Advertisement
E-Paper

উপসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকার আরও একটি ‘চোখ’ নষ্ট করল ইরান! এফপিএস ১৩২-এর পর শক্তিশালী ‘থাড’ রেডার ধ্বংস!

দিন কয়েক আগেই কাতারে আমেরিকার সবচেয়ে শক্তিশালী রেডার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে ইরান। এএন/এফপিএস-১৩২ রেডার ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৭ মার্চ ২০২৬ ১২:০০
জর্ডনে আমেরিকার সেনাঘাঁটিতে ‘থাড’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় হামলা ইরানের। ছবি: সংগৃহীত।

জর্ডনে আমেরিকার সেনাঘাঁটিতে ‘থাড’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় হামলা ইরানের। ছবি: সংগৃহীত।

উপসাগরীয় অঞ্চলে আগেই আমেরিকার একটি ‘চোখ’ নষ্ট করেছিল ইরান। এ বার তাদের হামলার ওই অঞ্চলেই আমেরিকার আরও একটি শক্তিশালী ‘চোখ’ ধ্বংস করা হয়েছে বলে ফের দাবি করল ইরান। কাতারে আমেরিকার শক্তিশালী রেডার ব্যবস্থা এফপিএস ১৩২-কে ধ্বংস করার পর এ বার জর্ডনে আরও শক্তিশালী ‘থা়ড’ (টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স) রেডার ব্যবস্থাকেও গুঁড়িয়ে দিল ইরান। ৩০ কোটি ডলার ব্যয় করে নির্মিত এই রেডার ব্যবস্থা জর্ডনের মুয়াফ্‌ফক সাল্টি সেনাঘাঁটিতে মোতায়েন করেছিল আমেরিকা। অত্যাধুনিক এই রেডার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের দেশ।

জর্ডনে আমেরিকার এই সেনাঘাঁটিতে জোরালো হামলা চালায় ইরান। রেডার ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয় বলে ইরানের সংবাদমাধ্যমের দাবি। শুধু তা-ই নয়, জর্ডন ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং সৌদি আরবে মার্কিন সেনাঘাঁটিতে রেডার ব্যবস্থাকে নিশানা করা হয়েছে। জর্ডনের মার্কিন সেনাঘাঁটি ইরান থেকে ৮০০ কিলোমিটার দূরে। আর এই সেনাঘাঁটি পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার অন্যতম বড় সেনাঘাঁটিগুলির মধ্যে একটি। উপগ্রহচিত্রে এই সেনাঘাঁটির ‘থাড’ রেডার ব্যবস্থার কাছে বিশাল বড় আকৃতির দু’টি গর্ত ধরা পড়েছে। উপগ্রহচিত্রকে উল্লেখ করে সংবাদমাধ্যম সিএনএন আগেই দাবি করেছিল, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আরটিএক্স কোর এএন/টিরিওয়াই-২ রেডার ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে। যদিও আমেরিকার তরফে এ কথা প্রথমে স্বীকার করা হয়নি। তবে মার্কিন প্রশাসনের একটি সূত্রে রেডার ব্যবস্থা নষ্ট হওয়ার কথা স্বীকার করা হয়।

‘থাড’-এর পুরো নাম ‘টার্মিনাল হাই অলটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স’। এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে মোতায়েন করা হয়েছিল বায়ুমণ্ডলের উপর থেকে মহাকাশ ছুঁয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রকে রুখে দেওয়ার জন্য। অর্থাৎ ‘স্পেস মিসাইল’-এর নজরদারির জন্যই এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ৩০ কোটি ডলার খরচ করে তৈরি করেছিল আমেরিকা। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ়-এর তথ্য বলছে, আমেরিকার কাছে এ রকম মোট আটটি ‘থাড’ রেডার ব্যবস্থা রয়েছে। তার মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া এবং গুয়ামেও এই প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন রয়েছে।

কোনও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুকে নিশানা করার আগেই এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটিকে ধ্বংস করে। তবে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কোনও বিস্ফোরক থাকে না। গতিশক্তিকে কাজে লাগিয়ে শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্রকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় অত্যন্ত উন্নতমানের রেডার আছে যেটি ১০০০ কিলোমিটার দূর থেকেই ক্ষেপণাস্ত্র বা হামলাকারী ড্রোনের হদিস পেয়ে যায়। লকহিড মার্টিন এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নির্মাতা। দক্ষিণ কোরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ইজ়রায়েল, জর্ডন এবং সৌদি আরবে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন রয়েছে। তার মধ্যে জর্ডনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারিতেই জর্ডনে এই রেডার ব্যবস্থাকে মোতায়েন করেছিল আমেরিকা।

দিন কয়েক আগেই কাতারে আমেরিকার সবচেয়ে শক্তিশালী রেডার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে ইরান। ইরান বাহিনীকে উদ্ধৃত করে তেহরান টাইমস-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এএন/এফপিএস-১৩২ রেডার ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। যার পাল্লা ৫০০০ কিলোমিটার। এই রেডার ব্যবস্থাকে পুরোপুরি নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এফপিএস ১৩২ রেডার অপরিহার্য। কারণ, অত্যন্ত নিখুঁত ভাবে, সময়ের সঙ্গে ‘শত্রু’পক্ষের কোনও ড্রোন, রকেট বা ক্ষেপণাস্ত্রকে সহজেই চিহ্নিত করে তৎপরতার সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে পারে। ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়া-র প্রতিবেদন বলছে, এফপিএএস-১৩২ রেডারটি কাতারের আল উদেইদে মার্কিন বায়ুসেনাঘাঁটিতে ছিল। ২০১৩ সালে এই সেনাঘাঁটিতে রেডার ব্যবস্থাটিকে বসানো হয়েছিল।

Air Defence System USA
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy