Advertisement
E-Paper

ছাত্র খুনে ধৃত বন্ধু

মাস দেড়েক আগে একটি বন্ধ দোকানের মধ্যে খুন হয়েছিল মহম্মদ ওয়াসিম (১৭) নামে এক ছাত্র। সুতির আলিয়া মোড়ের সেই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শুক্রবার নিহত ওই পড়ুয়ার এক বন্ধুকে গ্রেফতার করল পুলিশ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ নভেম্বর ২০১৫ ০২:০৩

মাস দেড়েক আগে একটি বন্ধ দোকানের মধ্যে খুন হয়েছিল মহম্মদ ওয়াসিম (১৭) নামে এক ছাত্র। সুতির আলিয়া মোড়ের সেই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শুক্রবার নিহত ওই পড়ুয়ার এক বন্ধুকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতের নাম মেহেবুব শেখ। তার বাড়ি সুতিতে। এ দিন রাতে ধৃতের বাড়ি থেকে তিনটি মোবাইল উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেগুলি ওয়াসিমের দোকান থেকে খোয়া গিয়েছিল। উদ্ধার করা হয়েছে ওয়াসিমের মোবাইলটিও।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে ধৃত ওই যুবককে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সামসেরগঞ্জের মালঞ্চায়। সেখানে ধৃতের শ্বশুরবাড়ি। সেই এলাকায় এক যুবককে সে তিন হাজার টাকায় ওয়াসিমের মোবাইলটি বিক্রি করেছিল। তার কাছ থেকেই ওয়াসিমের মোবাইল ও বাকি আরও তিনটি মোবাইল ধৃতের বাড়ি থেকেই পুলিশ উদ্ধার করে।

গত ১০ অক্টোবর গভীর রাতে খুন হয় ওয়াসিম। ঘটনার পরে পুলিশের বিরুদ্ধে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। হাজার খানেক গ্রামবাসী আলিয়া মোড় অবরোধ করেন। তাঁরা সেই সময় অভিযোগ করেছিলেন, পুলিশ খুনের কোনও তদন্ত করছে না। খুনিদের ধরার ব্যাপারেও পুলিশ তেমন ভাবে সক্রিয় ছিল না। সড়ক অবরোধের ফলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় ওই রাজ্য সড়কে। আটকে পড়েন টেট পরীক্ষার্থীরাও। পরে পুলিশ খুনিদের ধরার প্রতিশ্রুতি দিলে অবরোধ উঠে যায়। সেই থেকে ঘটনার তদন্তভার নেন সুতির ওসি সুব্রত ঘোষ নিজেই। ধৃতের বাবার একটি তেলেভাজার দোকান রয়েছে নিহত ওই পড়ুয়াদের দোকানের উল্টো দিকে। খুনের পর থেকেই পুলিশের সন্দেহ ছিল এই ঘটনার সঙ্গে পরিচিত কেউ জড়িত। ওয়াসিম খুন হওয়ার আগে ওয়াসিমের মোবাইলে শেষ যে তিনটি ফোন আসে তা ধৃত ওই যুবকের ফোন থেকেই।

Advertisement

সেই সূত্র ধরেই তদন্তে নামে পুলিশ। শুক্রবার রাতেই ওয়াসিমের ওই বন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে ওয়াসিমকে খুনের কথা স্বীকার করেছে সে। কিন্তু বন্ধু হয়ে কেন এই খুন? ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদের পরে পুলিশ জানতে পেরেছে, ধৃতের স্ত্রীকে ফোন করে বিরক্ত করছিল ওয়াসিম। ওই মহিলা তার প্রতিবাদ করলেও সে শুনত না। স্ত্রীর কাছে সে কথা কথা শুনেও প্রথমে বিশ্বাস করতে চায়নি ধৃত ওই যুবক। ঘটনার আগের রাতে ফের ওই মহিলাকে ফোন করে ওয়াসিম। তখন ওই মহিলা লাউড স্পিকারে সব কথা তাঁর স্বামীকে শোনান।

পুলিশ জানিয়েছে, ওয়াসিম ও ধৃত ওই যুবক প্রায়ই দোকানে বসে মদ খেত। ঘটনার রাতেও মদ খেতে বসে ওয়াসিমের গ্লাসে মিশিয়ে দেয় ধৃত ওই যুবক। ওয়াসিম নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ার পরে ওই যুবক ছুরি দিয়ে ওয়াসিমকে খুন করে। ময়নাতদন্তে ওয়াসিমের দেহে প্রায় ২৫টি গভীর ক্ষত মিলেছে। জেলার পুলিশ সুপার সি সুধাকর জানান, ধৃত ওই যুবককে আজ, শনিবার জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে হাজির করিয়ে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার জন্য আবেদন করা হবে। কারণ ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করতে ওই যুবককে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হবে। এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা দেখা হবে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy