পাশের গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে স্ত্রীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে এবং যে কোনও দিন স্ত্রী তাঁর সঙ্গে পালাতে পারেন, এই সন্দেহ এবং আশঙ্কায় তাঁর গলা কেটে খুন করলেন স্বামী। শনিবার চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর থানার জীবননগর এলাকায়। যুবতীর দেহ উদ্ধারের পর থেকে স্বামীর খোঁজ মেলেনি।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতার নাম জেসমিনা বিবি। শনিবার সকালে বাড়ি থেকে যুবতীর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জেসমিনার দেহ উদ্ধারের পর থেকে তাঁর স্বামী তাসিরুদ্দিন শেখের খোঁজ মেলেনি। মনে করা হচ্ছে, তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন। তাঁর খোঁজ চলছে।
জেসমিনা এবং তাসিরুদ্দিনের কয়েক বছরের দাম্পত্য। তাঁদের এক পুত্র এবং এক কন্যা রয়েছে। জীবননগর গ্রামে ওই দম্পতির সঙ্গে তাঁদের ছেলে রবিউল শেখ থাকে। শনিবার সকালে অনেক বেলা পর্যন্ত মা ঘুম থেকে না ওঠায় পুত্র রবিউল মাকে ডাকার জন্য দোতলার ঘরে যায়। সেই সময় খাটের উপর মায়ের রক্তাক্ত দেহ দেখতে পায় সে। শুরু হয় শোরগোল। ছুটে যান প্রতিবেশীরা। খবর পেয়ে ওই বাড়িতে যায় পুলিশ। প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর তাঁদের সন্দেহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে যুবতীর গলায় আঘাত করা হয়েছে।
মৃতার পরিবার সূত্রে খবর, শুক্রবার রাতে স্বামী তাসিরুদ্দিনের সঙ্গে ঘুমোতে গিয়েছিলেন জেসমিনা। রাতে দম্পতির মধ্যে কোনও একটি বিষয় নিয়ে গন্ডগোল হয়েছিল। মৃতার প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, গতকাল রাতে ঝড়বৃষ্টি হচ্ছিল। তাই দু’জনের ঝগড়া-অশান্তির তাঁদের কানে যায়নি। রাতেই তাসিরুদ্দিন স্ত্রীকে খুন করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
মৃতের পরিবারের এক সদস্য জানান, সম্প্রতি জেসমিনার সঙ্গে পাঁচপীরতলা গ্রামের এক যুবকের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তা জানাজানি হতে স্বামী-স্ত্রীর কলহ শুরু হয়েছিল। সম্প্রতি তাসিরুদ্দিন জানতে পেরেছিলেন পাঁচপীরতলার ওই যুবকের সঙ্গে জেসমিনা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেম। শুক্রবার রাতে সম্ভবত এ নিয়ে দু’জনের ঝগড়া হয়। সেখান থেকেই এই খুন।
বহরমপুর থানার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যে তারা গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। খুনের মামলাও রুজু হয়েছে। যদিও অভিযুক্তের সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি।