Advertisement
E-Paper

হাসপাতালের ফটকে হরেক গাড়ির ভিড়, বিপাকে রোগীরা

বছর খানেক আগের ঘটনা। মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে শিশু মৃত্যুর ঘটনার সরেজমিনে তদন্তে আসেন স্বাস্থ্য ভবনের এক কর্তা। কিন্তু শিশু বিভাগের সামনে সার দিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে গুচ্ছের সাইকেল, মোটরবাইক, রিকশা, টুকটুক মায় চার চাকা গাড়ি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ ডিসেম্বর ২০১৫ ০১:৫১
মেডিক্যালের গেটের সামনে এ ভাবেই থাকে‌ গাড়ির ভিড়। বহরমপুরে গৌতম প্রামাণিকের তোলা ছবি।

মেডিক্যালের গেটের সামনে এ ভাবেই থাকে‌ গাড়ির ভিড়। বহরমপুরে গৌতম প্রামাণিকের তোলা ছবি।

বছর খানেক আগের ঘটনা। মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে শিশু মৃত্যুর ঘটনার সরেজমিনে তদন্তে আসেন স্বাস্থ্য ভবনের এক কর্তা। কিন্তু শিশু বিভাগের সামনে সার দিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে গুচ্ছের সাইকেল, মোটরবাইক, রিকশা, টুকটুক মায় চার চাকা গাড়ি। এত গাড়ির আধিক্যে হাসপাতালে ঢোকার রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ। ফলে ওই কর্তাকে গেটে গাড়ি রেখে ঢুকতে হয় ভিতরে। সেই স্বাস্থ্য কর্তা এখন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক। কিন্তু সে দিনের সেই পরিস্থিতির বিন্দুমাত্র বদল ঘটেনি। ভাগীরথী দিয়ে এত দিনে অনেক জল গড়িয়েছে। কিন্তু মেডিক্যাল কলেজের মূল ফটক আটকে গাড়ি রাখার ধারাবাহিকতায় ইতি পড়েনি। ফলে এখনও রোগীর বাড়ির লোকজনকে সমস্যায় পড়তে হয়। অ্যাম্বুল্যান্স রোগী নিয়ে হাসপাতালের ভিতরে ঢুকতে পারে না।

আগে শিশু বিভাগ ছিল সদর হাসপাতাল ক্যাম্পাসে। এখন তা রয়েছে নিউ জেনারেল হাসপাতাল ক্যাম্পাসে। নিউ জেনারেল হাসপাতাল ক্যাম্পাসে শিশু বিভাগের পাশাপাশি রয়েছে আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ। ফলে নিউ জেনারেল হাসপাতালের মূল ফটক দিয়ে রোগীর বাড়ির লোকজনের যাতায়াত আগের থেকে বহু মাত্রায় বেড়েছে বই কমেনি। রোগীর সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বেড়েছে হাসপাতালের মূল ফটকের বাইরে থাকা গাড়ির সংখ্যাও। সেখানে দু’চাকা থেকে শুরু করে চার চাকার গাড়ি গিজগিজ করে দিন রাত। ফলে মেডিক্যাল কলেজের প্রধান ভবন নিউ জেনারেল হাসপাতালের ক্যাম্পাসে থাকা জরুরি বিভাগে রোগীদের নিয়ে যেতে নাকানিচোবানি খেতে হয় রোগীর বাড়ির লোকজনদের। এই একই চিত্র দেখা যায় সদর হাসপাতাল ও মাতৃসদনেও।

দিনকয়েক আগে দুর্ঘটনায় হাত কেটে যায় বহরমপুরের যদুপুরের সোমনাথ মণ্ডল নামে এক কিশোরের। তড়িঘড়ি তাকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অ্যাম্বুল্যান্সে করে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু বিধি বাম। অ্যাম্বুল্যান্স হাসপাতালের গেটে ঢুকতেই আটকে‌ পড়ে। গেটের সামনে তখন শয়ে শয়ে গাড়ি। অনেক চেষ্টা করেও চালক অ্যাম্বুল্যান্স ভিতরে ঢোকাতে পারেননি। অগত্যা ওই কিশোরকে স্ট্রেচারে করে জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। এ নিয়ে ওই কিশোরের বাড়ির লোকজন ক্ষোভ প্রকশ করেন।

জরুরি বিভাগে ঢোকার ঠিক মুখেই ‘স্ট্রেচার’ বয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য দু-দিকে কংক্রিটের গড়ান রয়েছে। কিন্তু জরুরি বিভাগে যাওয়ার বাম দিকের গড়ানের শুরু পর্যন্ত ফাঁকা জায়গায় মোটরবাইক, সাইকেলে ভরিয়ে রাখেন রোগীর বাড়ির লোকজন। জেলা পরিষদের হাসপাতাল চত্বরেই গ্যারেজ তৈরি করে দিয়েছে। কিন্তু সেখানে সাইকেল না রেখে রোগীর পরিজনেরা সাইকেল রাখেন জরুরি বিভাগে ঢোকার মুখের বাম দিকে। ফলে স্ট্রেচারে করে রোগীকে বিনা বাধায় উপরে নিয়ে যাওয়া যায় না। অন্য দিকে ডান দিকের গড়ান থেকে জেলা ব্লাড ব্যাঙ্ক পর্যন্ত বিস্তৃত জায়গা দড়ি দিয়ে ঘিরে রেখেছে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল পাবলিক অ্যাম্বুল্যান্স অ্যাসোসিয়েশনের লোকজন। মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি প্রদীপ নন্দীর অনুগামীরা হাসপাতালের এলাকায় রাস্তা লাগায়ো জায়গায় দলীয় কার্যালয় খুলে বসেছেন। প্রদীপ নন্দী জানান, জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা রোগী ও রোগীর বাড়ির লোকজনদের সাহায্য করার জন্য তাঁদের ছেলেরা ওই কার্যালয় খুলেছে। অভিযোগ, শাসক দলের মদতে হাসপাতালের এ দিক সে দিকে গজিয়ে উঠেছে দোকান। রাস্তার জায়গা দখল করে তৈরি হওয়া দোকানের জন্য রোগী ও তাঁদের বাড়ির লোকজন যাতায়াত করতে পারছেন না। প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকা খরচ করে হাসপাতালের বড় নালার সংস্কার করা হয়। কিন্তু ওই সমস্ত দোকানের যাবতীয় নোংরা-আবর্জনা ফেলার কারণে কিছু দিনের মধ্যেই সেই নালা মজে গিয়েছে। মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার মণিময় বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য বলেন, ‘‘ওই দোকান ঘর গড়ে ওঠায় ফুলের গাছ লাগানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে তোলা হবে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy