত এখানে ওপেন হার্ট এবং বাইপাস অস্ত্রোপচারও হয়েছে। হাসপাতালের শয্যার সংখ্যা সাড়ে তিনশো। এক সময় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হৃদ রোগে আক্রান্তদের এই হাসপাতালে ‘রেফার’ করা হত। এখন বড়জোর প্রতিদিন গড়ে ৫০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। বাকি শয্যা খালি পড়ে থাকে।
হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, মাস কয়েক আগে অবস্থা আরও খারাপ ছিল। হাসপাতালের উন্নতির জন্য মুখ্যমন্ত্রী সিনে অ্যাঞ্জিওগ্রাফি যন্ত্র কেনার জন্য আট কোটি টাকা মঞ্জুর করেছিলেন। হৃদযন্ত্রে জটিল অস্ত্রপচার থেকে শুরু করে রোগ নির্ণয়ের জন্য জরুরী এই যন্ত্র দীর্ঘদিন ফেলে রাখা হয়েছিল। অভিযোগ, কিছু চিকিৎসকের বাধায় তা চালু করা যায়নি। তার ফলে রোগীদের বেসরকারি হাসপাতালে রেফার করা হচ্ছিল।
হাসপাতালটি গয়েশপুর পুরসভা এলাকার অর্ন্তগত। পুরসভার পুরপ্রধান তৃণমূলের মরণ দে ওই হাসাপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতিরও সদস্য। তিনি বলেন, ‘‘ওই হাসপাতালে গেলেই হতাশ হতে হয়। অনেকবার হাসপাতালের টিকিটে বেসরকারি নার্সিংহোমের নাম লেখা দেখেছি।’’ দালাল চক্রের দৌরাত্মে যে হাসপাতালটির এমন দুরবস্থা, তা মানছেন তিনিও। সপ্তাহ দু’য়েক আগে প্রশাসনিক বৈঠকে কল্যাণীতে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই বৈঠকে মরণবাবু গাঁধী হাসপাতালের দুরবস্থার কথা তুলে ধরেন। তিনি প্রস্তাব দেন, এই হাসপাতালটিকে কল্যাণী মেডিক্যাল কলেজের অধীনে নিয়ে আসা হোক। মরণবাবুর যুক্তি ছিল, এর ফলে নজরদারির যেমন সুবিধা হবে, তেমনই দুটি হাসপাতালই একে অপরের পরিকাঠামো ব্যবহার করতে পারবে। মেডিক্যাল কলেজের প্রশাসনিক কাঠামো অনেক উন্নত। ফলে নিয়মিত আর কড়া নজরদারিতেই ফল মিলবে।
মরণবাবুর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে জানান, প্রস্তাবটি ভাল। তিনি স্বাস্থ্য সচিবকে প্রস্তাবটি দ্রুত কার্যকর করতে বলেছেন। গাঁধী মেমোরিয়ালের সুপার বীরেন্দ্র প্রসাদ শাহু বলেন, ‘‘বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এটা হলে হাসপাতালের পক্ষে ভাল হবে।'’’