Advertisement
E-Paper

দালালের ফাঁদে পা, মৃত্যু যুবকের

প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান, মানসিক অবসাদ থেকেই আত্মঘাতী হয়েছেন ওই যুবক। যদিও এই ঘটনায় পরিবারের তরফে এখনও পর্যন্ত পুলিশে কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ নভেম্বর ২০১৮ ০১:৩৯

চাকরির জন্য তিনি টাকা দিয়েছিলেন দালালকে। সেই টাকা আত্মসাৎ করে তাঁকে সেই দালাল ক্রমাগত ঘোরাচ্ছিল। চাকরি দূরে থাক, সেই টাকার একটুও ফেরত পাননি চাপড়ার ইছাপুর গ্রামের বছর পঁচিশের সুকান্ত সাধুখাঁ। পরিবারের লোকেরাই জানিয়েছেন, অবসাদে ডুবে গিয়েছিলেন তিনি। মঙ্গলবার রাতে বাড়ির কাছে বাঁশবাগানে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মৃতদেহ পাওয়া যায়।

প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান, মানসিক অবসাদ থেকেই আত্মঘাতী হয়েছেন ওই যুবক। যদিও এই ঘটনায় পরিবারের তরফে এখনও পর্যন্ত পুলিশে কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। পুলিশ মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারণা, টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়া, ধর্ষণ, ভিন রাজ্যে বা দেশে বিক্রি করে দেওয়ার মতো একের পর এক ঘটনা সাম্প্রতিক কালে সামনে এসেছে। পুলিশও বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে গ্রামের দিকে এ ব্যাপারে সচেতনতা অভিযান ও প্রচার চালানো উচিত বলে মনে করছেন অনেকেই। সুকান্ত-র পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বিএ পাশ করে বিএড পড়ছিলেন তিনি। বাড়িতে চরম অভাব। বাবা ঘানিকলে কাজ করেন। ধার দেনা করে দিদির বিয়ে দেওয়া হয়েছে। সামান্য কিছু জমি ছিল। সেই শেষ সম্বল বিক্রি করে এক দালালকে ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন সুকান্ত। কিন্তু চাকরি হয়নি তাঁর। দালাল ঠকিয়েছিল তাঁকে। কোনও ভাবেই সেই টাকা উদ্ধার করতে পারছিলেন না তিনি। স্থানীয় বাসিন্দা কলিঙ্গ গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য উত্তম বিশ্বাস সুকান্তের বন্ধু। তাঁর কথায়, “ওদের সংসারে খুবই অভাব। জমি বন্ধক দিয়ে টাকা জোগাড়ে করেছিল। সেই টাকা ফেরত আনতে না-পারায় বাড়িতে প্রবল চাপ তৈরি হচ্ছিল। সব মিলিয়ে আত্মগ্লানিতে তলিয়ে যাচ্ছিলেন সুকান্ত। সেই চাপটাই হয়তো ও নিতে পারল না।” একই কথা জানিয়েছেন বাল্যবন্ধু শুভজিৎ পাল। বলছেন, “টাকাটা খুইয়ে খুব ভেঙে পড়েছিল ভিতরে ভিতরে।’’

Suicide Depression
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy