পুজোয় এক লাফে কিলোতে ১৬ টাকা দাম বাড়ল ছানার। ছিল ১৪০ টাকা কিলোগ্রাম। দাম বেড়ে হল ১৫৬ টাকা। আর তাতেই পুজোর দিনে জঙ্গিপুরের কোথাও মিষ্টির দাম বেড়েছে। কোথাও বা দাম ঠিক রেখে ছোট করা হয়েছে মিষ্টির সাইজ।
এমনিতে জেলার মধ্যে মিষ্টির জন্য সুনাম রয়েছে জঙ্গিপুরের। ক্ষীরমোহন, রসকদম্ব, চমচম, ছানাবড়া, রাজভোগ ছাড়াও পুজোর সময় লবঙ্গলতিকা, বালুসাই, মনোহরা, ক্ষীরকদম-সহ নানা পদের মিষ্টির চল রয়েছে জঙ্গিপুরে। রসগোল্লা ও লেডিকেনি এক সময়ে দেদার বিকোলেও এখন তার পাট চুকেছে। মিষ্টির দামেও লাগাম ছিল বরাবরই। কিন্তু তাতে বাদ সেধেছে ছানার দাম।
কান্দি, বহরমপুর ও ফরাক্কায় ছানার খোলা বাজার রয়েছে। বাজারের চাহিদা মতো ছানার দামও ওঠানামা করে। প্রয়োজনে যে কোনও মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী সেই বাজার থেকে বাড়তি ছানা কিনে নিতে পারেন। কিন্তু জঙ্গিপুর ও রঘুনাথগঞ্জ শহরে ৪৫টি মতো মিষ্টির দোকান থাকলেও কোনও ছানার বাজার নেই। ছানা আসে আশপাশের গোয়ালাদের থেকে। ফলে তাঁদের বেঁধে দেওয়া দামেই কিনতে হয় ছানা। জঙ্গিপুরে যাদব ইউনিয়নের দাপটে তাঁদের থেকে না নিয়ে কান্দি বা বহরমপুরের ছানা বাজার থেকে কোনও মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী প্রয়োজন মতো ছানা কিনে আনতে পারেন না। আর তাতেই ২০১০ সালের ৯৩ টাকার টাকার ছানা ৪ বছরেই ১৫৬তে এসে ঠেকেছে। অন্য সময়ে ছানা লাগে প্রায় ১২ কুইন্ট্যাল। পুজোর সময় সে চাহিদা ৩ গুণ বেড়ে যায়। শ’দেড়েক গোয়ালার জোগানের উপরই নির্ভর করতে হয় ব্যবসায়ীদের। ব্যবসায়ী সুমিত দাশগুপ্তের কথায়, ‘‘ছানা বাজার গড়ে না ওঠার ফলে ছানা নিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ছানার দাম বাড়ায় তাই মিষ্টির দামও বাড়াতে হচ্ছে। ক্রেতারা দু’চার দিন বলবেন। তারপর সয়ে যাবে তাদেরও।’’
যাদব সংগঠনের জঙ্গিপুরের দুগ্ধ ও ছানা শাখার সভাপতি আশিসতরু ঘোষ বলেন, ‘‘এখন এক লিটার জলের দাম ২০ টাকা। ৫০ টাকা লিটার দুধ। কাজেই ছানার ব্যবসায় সে ভাবে লাভ হয় না। বাপ ঠাকুরদার আমল থেকে যাঁরা দুধ ছানার ব্যবসা করে আসছেন তাঁরাই ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছেন।’’ তিনি আরও বলে, ‘‘নতুন প্রজন্মের কেউই এ ব্যবসায় আর আসতে চান না। কাজেই ছানার দাম না বাড়ানো ছাড়া কোনও উপায় নেই। তবে ভবিষ্যতে জঙ্গিপুরেও ছানার বাজার তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। তা হলে দুর্ভোগ কমবে।’’ তবে দাম বাড়লেও মিষ্টি ছাড়া বাঙালি যে চলতেই পারে না সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে দরবেশপাড়ার শাশ্বতী দাস বলছেন, ‘‘গত ৫ বছর থেকে মিষ্টির আকার ছোট হতে হতে হাতের তালুতে এসে ঠেকেছে। এক সময়ের রসগোল্লা এখন জঙ্গিপুরে উঠেই গিয়েছে। লেডিকেনি কোথাও মেলে না।’’ তাই বহু বাড়িতেই ছানার মিষ্টির জায়গা নিয়েছে লবঙ্গলতিকা, বালুসাই, পান মিঠার মতো ভাজা মিষ্টি। সঙ্গে যোগ হয়েছে মিহিদানা, ছানার পোলাও। তবে এগুলো ঠিক জঙ্গিপুরের মিষ্টি নয়।