Advertisement
E-Paper

ভয় পদ হারানো নেতাদের নিয়েই

নতুন নেতৃত্বের দাপটে পদ হারানো, আড়ালে চলে যাওয়া বা গুরুত্ব হারানো নেতাদের নিয়েই এখন জেলা-তৃণমূলের অন্দরে ভয়।

সুস্মিত হালদার  ও সম্রাট চন্দ

শেষ আপডেট: ২০ ডিসেম্বর ২০২০ ২৩:৫৬
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

ভাতজাংলাই কি শেষ? নাকি এর পিছনে আছে নম্বা লাইন? আরও অনেকেই কি ভিতরে-ভিতরে জমতে থাকা ক্ষোভের জেরে শাসক দল ছাড়বেন? তাঁরা কি বিজেপিতে যাবেন, না যাবেন না?

শুভেন্দু অধিকারী-সহ বেশ কয়েক জন বিজেপিতে যোগদানের পর থেকে এই প্রশ্নটাই কিন্তু ঘুরে ফিরে উঠতে শুরু করেছে নদিয়ায় তৃণমূলের অন্দরে। বিশেষ করে যেখানে দলের এখনকার জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে পুরনো বা প্রবীণ নেতাদের দূরত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে সেখানে এমন প্রশ্ন ওঠাটা স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন অনেকেই। নতুন নেতৃত্বের দাপটে পদ হারানো, আড়ালে চলে যাওয়া বা গুরুত্ব হারানো নেতাদের নিয়েই এখন জেলা-তৃণমূলের অন্দরে ভয়। পাছে পুষে রাখা ক্ষোভ তাঁদের বিরোধী-দলমুখো না করে।

জেলায় যে সব নেতার ডানা ছাঁটা হয়েছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন গৌরীশঙ্কর দত্ত, শঙ্কর সিংহ, কল্লোল খাঁ, পুণ্ডরীকাক্ষ সাহা, অজয় দে-র মতো অনেকে। নাকাশিপাড়ার বিধায়ক কল্লোল খাঁ যেমন বলছেন, “আমরা যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরনো টিম তাঁরা যদি এক সঙ্গে থাকি তা হলে সব ঠিক থাকবে। কারণ মানুষের সঙ্গে আমাদের নিবিড় যোগ আছে। এর বাইরে কে কোথায় কী করল সে দিকে আমরা খেয়ালও রাখি না।”

Advertisement

আবার অজয় দে-র বক্তব্য, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে আমি দলে এসেছিলাম। অন্য কোনও প্রশ্ন ওঠার কারণ নেই। কারণ, নেত্রী তো সেই একজনই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’’ তেহট্টের বিধায়ক তথা প্রাক্তন জেলা সভাপতি গৌরীশঙ্কর দত্তের কথায়, “ক্ষোভ তো আছেই। তবে আমাদের বিশ্বাস, আমাদের নেত্রী সব কিছুর সমাধান করে দেবেন. তাই দল ছাড়ার প্রশ্নই ওঠে না।” কারামন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস বর্তমানে জেলা কমিটির চেয়ারম্যান। তাঁর কথায়, “এ সবের কোনও প্রভাব ভোটে পড়বে না। কারণ, মানুষও শুধু আমাদের নেত্রীকেই জানে।”

কিন্তু দলের অনেকেই এখনও পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছেন না। তাঁরা জানাচ্ছেন, জেলায় মুকুল রায়ের প্রবল প্রভাব থাকলেও তাঁর দল ছাড়ার সময়েও এতটা চাপ তৈরি হয়নি। কারণ, তখন দলের অন্দরে এত ফাটল দেখা দেয়নি। এ বারে দলের অন্দরের ফাটলের ফায়দা বিজেপি একশো শতাংশ নেওয়ার চেষ্টা করবে।

নদিয়ায় ইতিমধ্যে একাধিক জায়গায় শুভেন্দু অধিকারীর নামে ফ্লেক্স-পোস্টার পড়েছে। নদিয়ায় দলের প্রাক্তন পর্যবেক্ষক রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেওয়ার পর তাঁর সমর্থনেও ফ্লেক্স, পোস্টার পড়েছে। শুভেন্দুর অনুগামীদের ফেসবুক পেজও তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি কয়েক জায়গায় দলের সম্মেলনে অনুপস্থিত থেকেছেন দলীয় নেতাদের অনেককেই। এ সব কিছু বুমেরাং হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে তৃণমূলের অনেকের মধ্যে। যদিও নদিয়ায় ‘বঞ্চিত’ নেতাদের কেউ গত কয়েক দিনের মধ্যে বিজেপিতে যোগ দেননি বলে কিছুটা হলেও স্বস্তিতে রয়েছে শাসক শিবির।

TMC BJP
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy