প্রেমিকের সঙ্গে ভিডিয়ো কলে কথা বলতে বলতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করলেন এক তরুণী। পরিবারের অভিযোগ, ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি দেখিয়ে তাঁকে দীর্ঘ দিন ধরে ব্ল্যাকমেল করছিলেন ভিন্রাজ্যে কর্মরত প্রেমিক। ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জ থানা এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে খবর, মৃতার নাম প্রিয়া দাস। কল্যাণীর একটি আইটিআই কলেজের ছাত্রী ছিলেন তিনি। প্রিয়া কৃষ্ণগঞ্জের বাসিন্দা। সেখানকারই এক যুবকের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক ছিল বলে জানিয়েছে পরিবার। বর্তমানে ওই যুবক বেঙ্গালুরুতে। সম্পর্কের টানাপড়েনের মাঝে প্রেমিকার কিছু ছবি নিয়ে তিনি ব্ল্যাকমেল করছিলেন বলে অভিযোগ। সমাজমাধ্যমে ওই সমস্ত ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছিলেন তিনি।
রবিবার সকালে দীর্ঘ ক্ষণ ডাকাডাকির পরেও প্রিয়া ঘরের দরজা না-খোলায় সন্দেহ হয় পরিবারের সদস্যদের। দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকেন তাঁরা। দেখেন, সিলিং ফ্যান থেকে মেয়ের দেহ ঝুলছে। পাশে বিছানায় পড়ে ছিল মোবাইল। কৃষ্ণগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তরুণীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন:
মৃতার ভাই প্রেম দাসের দাবি, ‘‘দিদি যখন গলায় দড়ি দিচ্ছিল, তখনও ওই ছেলেটি ভিডিয়ো কলে ছিল। গোটা ঘটনাটি ও মোবাইলে দেখেছে। দিদির কিছু ছবি দেখিয়ে ওকে ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছিল। সেই চাপ সহ্য করতে না পেরেই ও এই চরম পথ বেছে নিয়েছে।’’ প্রিয়ার বাবা রাজু দাস বলেন, ‘‘সকালে দরজা ভেঙে ঢুকে দেখি মেয়ের দেহ ঝুলছে। আমরা কৃষ্ণগঞ্জ থানায় ওই ছেলেটির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানাচ্ছি। ওর কঠোর শাস্তি চাই।’’
কৃষ্ণগঞ্জ থানার পুলিশ দেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্ত হচ্ছে জেলা হাসপাতালে। ইতিমধ্যে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে মৃতার মোবাইল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।