এসআইআর আবহে বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ যখন অজস্র, ঠিক তখনই সামনে এল উল্টো ছবি। একই নতুন ভোটারের তালিকায় নাম উঠল দু’বার। তালিকা খতিয়ে দেখা গিয়েছে, পর পর দু’টি ক্রমিক সংখ্যায় রয়েছে একই ব্যক্তির নাম। হুবহু মিলছে বাড়ির নম্বর, বাবার নাম, বিধানসভা কেন্দ্র ও বুথ নম্বর। পার্থক্য কেবল এপিক নম্বরে। রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের এই ঘটনায় ফের প্রশ্নের মুখে পড়েছে নির্বাচন প্রক্রিয়ার ভোটার তালিকার কাজ।
৯০ নম্বর রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের ৯০ নম্বর বুথের বাসিন্দা বছর উনিশের নতুন ভোটার সৌগত পাল। এই বছরই প্রথম তাঁর নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী, ৭৫৯ নম্বরে রয়েছে তাঁর নাম। সেখানে তাঁর বাবার নাম গৌতম পাল। আবার, ওই একই তালিকায় ৭৬০ নম্বরেও রয়েছে সৌগতের নাম। সেখানেও বাবার নামের জায়গায় গৌতম পাল। শুধু তা-ই নয়, দুই ক্ষেত্রেই বাড়ির নম্বরও এক। ঘটনাটি সামনে আসতেই এলাকায় শুরু হয়েছে চর্চা। অনেকেই ব্যঙ্গ করে প্রশ্ন তুলছেন— “তা হলে কি একই ব্যক্তি এ বার দু’বার ভোট দেবেন?”
যদিও বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বুথের বিএলও কুন্তল বিশ্বাস। তাঁর কথায়, “সৌগত প্রথমে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য আবেদন করেছিলেন। পরে ফের একই আবেদন করেন। দু’বার আবেদন করার ফলেই এই সমস্যা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, পরবর্তী সংশোধনে একটি নাম বাদ যাবে।”
সৌগতের বক্তব্য, “এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর আগে আমি এক বার আবেদন করেছিলাম। তার কোনও উত্তর পাইনি। পরে বিষয়টি জানিয়ে আবার নতুন করে আবেদন করি। তালিকা প্রকাশের পর দেখি, আমার নাম দু’বার উঠে গিয়েছে।”
প্রশ্ন উঠছে, একই ব্যক্তি দু’বার আবেদন করলেও তা যাচাইয়ের সময় কী ভাবে ধরা পড়ল না? চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে যে পর্যায়ে আবেদনগুলি খতিয়ে দেখা হয়, সেই প্রক্রিয়া কতটা নির্ভুল, তা নিয়েও স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
শুক্রবার বিষয়টি নিয়ে রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী আধিকারিক দেবজিৎ বসু বলেন, “পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যখন তালিকা তৈরির কাজ হয়েছিল, তখন আমি দায়িত্বে ছিলাম না।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)