E-Paper

মৃত্যু ছেলের শুনানি নোটিস আতঙ্কে, দাবি

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, জাইরা বেওয়ার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। বড় ছেলে আজগর শেখ মানসিক ভাবে অসুস্থ।

সন্দীপ পাল

শেষ আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:২২
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

এসআইআর প্রক্রিয়ার শুনানি ঘিরে আতঙ্কের জেরে এক মহিলার মৃত্যুর অভিযোগ উঠল। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল নাকাশিপাড়ায়। ঘটনাটি নাকাশিপাড়া ব্লকের বিরকুমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের নতুন আরবেতাই এলাকায়। শনিবার দুপুরে মৃত্যু হয় জাইরা বেওয়া (৫৮)-র। শনিবার সকালে হঠাৎ মহিলার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে বেথুয়াডহরি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাইরার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে কৃষ্ণনগর হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। পরিবারের অভিযোগ, কৃষ্ণনগরে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় জাইরা বেওয়ার।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, জাইরা বেওয়ার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। বড় ছেলে আজগর শেখ মানসিক ভাবে অসুস্থ। ছোট ছেলে আক্তারুল শেখ পরিযায়ী শ্রমিক, বেঙ্গালুরুতে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করেন। অভিযোগ, শুক্রবার সন্ধ্যায় বিরকুমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৮২ নম্বর বুথের বুথ বিএলও আব্বাস আলি ছোট ছেলে আক্তারুল শেখের নামে একটি নোটিস দিয়ে যান। পরিবারের দাবি, আক্তারুলের বাবার নামের বানান সংক্রান্ত গরমিলের কারণেই ওই নোটিস আসে। এই নোটিস পাওয়ার পর থেকেই মানসিক চাপে ভেঙে পড়েন জাইরা বেওয়া, এমনটাই দাবি তাঁর পরিবারের।

পরিবার ও এলাকাবাসীদের দাবি, ছেলের নামে এসআইআর শুনানির নোটিস পাওয়ার আতঙ্কেই মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন জাইরা বেওয়া। সেই মানসিক চাপই তাঁর মৃত্যুর কারণ। জাইরা বেওয়া গ্রামের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিলের রান্নার কাজ করতেন। বাড়িতে নাতি-নাতনি, বৌমা-সহ একাধিক সদস্য রয়েছেন। তাঁদের কথায়, পরিবারের একমাত্র ভরসা ছিলেন জাইরা বেওয়াই।

জাইরা বেওয়ার নাতবৌ রিঙ্কু খাতুন বলেন, “কাল রাত থেকেই খুব চিন্তায় ছিল। ঘুমোতে পারছিল না। বারবার বলছিল, এখন কী হবে। ওই চিন্তাতেই সব শেষ হয়ে গেল।” বৌমা কালুমতি বিবি বলেন, “আমরা এখন কী করব, বুঝতে পারছি না।” পরিবারটি সরকারের দেওয়া পাকা দুই কুঠুরির ঘরে থাকে। তবে আর্থিক অনটনের কারণে বাড়িটির এখনও পুরোপুরি প্লাস্টার করা সম্ভব হয়নি।

এই বিষয়ে ওই বুথের বিএলও আব্বাস আলি বলেন, “সাধারণ মানুষ খুবই আতঙ্কিত। নোটিস নেওয়ার সময়ে বারবারই বলছিলেন, কী হবে। আমার নিজেরও নোটিস এসেছে। এই লজিক্যাল ডিসপেন্সারির মাধ্যমে নোটিস আসায় সমস্যা হচ্ছে। এই পরিবারটিকে আমি বহু দিন ধরে চিনি। কয়েক পুরুষ ধরেই এখানে আছে।”

বিষয়টি নিয়ে নাকাশিপাড়া ব্লকের বিডিও স্নেহাশীষ দত্ত বলেন, “সব মৃত্যুই দুঃখজনক। বিষয়টি এইমাত্র শুনলাম। খোঁজ নিচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, “আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবরকম সহযোগিতা করা হবে।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

nakashipara West Bengal SIR

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy