Advertisement
E-Paper

রানাঘাটে জলপ্রকল্পের উদ্বোধনেও চাপানউতোর

রানাঘাট পুর-এলাকার জলের সমস্যা সমাধান করতে অবশেষে নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন হল। রানাঘাট শহর থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে চাকদহের মুকুন্দপুরে ভাগীরথীর পশ্চিমপাড়ে দু’টি এবং পূর্ব পাড়ে একটি রিজার্ভার নির্মাণ করা হবে। ভাগীরথীর জল পরিশ্রুত করে সেখান থেকেই পৌঁছে দেওয়া হবে শহরের সর্বত্র। রানাঘাটের প্রায় ২০ হাজার বাসিন্দা পানীয় জলের সংযোগ নিতে চান।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ জুলাই ২০১৪ ০১:১২

রানাঘাট পুর-এলাকার জলের সমস্যা সমাধান করতে অবশেষে নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন হল।

রানাঘাট শহর থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে চাকদহের মুকুন্দপুরে ভাগীরথীর পশ্চিমপাড়ে দু’টি এবং পূর্ব পাড়ে একটি রিজার্ভার নির্মাণ করা হবে। ভাগীরথীর জল পরিশ্রুত করে সেখান থেকেই পৌঁছে দেওয়া হবে শহরের সর্বত্র। রানাঘাটের প্রায় ২০ হাজার বাসিন্দা পানীয় জলের সংযোগ নিতে চান। কিন্তু এখনও পর্যন্ত হাজার চোদ্দো পরিবারকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে জলের সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। পুরসভার দাবি পানীয় জল প্রকল্পের কাজ শেষ হলেই বাকিদের সংযোগ দেওয়া হবে। শুধু বাড়িতে নয়, রাস্তার পাশের কলগুলিতেও জল সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে। গত শনিবার এই পানীয় জল প্রকল্পের উদ্বোধন করেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। উপস্থিত ছিলেন জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী পুণ্ডরীকাক্ষ সাহা এবং রানাঘাট পুরসভার পুরপ্রধান পাথর্সারথি চট্টোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানে পার্থবাবু বলেন, “শহরে পরিশ্রুত পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে। আমরা আশা করছি আগামী ২০১৬ সালে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে সেই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে।”

পুরসভা সূত্রে জানানো হয়েছে, বর্তমানে রানাঘাটে ১৪টি গভীর নলকূপ রয়েছে। সেই জলই ১৯টি ওয়ার্ডে সরবরাহ করা হয় দিনে পাঁচ বার। সকাল ৬ টায় দু’ঘণ্টা, সাড়ে ৯ টায় এক ঘণ্টা, দুপুর ১২টায় এক ঘণ্টা, বিকাল চারটেয় এক ঘণ্টা এবং সন্ধ্যা টায় এক ঘণ্টা জল সরবরাহ করা হয়।

তারপরেও জল পরিষেবা নিয়ে নাকাল শহরবাসী। ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের নাসড়াপাড়ার বাসিন্দা কোহিনুর বিবি বলেন, “বাড়িতে জল নেওয়ার জন্য ২০১১ সালের মার্চ মাসে পুরসভার কাছে লিখিত ভাবে আবেদন জানিয়েছিলাম। আজও সেই জলের লাইন আসেনি। অথচ,আমাদের এলাকায় পানীয় জলের যথেষ্ট সমস্যা রয়েছে। বেশ খানিকটা দূর থেকে জল নিয়ে এসে সব কাজ করতে হয়।” ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা লিপিকা হালদার বলেন, “পুরসভা থেকে এখন যে জল সরবরাহ করা হয় তা পানের অযোগ্য। অধিকাংশ সময়ই বাসন মাজার জন্য ব্যবহার করা হয়। তার উপর জল সরবরাহ অনিয়মিত। মাঝে-মাঝেই সরু হয় জল পড়ে, এক বালতি জল ভরতে দিন কেটে যায়।”

এই অবস্থায় প্রকল্প শেষ হতে আরও এক-দেড় বছর সময় লাগবে শুনে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপান-উতোরও। বিরোধী দলগুলি বলছে আসন্ন পুরভোটকে মাথায় রেখেই শাসকদল প্রকল্প উদ্বোধন করছে। এতদিন কিছুই নজরে পড়েনি। সিপিএম-র রানাঘাট লোকাল কমিটির সদস্য উদয়ন শর্মা বলেন, “শহরের পূর্ব পাড়ে (রেল লাইনের পূর্ব দিকে) পানীয় জলের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। এটা কারও অজানা নয়। বছরের পর বছর তা নিয়ে ভাবার সময় কারও হয়নি। এখন পুরসভা নির্বাচনের আগে ধুমধাম করে জল প্রকল্পের শিলান্যাস করা হল।” প্রদেশ কংগ্রেস সদস্য ও রানাঘাটের প্রাক্তন কাউন্সিলার দুলাল পাত্র বলেন, ২০১০ সালের আগে এই পুরসভা কংগ্রেসের দখলে ছিল। সেই সময় কেন্দ্রে ক্ষমতায় ছিল ইউপিএ-২ সরকার। আমাদের নেতা শঙ্কর সিংহের উদ্যোগে এই প্রকল্প বরাদ্দ হয়। অনেক দিন আগে টাকা এসে গেলেও কাজ শুরু হয়নি।”

ranaghat water project inaugaration
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy