ধুলোর শহর হিসেবে পরিচিত রাজস্থানের বিকানের। ভারতের পর্যটন মানচিত্রেও তেমনটাই বলা হয়েছে। কিন্তু সেই শহরকেও হার মানবে বহরমপুর। সৌজন্যে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক।
কেউ যদি উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সংযোগকারী রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী সেতু দিয়ে নেমে বহরমপুর শহরে ঢোকেন তবে তাঁকে প্রথমে স্বাগত জানাবে শহরের ধুলো। প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ি ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে শহরে ঢোকে। তাদের গতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ধুলো ওড়ে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সেই ঝড় চলে। গির্জার মোড় হয়ে বাসস্ট্যান্ড ছুঁয়ে মধুপুর-বিষ্ণুপুর থেকে পঞ্চাননতলা মোড় হয়ে চুঁয়াপুর পর্যন্ত ওই ধুলোর ঝড় চলে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত। পরিস্থিতি এমনই যে, ধুলোর হাত থেকে বাঁচাতে ‘মাস্ক’ ছাড়া রাস্তায় নামতে পারে না ট্রাফিক পুলিশ। যাঁদের পয়সা আছে ধুলোর হাত থেকে বাঁচতে তাঁরা দোকানের সামনে কাঁচের দরজা লাগিয়েছেন। কিন্তু যাদের সেই সঙ্গতি নেই তাঁরা ধুলো ভরা শ্বাস নিতে বাধ্য হচ্ছেন। শহরের এক ফল ব্যাবসায়ী বলেন, ‘‘ফলের ব্যবসা করে কোনও মতে দিন গুজরান হয়। রাস্তার পাশে দোকান। তাই সারাদিন ধুলোর ঝাপটা খেতে হয়। এক এক সময় তো দম বন্ধ হয়ে আসে।’’
গাড়ি গ্যারাজের শ্রমিক পিন্টু শেখ জানান, রাস্তার দু’ধারে আমার মতো কয়েক হাজার শ্রমিক কাজ করে। কিন্তু নাকে পট্টি বা মুখে রুমাল বেঁধে বাস-লরি-ট্রেকার সারানোর মতো ভারি কাজ করা সম্ভব নয়। তা সত্ত্বেও যারা নাকে রুমাল বেঁধে কাজ করছেন তাঁদের ১০ মিনিট অন্তর রুমাল খুলতে হচ্ছে।’’ তিনি জানান, ‘‘নাকে-মুখে ধুলো ঢুকে বুকে কফ জমে সংক্রমণ হয়ে ভুগছে এমন শ্রমিকের সংখ্যা কম নয়। আমাকেও চিকিৎসক ধুলো থেকে দূরে থাকতে বলেছে। কিন্তু কী করব!’’
পূর্ত দফতরের এক কর্তা জানান, রাস্তা সংস্কারের নামে পাথর পরপর সাজিয়ে তার উপরে পাথর কুচি-পিচের মিশ্রনের পাতলা চাদর দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। তার উপরে এক প্রস্থ ধুলো মেশানো পাথর কুচি ঢেলে দেওয়া হচ্ছে। এ দিকে ব্যস্ততম রাস্তায় নিম্নমানের কাজ হওয়ার ফলে ভারী চাকায় উপরের পিচের চাদর সরি গেলেই রাস্তার হাড়-কঙ্কাল বেরিয়ে পড়ে ধুলোয় ঢাকা পড়ছে শহরের আকাশ।
ভিস্তিওয়ালা সেজে বহরমপুর পুরসভা এক সময়ে মধুপুর-বিষ্ণুপুর এলাকার রাস্তায় ট্রাক্টরের পিছনে ট্যাঙ্ক বোঝাই করে নিয়ে এসে জল ছড়ানোর কাজ করলেও তা সাময়িক। অন্য দিকে পঞ্চাননতলা থেকে চুঁয়াপুর মোড় পঞ্চায়েত এলাকার অবস্থা অবশ্য কবলার মতো নয়। সব মিলিয়ে শীত পড়তেই যাদের অ্যালার্জি রয়েছে, তাঁদের ওই ধুলোয় সমস্যা বাড়ছে। বুকে সংক্রমণ নিয়ে তাঁরা ভিড় করছেন চিকিৎসকের চেম্বারে।
মুর্শিদাবাদের সীমান্ত লাগোয়া এলাকা লালগোলার একটি গ্রামের নাম ধুলাউড়ি। ধুলোয় তিতিবিরক্ত পুরনাগরিকের কেউ কেউ তাই টিটকিরি করে বলছেন শহরের নাম পাল্টে ‘ধুলাউড়ি’ রাখা হোক। সেই সঙ্গে চলুক ধুলো ঢাকার উপায় বাতলে দিতে ‘গবুচন্দ্র মন্ত্রী’র খোঁজ!