E-Paper

হাতে এক দিন, ভোট দিতে পারা নিয়েই সংশয়ে নবাব পরিবার

রবিবার সৈয়দ আমির মির্জা বলেন, ‘‘আমার জন্ম ১৯৩৭ সালে। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর থেকে ভোট দিচ্ছি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৪৫
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

স্বাধীনতার আগে তাঁর জন্ম। বহু বছর ধরে নবাবী ভাতা পেয়ে আসছেন মুর্শিদাবাদের নবাব পরিবারের প্রবীণতম সদস্য সৈয়দ আমির মির্জা। এসআইআরের জেরে ভোটার তালিকা থেকে নাম মুছে যাওয়ায় সেই তিনিই ট্রাইবুনালের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁর বৃদ্ধা স্ত্রী কাহেকা শান আরা বেগম এবং বড় ছেলে সৈয়দ সাব্বির আলি মির্জারও একই অবস্থা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক, কাল মঙ্গলবারের মধ্যে ট্রাইবুনাল ভোটার তালিকায় নাম তোলার ছাড়পত্র দিলে তিন জন ভোট দিতে পারবেন। কার্যত বিনিদ্র কাটছে নবাব পরিবারের।

রবিবার সৈয়দ আমির মির্জা বলেন, ‘‘আমার জন্ম ১৯৩৭ সালে। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর থেকে ভোট দিচ্ছি। অথচ, এ বার কী গোলমাল হল? সমস্ত নথি জমা দেওয়ার পরেও আমাদের তিন জনের নাম মুছে দেওয়া হয়েছে। কবে নাম উঠবে তালিকায়, এ বার ভোট দিতে পারব কি না, তা বুঝতে পারছি না।’’ তাঁর স্ত্রী কটাক্ষের সুরে বলেন, ‘‘এক সময় এখানকার অনেক বাসিন্দা নথিপত্র নিতে নবাব পরিবারের কাছে ছুটে আসতেন। এমনই পরিহাস, আজ আমাদেরই নাম মুছে দেওয়া হল তালিকা থেকে।’’

লালগোলার দেওয়ানসরাইয়ের ৭৮ নম্বর বুথের ৪১৯ জন ভোটারের নাম মুছে গিয়েছে। এঁদের মধ্যে ২০ জনের বয়স ৬০-৭০ বছরের মধ্যে। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য আয়েষা সুলতানার নাম ভোটার তালিকায় উঠলেও তাঁর স্বামী মহম্মদ রহমতুল্লার নাম বাদ গিয়েছে। রহমতুল্লার দাবি, ‘‘আমার বাবার ছ’জন সন্তান রয়েছে বলে জানিয়ে নোটিস পেয়েছিলাম। মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড, পাসপোর্ট-সহ যাবতীয় নথি দেওয়ার পরেও নাম নেই। ট্রাইবুনালের রায়ের দিকে তাকিয়ে। জানি না ভোট দিতে পারব কি না?’’

জেলার প্রায় সাড়ে চার লক্ষ ভোটার ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন। তাঁদের মধ্যে কত জন এ বার ভোট দিতে পারবেন, সেই জল্পনা রয়েছে। এ নিয়ে বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন, ‘‘আমাদের বিচারবিভাগের প্রতি আস্থা রয়েছে। ভোটের পরেও তো ট্রাইবুনালের কাজ চলবে।’’ বিজেপি নেতা শাখারভ সরকার বলেন, ‘‘বিষয়টি ট্রাইবুনালে যাওয়ার দায় তৃণমূলেরই।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Berhampore

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy