Advertisement
E-Paper

ভোটের বাজারে বীজ বিতরণ বন্ধ, বিপাকে চাষিরা

ভোটের কোপে পাটচাষিরা।নিবার্চনী আচরণ-বিধির জারি হয়ে গিয়েছে কবেই। তাই সরকারি পাট বীজ বিতরণ বন্ধ। আর সেই সুযোগেই পাট বীজ নিয়ে শুরু হয়েছে ফাটকাবাজারি। দেড়শো টাকার বীজ কিনতে হচ্ছে ছ’শো থেকে সাড়ে ছ’শো টাকায়। অভিযোগ, ব্যবসায়ীরা সুযোগ বুঝে পাট বীজ নিয়ে যা খুশি করছে। যদিও তাঁদের পাল্টা অভিযোগ, চড়া দামে বীজ কিনতে হচ্ছে তাঁদেরও। ফলে ওই দামে বিক্রি করা ছাড়া উপায় নেই।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ মার্চ ২০১৬ ০১:৪৪

ভোটের কোপে পাটচাষিরা।

নিবার্চনী আচরণ-বিধির জারি হয়ে গিয়েছে কবেই। তাই সরকারি পাট বীজ বিতরণ বন্ধ। আর সেই সুযোগেই পাট বীজ নিয়ে শুরু হয়েছে ফাটকাবাজারি। দেড়শো টাকার বীজ কিনতে হচ্ছে ছ’শো থেকে সাড়ে ছ’শো টাকায়। অভিযোগ, ব্যবসায়ীরা সুযোগ বুঝে পাট বীজ নিয়ে যা খুশি করছে। যদিও তাঁদের পাল্টা অভিযোগ, চড়া দামে বীজ কিনতে হচ্ছে তাঁদেরও। ফলে ওই দামে বিক্রি করা ছাড়া উপায় নেই।

কৃষি দফতর সূত্রে জানানো হচ্ছে, একে সরকারি বীজ বিতরণ বন্ধ, তা ছাড়া বছরের শেষ সময়ে পাটের দামটাও চড়া ছিল। ফলে চাহিদার তুলনায় বাজারে পাট বীজ কম থাকায় এমনটা হচ্ছে। দফতরের কর্তাদের দাবি, বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। চাষিরাও এসে এ নিয়ে অভিযোগ করছেন। আর সেটা পাওয়ার পরই নড়ে বসেছে তারা। দফতর সূত্রে খবর, বিভিন্ন দোকানে গিয়ে চালান সংগ্রহ করে দেখে নেওয়া হচ্ছে ব্যবসায়ীরা কী দামে কিনেছে ও কী দামে বিক্রি করছে। বীজের গুনমান যাচাই করতে নমুনাও সংগ্রহ করা হচ্ছে।

আবহাওয়ার খামখেয়ালিতে নষ্ট হয়েছে গম। তার পর পাট বীজ নিয়ে শুরু হয়েছে কালোবাজারি। চাষিদের দাবি, গত বছর যে বীজের দাম ছিল ১৪০-১৬০ টাকা, এ বার সেটাই ৬২০-৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর গোটা বিষয়টি নিয়ে চুপ প্রশাসন থেকে রাজনৈতিক দলগুলি। ডোমকলের কুপিলা গ্রামে চাষি জালালুদ্দিন বিশ্বাসের অভিযোগ, ‘‘একে গম নষ্ট হয়ে বিপাকে। চাষের খরচটাও ঘরে আসেনি, তার উপর পাট বীজ নিয়ে এমনটা হলে মারা পড়বে চাষি। এই সময় চাষিদের দিকে কেউ নজরও দিচ্ছে না। সকলেই নিবার্চন-উৎসব নিয়ে মেতে আছে।’’

পাট চাষি গোলাম মোস্তাফার কথায়, ‘‘নিবার্চন নিয়ে প্রশাসন থেকে নেতা সকলেই ব্যস্ত। এই বছর শেষ সময়ে পাটের দাম ভাল ছিল। ফলে সব দেখে ঝোপ বুঝে কোপ মারছে কোম্পানি ও ব্যবসায়ীরা।’’ যদিও ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, তাঁরা চড়া দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, ফলে ওই দামে বিক্রি করা ছাড়া উপায় নেই। এমনকী কিছু ব্যবসায়ী ওই দাম নিয়ে প্রতিবাদ করায় তাঁদেরকে বীজ দেওয়াও হয়নি বলে অভিযোগ।

ডোমকলের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী অমলশঙ্কর নন্দী বলেন, ‘‘আমি গত বছর যে বীজ ১৪০-১৬০ টাকায় বাজারে বিক্রি করেছি, কিনতে গিয়ে দেখি এ বার তার ছাপা মূল্য ৬০০ টাকা লেখা। আমাদের কাছে দাম চাওয়া হচ্ছে ৩৫০ টাকা। ওই ঘটনার প্রতিবাদ করায় আমাকে বীজ দেওয়া হয়নি। ফলে অনেক চাষি বীজ কিনতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছে।’’ অনেক চাষি আবার বেশি দামের জন্য বীজ না কিনে ফিরে যাচ্ছেন। জলঙ্গির চাষি সমিরুদ্দিন মণ্ডলের কথায়, ‘‘গত বছরের থেকে দাম কিছুটা বেশি হবে ভেবে শুনেইছিলাম। তাই ২০০ টাকা নিয়ে বাজারে গিয়েছিলাম। পকেটে বাড়তি ১০০ টাকা ছিল কিন্ত তাতেও হল না।’’ জেলা কৃষি দফতরের এক কর্তার কথায়, ‘‘নির্বাচন কমিশনের তরফে নির্দেশ পেলেই বীজ বিতরন শুরু হবে।’’ কিন্তু তত দিনে আদৌ কতটা সুরাহা হবে চাষিদের, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

seeds farmers assemblyelection
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy