Advertisement
E-Paper

ঝুঁকির যাত্রা রাজ্য সড়কে

পুরনো সেতু ভেঙে গিয়েছিল মাস চারেক আগে। বিকল্প হিসাবে পাশে তৈরি অস্থায়ী কালভার্টও ভেঙেচুরে গিয়েছে এই ক’দিনে। বহরমপুর ও শক্তিপুরের মধ্যে সংযোগকারী বাকিনালার বেহাল কালভার্ট পার হওয়ার আগে তাই যাত্রীদের নামিয়ে দিচ্ছে বাস-ট্রেকার। প্রায় ৪০ মিটার দীর্ঘ রাস্তা পায়ে হেঁটে অপর পারে পৌঁছে ফের বাস-ট্রেকারে চাপছেন লোকজন। দিন দশেক ধরে এই ভাবেই দৈনিক লক্ষাধিক যাত্রী যাতায়াত করছেন আর-বি-সি-কে অর্থাৎ রামনগর- বাজারসৌ- চৌরিগাছা-খাগড়াঘাট রাজ্য সড়কে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ জুলাই ২০১৪ ০০:০৫
এভাবেই বাস থেকে যাত্রী নামিয়ে দিয়ে চলে পারাপার। গৌতম প্রামাণিকের তোলা ছবি।

এভাবেই বাস থেকে যাত্রী নামিয়ে দিয়ে চলে পারাপার। গৌতম প্রামাণিকের তোলা ছবি।

পুরনো সেতু ভেঙে গিয়েছিল মাস চারেক আগে। বিকল্প হিসাবে পাশে তৈরি অস্থায়ী কালভার্টও ভেঙেচুরে গিয়েছে এই ক’দিনে। বহরমপুর ও শক্তিপুরের মধ্যে সংযোগকারী বাকিনালার বেহাল কালভার্ট পার হওয়ার আগে তাই যাত্রীদের নামিয়ে দিচ্ছে বাস-ট্রেকার। প্রায় ৪০ মিটার দীর্ঘ রাস্তা পায়ে হেঁটে অপর পারে পৌঁছে ফের বাস-ট্রেকারে চাপছেন লোকজন। দিন দশেক ধরে এই ভাবেই দৈনিক লক্ষাধিক যাত্রী যাতায়াত করছেন আর-বি-সি-কে অর্থাৎ রামনগর- বাজারসৌ- চৌরিগাছা-খাগড়াঘাট রাজ্য সড়কে। বহরমপুর ব্লকের শাহাজাদপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার পাঁচকেঠে গ্রাম লাগোয়া অস্থায়ী কালভার্ট দু’পাশ ধসে যাওয়ার ফলে যে কোনও সময়ে বড়সড় দুর্ঘটনারও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ভাগীরথীর পশ্চিম দিকে সাড়ে ৩৯ কিলোমিটার দীর্ঘ ওই সড়কপথের দু’পাশে রয়েছে শক্তিপুর ও বহরমপুর মিলিয়ে দু’টি থানা এলাকার শতাধিক গ্রাম। ব্রিটিশ আমলে কাঠ দিয়ে তৈরি ঝুমঝুমখালি সেতুটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ছিল যথাক্রমে ১৯ মিটার এবং ৪ মিটার। ওই সেতু দিয়ে এক সঙ্গে একটির বেশি যানবাহন পার হতে পারত না। ২৬ ফেব্রুয়ারি কাঠের সেতুটি ভেঙে যায়। তখন তার পাশেই ১৮টি হিউম পাইপ দিয়ে তৈরি করা হয় অস্থায়ী কালভার্ট। হালকা গাড়ির জন্য তৈরি হলেও সেই কালভার্ট দিয়ে অতিরিক্ত মাল বোঝাই লরি চলছে দেদার।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাসুদেবখালি গ্রামের কাছে ভাগীরথী নদীর উপর চলছে চার লেনের জন্য বিশাল সেতু তৈরির কাজ। নির্মীয়মাণ ওই সেতুর জন্য লোহা-লক্কড়, পাথর ও সিমেন্ট বোঝাই বড়বড় লরি ও ট্রলার পার হচ্ছে পাঁচকেঠের বাকিনালা নদীর উপরের অস্থায়ী কালভার্ট দিয়ে। লাগাতার বৃষ্টিপাত ও অতিরিক্ত মাল বোঝাই লরি চলাচলের ফলে অস্থায়ী কালভার্টটি ভেঙেচুরে গিয়েছে ক’দিনেই। ওই এলাকায় বিকল্প কোনও পথ না থাকায় অস্থায়ী কালভার্ট দিয়েই জীবন হাতে দৈনিক লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করছেন।

বহরমপুরের বাসিন্দা কৃষ্ণেন্দু ঘোষ রাঙামাটি চাঁদপাড়া পঞ্চায়েত এলাকার আরোয়া গ্রামের প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক। সহশিক্ষকের সঙ্গে তিনি একটি মোটর বাইকে করে স্কুলে যাতায়াত করেন। কৃষ্ণেন্দু বলেন, “প্রাণ হাতে করে কালভার্ট পার হই। অন্য উপায়ও তো নেই।”

মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সভাধিপতি শিলাদিত্য হালদার বলেন, “আর-বি-সি-কে সড়কপথ ও ঝুমঝুমখালি সেতুটি পূর্ত দফতরের। মানুষের নাজেহাল দশার কথা বিবেচনা করে অস্থায়ী কালভার্ট দ্রুত মেরামতি ও স্থায়ী সেতু নির্মাণ করার জন্য পূর্ত দফতরের কর্তাদের বারবার বলা হলেও তাঁদের কোনও হেলদোল নেই।”

পূর্ত দফতরের সহকারী বাস্তুকার প্রবীর বাগচী বলেন, “অস্থায়ী কালভার্ট সংস্কার করার জন্য বাকিনালার পাশে উপকরণ সামগ্রী ফেলা হয়েছে। দিন তিনেকের মধ্যে সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে।”

কিন্তু স্থায়ী সেতু নির্মাণ না করা পর্যন্ত যানবাহন চলাচলের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি।

পূর্ত দফতরের সহকারি বাস্তুকার প্রবীর বাগচী বলেন, “চার বক্সের ২৪ মিটার দীর্ঘ এবং ১১ মিটার চওড়া স্থায়ী সেতু নির্মাণ করার জন্য একটি প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্প ব্যয় এক কোটি ৩০ লক্ষ টাকা। প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য পূর্ত দফতরের মুখ্য বাস্তুকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললেই কাজ শুরু করে দেওয়া হবে।” ১১ মিটার চওড়া প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে পাশাপাশি দু’টি গাড়ি যাতায়াত করতে পারবে। দু’পাশে পথচারীদের জন্য ফুটপাথও থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রবীরবাবু।

brokenculvert bakinala berhampore
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy