Advertisement
E-Paper

পাড় ধসে মৃত্যু দুই বালিকার

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে পলাশিপাড়ার গোপীনাথপুর গ্রামের কারিগর পাড়ায়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, অবৈধ ভাবে কাটা হয়েছিল ওই পুকুর। সেই পুকুরের পাড় ভেঙে, মাটি চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে ওই দুই বালিকার। 

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ২৮ ডিসেম্বর ২০১৮ ০১:৪৫
ভেঙে পড়েছেন পরিজনেরা। ডান দিকে, মাটি চাপা পড়ে মৃত দুই বালিকা। বৃহস্পতিবার পলাশিপাড়ার গোপীনাথপুরে। নিজস্ব চিত্র

ভেঙে পড়েছেন পরিজনেরা। ডান দিকে, মাটি চাপা পড়ে মৃত দুই বালিকা। বৃহস্পতিবার পলাশিপাড়ার গোপীনাথপুরে। নিজস্ব চিত্র

খেলার খুব ঝোঁক ছিল মেয়ের। স্কুল থেকে ফিরে না খেয়েই চলে গিয়েছিল খেলতে। পাড়ার বন্ধুদের জুটিয়ে পুকুর পাড়ে চলছিল রান্নাবাটি খেলা। আচমকা পাড় ধসে পড়ায় মাটির নীচে চাপা পড়ে আহেমা খাতুন (১২)। চাপা পড়ে রিজিয়া খাতুনও (‌১২)। গ্রামের মানুষ আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন দু’জনকে টেনে বার করতে। কিন্তু সম্ভব হয়নি। মাটি কাটার যন্ত্র এনে যখন তাদের বার করা হয়, তখন আর সাড় পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে পলাশিপাড়ার গোপীনাথপুর গ্রামের কারিগর পাড়ায়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, অবৈধ ভাবে কাটা হয়েছিল ওই পুকুর। সেই পুকুরের পাড় ভেঙে, মাটি চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে ওই দুই বালিকার।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অনেক দিন আগে থেকেই গ্রামের বাবু কুণ্ডুর জমিতে মাটি কাটা চলছিল। ওই পুকুরের মাটি কেটে স্থানীয় ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় ২০ ফুট গভীর মাটি হয়েছিল। এ দিন ওই পুকুরের পাড়ের উপরে একটি গাছের নীচে বসে পাড়ার ছয় জন খুদে রান্নাবাটি খেলছিল। সেই সময় আচমকা মাটি ধসে পড়ে। তাদের মধ্যে তিন জন মাটির নীচে চাপা পড়ে। স্থানীয়েরা দ্রুত মাটি সরিয়ে সবাইকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন। তাঁরা সাথী খাতুন নামে এক জনকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও রিজিয়া ও আহেমাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পাশের ইটভাটা থেকে মাটি কাটার যন্ত্র এনে মাটি সরিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়। দু’জনকেই স্থানীয় পলাশিপাড়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে জানান।

আহেমা খাতুনের মা মহিদা বিবি বলেন, ‘‘স্কুল থেকে এসে মেয়ে না খেয়েই খেলতে চলে গেল। আর ফিরে এল না।” পরিবারের দুই মেয়ের মধ্যে রিজিয়া ছোট। তার বাবা ওয়ারেস শেখের কথায়, ‘‘দিনমজুরি করে সংসার চালাই। তবুও ওর পড়াশোনার খরচ জোগাচ্ছিলাম। মেয়ে আমার সব ছেড়ে চলে গেল।’’

গ্রামবাসীদের একাংশের অভিযোগ, ওই জমির মালিক বাবু কুণ্ডু জমি কিনে মাটি কেটে পুকুর করে। সেই মাটি ইটভাটা-সহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে। পাশের জমি যাতে ওকেই বিক্রি করতে বাধ্য হতে হয়, সেই ভাবে মাটি কাটা হত। প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ ভয়ে কথা বলতে পারেন না।

স্থানীয় বাসিন্দা বাসিন্দা বুলবুল মণ্ডল জানান, ভাটায় মাটির জোগান দিতে গ্রামের কেউ কেউ অবৈধ ভাবে জমির মাটি কেটে বড় বড় পুকুর তৈরি করছে। এলাকার বহু যায়গায় এ ভাবে মাটি কাটা হলেও কেউ কোনও নিয়ম মানছে না। দীর্ঘদিন থেকে এলাকায় অবৈধ ভাবে মাটি কাটার কথা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। প্রশাসন সব জেনেও হাত গুটিয়ে বসে আছে। প্রশাসন মাটি কাটার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে এমন দুর্ঘটনা এড়ানো যেত।

পুলিশ জানিয়েছে, দেহ দু’টি ময়না তদন্তে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় অভিযোগ পেলে উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে। তেহট্ট ২ ব্লকের ভুমি ও ভুমি সংস্কার আধিকারিক দীপঙ্কর সাহা জানান, সরকারকে রাজস্ব না দিয়ে অবৈধ ভাবে ওই জমির মাটি কাটা হচ্ছিল। জমির মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নদিয়া জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি গৌরীশঙ্কর দত্ত বলেন, “ওখানে অবৈধ মাটি কাটার ফলেই দুই বালিকার প্রাণ গিয়েছে। খুব দুঃখজনক ঘটনা। জমির মালিক ও ট্রাক্টর মালিকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য

প্রশাসনকে জানিয়েছি।’’

এ দিন বাবু কুণ্ডুকে মোবাইল ফোনে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ ছিল।

Death Girl Soil Erosion
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy