বছর ফুরোলেও স্কুলের কচিকাঁচাদের নতুন পোশাক তুলে দেওয়া যায়নি। অনেক তাড়া দেওয়ার পর সেই পোশাক যখন স্কুলের পড়ুয়াদের কাছে পৌঁছয়, ততদিনে পার হয়ে গিয়েছে পার একটি শিক্ষাবর্ষ। ফলে, এক বছর আগের মাপের পোশাক তখন গায়ে ছোট হয়ে গিয়েছে।
গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে এ বছর শিক্ষা নিয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ। তার ফলও পেল হাতেনাতে। গতবারের মতো এ বার আর স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে পোশাকের বরাত দেওয়া হয়নি। বদলে বরাত দেওয়া হয়েছিল সরকারি সংস্থা মঞ্জুষাকে। বরাত দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যেই নদিয়া জেলার সিংহভাগ স্কুলে পোশাক পৌঁছে দিল তারা। তবে যে সব স্বনির্ভর গোষ্ঠী গতবার ভাল কাজ করেছিল, তাদের অবশ্য কিছু স্কুলের পড়ুয়াদের বরাত দেওয়া হয়েছে। মঞ্জুষার তৈরির পোশাক বেশ উন্নত বলেই মনে করছেন শিক্ষকরা। নদিয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান রমাপ্রসাদ রায় বলছেন, “আমরা ভাবতেই পারিনি যে এত অল্প সময়ে মঞ্জুষা পোশাক তুলে দিতে পারবে। পোশাকের গুণগত মানও বেশ উন্নত।”
সর্বশিক্ষা মিশন থেকে পোশাক তৈরির জন্য পড়ুয়া পিছু চারশো টাকা করে দেওয়া হয়। সেই টাকায় পড়ুয়াদের দু’টি করে পোশাক দেওয়ার কথা। যদিও সংসদের অনুরোধ মেনে সেই টাকার মধ্যেই পড়ুয়াদের টাই এবং বেল্টও দিয়েছে মঞ্জুষা। নদিয়া জেলায় ২৬২৬টি প্রাথমিক স্কুল আছে। যার মধ্যে জেলার অনেক স্কুলেই জানুয়ারির মধ্যে গত বছরেরই পোশাক দিয়ে উঠতে পারেনি দায়িত্বে থাকা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি। সব মিলিয়ে প্রায় ২ লক্ষ ১১ হাজার ৮০০ পড়ুয়ার পোশাক তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়। আর ৫০ হাজারের মতো পড়ুয়ার পোশাক বানানোর দায়িত্ব দেওয়া হয় স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে। মঞ্জুষার চেয়ারম্যান অজয় দে বলেন, “প্রথম থেকেই আমাদের লক্ষ মান বজায় রেখে পোশাকগুলো যত দ্রুত সম্ভব পড়ুয়াদের হাতে দ্রুত তুলে দেওয়া।’’