Advertisement
E-Paper

আফতাবের পর বাড়ি ফিরছে রনিও

প্রায় পাঁচ বছর পর নিখোঁজ থাকার পর মুর্শিদাবাদ জেলার শিশু সুরক্ষা দফতরও বিহারে বাড়ি আফতাব আনসারিকে ফিরিয়ে দিয়েছে। এ বার আরও এক কিশোরকে ভিন রাজ্যে মা-বাবার কাছে ফেরাচ্ছে জেলার শিশু সুরক্ষা দফতর। রনি মুন্ডা নামে বছর চোদ্দোর ওই কিশোরের বাড়ি ত্রিপুরায়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ ডিসেম্বর ২০১৫ ০৩:০৩

প্রায় পাঁচ বছর পর নিখোঁজ থাকার পর মুর্শিদাবাদ জেলার শিশু সুরক্ষা দফতরও বিহারে বাড়ি আফতাব আনসারিকে ফিরিয়ে দিয়েছে। এ বার আরও এক কিশোরকে ভিন রাজ্যে মা-বাবার কাছে ফেরাচ্ছে জেলার শিশু সুরক্ষা দফতর। রনি মুন্ডা নামে বছর চোদ্দোর ওই কিশোরের বাড়ি ত্রিপুরায়। আফতাবের মতো ট্রেন থেকে উদ্ধার করার পর প্রথমে তাকে আনন্দ আশ্রমে রাখা হয়। পরে কাদাইয়ের কাজি নজরল ইসলাম শিশু আবাসে। দুটি ক্ষেত্রেই এই সাফল্য এসেছে চাইল্ড লাইনের মাধ্যমে।

মুর্শিদাবাদ জেলার শিশু সুরক্ষা দফতরের কর্তা অর্জুন দত্ত বলেন, ‘‘বছর দুয়েক হল এই দফতর গড়ে উঠেছে। তার মধ্যেই জোড়া সাফল্যে আমরা আশান্বিত। আন্তরিকতা ও চেষ্টা থাকলে যে হারিয়ে যাওয়া কিশোরদের ঘরে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব তা প্রণাম হল।’’ তিনি জানান, ওই দুই শিশুকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বিহার ও ত্রিপুরা চাইল্ড লাইনের সাহায্য নেওয়া হয়েছিল। সেই চেষ্টা সফল হওয়ায় তাঁরা খুশি।

তিনি জানান, রনির বাবা-মা গরিব। ছেলেকে আনতে আসার সামর্থ্য তাঁদের নেই। তাই জেলা প্রশাসনের খরচায় ত্রিপুরা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তাকে। সেখানকার চাইল্ড লাইনের কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে তাকে। তাঁরাই রনিকে তার পরিবারের কাছে পৌঁছে দেবেন।

আগে বলতে না পারলেও এখন ভালই বাংলা বলতে পারে রনি। এ সপ্তাহেই তাকে যে বাবা-মার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে সেটা জানে রনি। বাবা-মায়ের সঙ্গে ফোনে কথাও হয়েছে তার। শিশু আবাসের সুপার সোমা বিশ্বাস জানান, ৫৪ জন কিশোর রয়েছে ওই হোমে। সকলেই পড়াশোনা করে। আফতাব ও রনিও তাদের মতোই। বহু চেষ্টার পর যখন বাড়ির ঠিকানা জানা গেল তখনও তাঁরা নিশ্চিত ছিলেন না। এ রকম ঘটনা তো সদ্য পাকিস্তান থেকে আগত এক মহিলার ক্ষেত্রেও ঘটেছে। কিন্তু রনির সঙ্গে পরিবারের একাধিক লোকজনের কথা হয়েছে। তারপরই তাঁরা নিশ্চিত হই। তারপর তাঁকে বাড়ি ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অতিরিক্ত জেলাশাসক শমনজিত সেনগুপ্ত বলেন, ‘‘প্রতিটি জেলা প্রশাসন এমনই সক্রিয় হলে অনেক শিশু-কিশোরকে বাড়ি ফেরানো সম্ভব। দেশ জুড়ে চাইল্ড লাইনের কাজকে এ ভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে।’’

জেলার এক পদস্থ কর্তার মতে, ‘‘সর্বস্তরে চাইল্ড লাইনের যে পরিকাঠামো গড়ে উঠেছে তাতে উদ্যোগী হলে কিছু শিশু-কিশোরকেও পরিবারে ফেরানো যাবে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy