সাংবাদিক হত্যা মামলায় বেকসুর খালাস পেলেন ‘ডেরা সচ্চা সৌদা-র প্রধান গুরমিত রাম রহিম। তাঁকে এই মামলায় মুক্তি দিল পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাই কোর্ট। প্রসঙ্গত, ২০০২ সালের অক্টোবরে সাংবাদিক রামচন্দ্র ছত্রপতিকে খুনের অভিযোগ ওঠে রাম রহিমের বিরুদ্ধে। ২০১৯ সালের ১৭ জানুয়ারি পঞ্চকুল্লার বিশেষ সিবিআই আদালত ডেরা প্রধান-সহ চার জনকে এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে। শুধু তা-ই নয়, আদালত তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছিল।
শনিবার এই মামলার শুনানি ছিল পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাই কোর্টে। প্রধান বিচারপতি শীল নাগু এবং বিচারপতি বিক্রম আগরওয়ালের ডিভিশন বেঞ্চ সিবিআই আদালতের রায়কে খারিজ করে দিয়ে রাম রহিমকে বেকসুর খালাস করে। তবে বাকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সিবিআই আদালতের রায়ই বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।
হরিয়ানার সিরসায় খুন হন সাংবাদিক রামচন্দ্র। তাঁর বাড়ির কাছেই গুলি করে খুন করা হয়। সিরসায় ডেরা-র সদর দফতরে কী ভাবে মহিলা অনুগামীদের হেনস্থা করা হয়, তা নিয়ে বেনামে একটি চিঠি প্রকাশ করেছিলেন ‘পুরা সচ’ সংবাদপত্রে। তার পরই বাড়ির বাইরে রামচন্দ্রের দেহ উদ্ধার হয়। সেই ঘটনায় ডেরা প্রধানের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ ওঠে। রাম রহিম এবং আরও তিন জনকে দোষী সাব্যস্ত করে সিবিআই আদালত। এ বার সেই মামলায় মুক্তি পেলেন ডেরা প্রধান।
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, ২০০২ সালের আরও একটি খুনের মামলায় গত জানুয়ারিতে ডেরা প্রধানকে নোটিস পাঠিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। ওই মামলায় ডেরা প্রধান এবং বাকি অভিযুক্তদের বেকসুর খালাস করে পঞ্জাব এবং হরিয়ানা হাই কোর্ট। আদালতের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় সিবিআই। ২০০২ সালের জুলাই মাসে হরিয়ানার কুরুক্ষেত্রে গুলি করে হত্যা করা হয় রঞ্জিত সিংহকে। গুরমীতের সংগঠন ডেরার প্রাক্তন ম্যানেজার ছিলেন রঞ্জিত। ডেরার রাজ্য কমিটির সদস্যও ছিলেন তিনি। শোনা যায় যে, একটি লিফলেট ছড়ানোয় যুক্ত ছিলেন তিনি। সেই লিফলেটে লেখা ছিল, কী ভাবে হরিয়ানার সিরসায় ডেরার মূল আশ্রমের ভিতর মেয়েদের শারীরিক ভাবে নিগ্রহ করতেন রাম রহিম। তদন্তকারীদের দাবি, রঞ্জিতই সেই লিফলেট ছড়িয়েছিলেন বলে সন্দেহ করা হয় এবং তার জেরেই খুন হন ডেরার প্রাক্তন ম্যানেজার।
ওই খুনের মামলায় ২০২১ সালে রাম রহিম এবং আরও চার জনকে দোষী সাব্যস্ত করে নিম্ন আদালত। প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং পৃথক পৃথক অঙ্কের জরিমানার নির্দেশ দেয় নিম্ন আদালত। ২০০২ সালের ওই খুনের মামলায় হাই কোর্ট বেকসুর খালাস করলেও, অন্য মামলায় এখনও জেলবন্দি রয়েছেন ডেরা প্রধান। আশ্রমের ভিতরে দুই শিষ্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে ২০১৭ সালে ডেরা প্রধানকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল আদালত। ২০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে তাঁর। পাশাপাশি রাম রহিমের যৌন ‘কেলেঙ্কারি’ প্রকাশ্যে নিয়ে আসায় খুন হন সাংবাদিক রাম চান্দের প্রজাপতিও।