জেলার বিভিন্ন প্রান্তের হোটেল ও লজে হানা দিয়ে বেশ কয়েকজন বহিরাগতকে গ্রেফতার করল পুলিশ। শনিবার সকালে রীতিমতো সাংবাদিক সম্মেলন করে কৃষ্ণনগরের বিজেপি প্রার্থী সত্যব্রত মুখোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, জেলার বিভিন্ন এলাকায় হোটেল ও লজে আশ্রয় নিয়েছে বাইরে থেকে আসা তৃণমূল। রাতে সাংবাদিক সম্মেলন করে একই অভিযোগ করেন সিপিএমের জেলা সম্পাদক সুমিত দে-ও। এরপরই শনিবার রাতে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে কল্যাণী, গয়েশপুর, চাকদহ, শান্তিপুর, চাপড়া, ধুবুলিয়া এলাকার বেশ কয়েকটি লজ ও হোটেলে তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহজনক বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জেলার পুলিশ সুপার সব্যসাচীরমণ মিশ্র বলেন, “শনিবার রাতের বিশেষ অভিযানে আমরা ৯০ জনকে গ্রেফতার করেছি। ধৃতদের মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধে পুরনো মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে।”
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে,নদিয়ায় প্রায় ৬৬ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়োগ করা হয়েছে। ২২০৬টি বুথকে স্পর্শকাতর বুথ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পুলিশ সুপার সব্যসাচী রমণ মিশ্র বলেন, ‘‘আমরা নিজেদের মতো করে স্পর্শকাতর বুথ চিহ্নিত করেছি। তারপরও রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠক করে তাদের কাছ থেকে তালিকা নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলির তালিকায় থাকা ৯০ শতাংশ বুথেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। বাকি বুথে মাইক্রো অবজার্ভর, ভিডিও ক্যমেরা, ডিজিটাল ক্যামেরা, ওয়েব কাস্টিং থাকবে।’’ কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রে ২৮৭টি এবং রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রে ২৫৩টি বুথে থাকবে ভিডিও ক্যামেরা। কৃষ্ণনগরের ২১ ও রানাঘাটের ৪২টি বুথে থাকবে ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা। ডিজিটাল ক্যামেরা থাকবে কৃষ্ণনগরের ১৪৯ ও রানাঘাটের ১০৬টি বুথে। মাইক্রো আবজার্ভার থাকবে কৃষ্ণনগরের ৩৬৬টি ও রানাঘাটের ৩০০ বুথে। জেলাশাসক পি বি সালিম বলেন, ‘‘আমরা আশা করছি পঞ্চায়েত ভোটের মতোই এবার লোকসভা ভোট শান্তিপূর্ণ হবে।” ভোটের আগে পাশের জেলা ও আন্তর্জাতিক সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, ‘‘জেলায় ১০টি আদর্শ বুথ ও ৫০টি পুরোপুরি মহিলা পরিচালিত বুথ থাকবে। প্রতিবন্ধী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও প্রসূতিদের জন্য থাকবে তৃতীয় লাইনের ব্যবস্থা।’’