Advertisement
E-Paper

সদ্যবিধবা শিক্ষিকা শ্বশুরবাড়িতেই ‘গণধর্ষিতা’! ভাসুরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ শান্তিপুর থানায়

স্থানীয় সূত্রে খবর, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ওই শিক্ষিকার স্বামী মারা যান। মহিলার দাবি, স্বামী মারা যাওয়ার পরপরই শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে বাড়ি থেকে বিতাড়িত করেন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ মার্চ ২০২৬ ১৭:১৮

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

বৈষয়িক বিষয়ে মীমাংসার জন্য শ্বশুরবাড়িতে ডেকে এক সদ্যবিধবা শিক্ষিকাকে গণধর্ষণের অভিযোগ নদিয়ার শান্তিপুরে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

‘নির্যাতিতা’ শিক্ষিকা পুলিশকে জানিয়েছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মীমাংসার নাম করে তাঁকে শ্বশুরবাড়িতে ডাকা হয়েছিল। ফোন করেছিলেন, তাঁর বড় জা। তিনি শ্বশুরবাড়ি গিয়ে দেখেন সেখানে ভাসুর ছাড়াও এলাকার দু’জন ‘মুরুব্বি’ রয়েছেন। তিনি ঘরে ঢোকার পর আচমকা দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিছু বোঝার আগে ভাসুর এবং ওই প্রতিবেশীরা তাঁকে ধর্ষণ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে শান্তিপুর থানার পুলিশ। তবে এখনও কারও আটক বা গ্রেফতারির খবর মেলেনি।

স্থানীয় সূত্রে খবর, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ওই শিক্ষিকার স্বামী মারা যান। মহিলার দাবি, স্বামী মারা যাওয়ার পরপরই শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে বাড়ি থেকে বিতাড়িত করেন। অধিকারের দাবি নিয়ে তিনি একাধিক জায়গায় দরবার করেছিলেন। তখন মৌখিক ভাবে পুলিশকেও বিষয়টি জানিয়েছিলেন। পরে মনস্থির করেন, মামলা করবেন। মহিলা জানান, তিনি আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন, কোনও ভাবে এই খবর পেয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তাঁকে জা ফোন করেন। তাঁকে জানানো হয়েছিল পরিবারের সকলে মিলে আলোচনা করা হবে। তিনিও যেন সেখানে যান।

পুলিশের কাছে ‘নির্যাতিতা’র বয়ান অনুযায়ী, সে দিন শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ামাত্র ভাসুর ঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেন। তার পর পিছনের একটি দরজা দিয়ে ঘরে ঢোকেন স্থানীয় দুই ব্যক্তি। সকলে মিলে তাঁকে যৌন হেনস্থা করেন। ভাসুর-সহ তিন জনের বিরুদ্ধে গণধর্ষণের অভিযোগ করেছেন শিক্ষিকা। মহিলা জানিয়েছেন, সে দিন তাঁর চিৎকার-চেঁচামেচিতে একটা সময় জা ঘরের দরজা খুলে দেন। তখন তিনি বেরিয়ে যান।

২ মার্চ শান্তিপুর থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন ওই মহিলা। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তদের এক জন। তাঁর দাবি, নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে। রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় গণধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি বলেন, “একজন বিধবা মহিলার উপর যে অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছে, তা ন্যক্কারজনক। আমরা ওই মহিলার পাশে আছি। নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।” অন্য দিকে, রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভানেত্রী অপর্ণা নন্দী বলেন, “আইন আইনের পথে চলবে। তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাউকে ফাঁসানো হচ্ছে কি না, সেটাও দেখা প্রয়োজন।’’

Gangrape Case Nadia Shantipur
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy