‘স্যাঁটা’ মন্তব্যের জন্য শক্তিপুর থানার পুলিশ হাজিরার নোটিস দিয়ে গিয়েছিল আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি)-র বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে। শুক্রবার, ৩ জুলাই ছিল হাজিরার দিন। কিন্তু থানায় গেলেন না মুর্শিদাবাদের নওদার বিধায়ক। উল্টে ওসি-কে খোঁচা দিয়ে হুঁশিয়ারি দিলেন, পরে এক দিন সদলবলে যাবেন।
থানায় হাজিরার দিন বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠকে ডেকে শক্তিপুর থানার ওসির বিরুদ্ধে একাধিক মন্তব্য করেছেন হুমায়ুন। পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, গত ৩০ জুন থেকে শক্তিপুর থানার ওসি তাঁর দলীয় কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে ভয় দেখাচ্ছেন। এজেইউপি চেয়ারম্যানের কথায়, ‘‘শক্তিপুর থানার ওসি-র যে আচরণ... ৩০ তারিখ থেকে সে হুমায়ুন কবীরের বাপ হয়েছে। নিজেকে জাহির করে বেড়াচ্ছে। বিভিন্ন বাড়িতে যাচ্ছে, গালিগালাজ করছে। কেউ বললে বলছে, ‘আমি হুমায়ুন কবীরের বাপ!’ তো সেই বাপের সঙ্গে পরে দেখা করতে যাব। কত জনকে নিয়ে যাব সেটা জেলা পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়ে যাব।’’
হুমায়ুন আরও জানিয়েছেন, জেলার পুলিশ সুপারকে চিঠি দিয়ে পরবর্তীকালে ওসি-র সঙ্গে দেখা করতে যাবেন। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, তাঁর ডাকে গোটা জেলা থেকে কত মানুষ একত্রিত হতে পারে, তা প্রশাসনকে আবার দেখিয়ে দেবেন। তাঁর মন্তব্য, ‘‘আমার বাবা ২০০৭ সালে মারা গিয়েছে। এখন নতুন বাপ হয়েছে। সময় বার করে নতুন বাপের সঙ্গে দেখা করতে যাব।’’
উল্লেখ্য, কিছু দিন আগে রেজিনগর এবং শক্তিপুরে রাজনৈতিক সভায় হুমায়ুন উস্কানিমূলক মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ। তাঁর মন্তব্য নিয়ে বিধানসভাতেও চর্চা হয়। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ককে ‘সাবধান’ করে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রেজিনগর এবং শক্তিপুর, দুই থানাতেই এফআইআর রুজু হয়। থানায় তলব করে নোটিস পাঠানো হয় হুমায়ুনকে। শুক্রবার শক্তিপুর থানায় এবং রবিবার রেজিনগর থানায় হাজিরার জন্য বলা হয়েছে। তবে হুমায়ুনের হাজিরা এড়ানো এবং ওসি-র সম্পর্কে মন্তব্যের প্রেক্ষিতে পুলিশের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।