Advertisement
E-Paper

আশঙ্কা নিয়েই ক্রেতায় অপেক্ষায়

কৃষ্ণনগর শহরের প্রতিটা শপিং মলেই ঢুকতে গেলে মানতে হচ্ছে বেশ কিছু নিয়ম। মাস্ক ছাড়া কোনও ক্রেতাকেই মলে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।

সুদীপ ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ০৪ জুন ২০২০ ০৫:০৯
নিজস্ব চিত্র

নিজস্ব চিত্র

করোনা ভীতি রয়েইছে। তার মধ্যেই ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে জনজীবন। খুলেছে দোকানপাট, শপিং মল। তবে বড় দোকান বা শপিং মলে সতর্কতা মানা হলেও অনেক ছোট দোকানেই তা মানা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীদের একাংশ।

কৃষ্ণনগর শহরের প্রতিটা শপিং মলেই ঢুকতে গেলে মানতে হচ্ছে বেশ কিছু নিয়ম। মাস্ক ছাড়া কোনও ক্রেতাকেই মলে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। গেটের মুখে নিরাপত্তাকর্মী মেপে নিচ্ছেন ক্রেতার দেহের তাপমাত্রা। তারপর স্যানিটাইজ়ার ব্যবহার করে তবেই ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে ক্রেতাকে।

কৃষ্ণনগরের এক শপিং মলের স্টোর ম্যানেজার বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ‘‘ট্রায়াল রুম থেকে কেউ ঢুকলে বা বেরোলেও ট্রায়াল রুম স্যানিটাইজ় করা হচ্ছে। এমনকি বিক্রি হওয়া কোনও জিনিস নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিয়ম মতো ফেরত আসলে সেটিকে ৪৮ ঘণ্টা রেখে তারপর স্যানিটাইজ় করে তবে আবার বিক্রির জন্য রাখা হচ্ছে।’’ পাশাপাশি জানান, কম কর্মী নিয়েই ব্যবসা সামলানো হচ্ছে।

তবে শপিং মল খুললেও ব্যবসা সে ভাবে হচ্ছে না বলে জানান ব্যবসায়ীদের একাংশ। হাইস্ট্রিটের এক শপিং মলের স্টোর ম্যানেজার সুনীল শর্মা বলেন, ‘‘আগের তুলনায় এখন ২০% ক্রেতাও নেই সারাদিনে। দোকান খোলা থাকার সময়ও আগের থেকে কিছুটা কমেছে।’’

শপিং মল বা বড় দোকানগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেও ছোট ছোট দোকানগুলির ক্ষেত্রে এই নিময় মানা সব সময় সম্ভব হচ্ছে না। যে সব দোকানের সামনে একটু জায়গা আছে সেই সব দোকানিরা বেঞ্চ বা দড়ি দিয়ে দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। তবে ফুটপাথের দোকানগুলোয়, যেখানে দোকানের সামনে জায়গা প্রায় নেই বললেই চলে, সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনও বালাই নেই।

কৃষ্ণনগর জজ কোর্টের প্রাচীরের গায়ে সার সার ফুটের দোকান। বেশির ভাগই জামা কাপড়ের। এক জামা কাপড়ের দোকানি বিশ্বনাথ চাকি বলেন, ‘‘একেই সারাদিন মাছি মরছি। তাও বার বার ক্রেতাদের মাস্ক পরতে বলছি, কিন্তু অনেকেই তা শুনছেন না। নিজেরাই মাস্ক পরে বসে আছি ক্রেতার অপেক্ষায়।" নিরাপত্তা বলতে এটুকুই।

কৃষ্ণনগরের বিভিন্ন মার্কেট কমপ্লেক্স-এর ছবিটাও কম বেশি একই রকম। হাইস্ট্রিটের এক মার্কেট কমপ্লেক্সে ঢোকার মুখে লেখা আছে মাস্ক পরুন। গেটে একজন প্রত্যেক ক্রেতার হাতে স্যানিটাইজ়ার দিচ্ছিলেন কয়েকদিন ধরেই। যদিও বুধবার তাঁর দেখা মেলেনি। মার্কেটের মধ্যে অনেককেই দেখা গেল মাস্ক ছাড়া ঘোরাঘুরি করতে। জামাকাপড়ের দোকানগুলো মাছি মারলেও ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলোর বিক্রি খারাপ নয়।

এ দিকে বেশির ভাগ রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়ার ব্যবস্থা এখনও চালু হয়নি। কবে বসে খাওয়া চালু হবে সে নিয়েও সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি অধিকাংশ রেস্তোরাঁর মালিক। তবে হোম ডেলিভারি চালু করে দিয়েছেন অনেকেই। শহরের এক রেস্তোরাঁর মালিক সঞ্জয় চাকি জানান, জামাইষষ্ঠীর দিন থেকে হোম ডেলিভারি চালু করেছেন তাঁরা। মাস্ক, গ্লাভস পরে স্যানিটাইজ়ার সাথে নিয়ে হোম ডেলিভারি দিতে যাচ্ছেন ডেলিভারি বয়। ভাতজাঙলার আরেক রেস্তোরাঁর মালিক অরিন্দম গড়াই বলেন, ‘‘আমার এখানে প্রায় ১২০ জন কর্মচারী। কোনও ভাবেই চাই না কেউ কাজ হারাক। মূলত তাঁদের কাজ বাঁচাতেই হোম ডেলিভারি চালু করা।’’

তবে সব কিছু মিলিয়ে ভয় কাটিয়ে এ ভাবেই মূল স্রোতে ফিরতে চাইছে জন জীবন।

Coronavirus Health Covid-19
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy