E-Paper

মহিলা, যুব মোর্চায় ভরসা পুরনো মুখে, চর্চায় ভারসাম্য-নীতি

পুরো মেয়াদ শেষের আগে তনুজা চক্রবর্তীকে সরিয়ে ফাল্গুনী পাত্রকে মহিলা মোর্চার রাজ্য সভানেত্রী করা হয়েছিল। সেই থেকে প্রায় বছর তিনেক খুব একটা সক্রিয় নন তনুজা। তবে বিজেপির নব গঠিত রাজ্য কমিটিতে তনুজাকে সহ-সভাপতি পদে আনা হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:২৯

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি নির্বাচনের ছ’মাস পরে দলের রাজ্য কমিটি ঘোষণা হয়েছে। তার সঙ্গেই ঘোষণা হয়েছে মোর্চা সভাপতিদের নাম। আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে রদবদলে না-গিয়ে রাজ্য বিজেপির সাতটি মোর্চার মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ মহিলা এবং যুব মোর্চা নেতৃত্ব অপরিবর্তিত রয়েছে। বদল এসেছে সংখ্যালঘু, এসসি, এসটি, ওবিসি ও কিসান মোর্চায়। বিজেপি সূত্রে দাবি, মহিলা ও যুব মোর্চার নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ভারসাম্য রক্ষায়।

পুরো মেয়াদ শেষের আগে তনুজা চক্রবর্তীকে সরিয়ে ফাল্গুনী পাত্রকে মহিলা মোর্চার রাজ্য সভানেত্রী করা হয়েছিল। সেই থেকে প্রায় বছর তিনেক খুব একটা সক্রিয় নন তনুজা। তবে বিজেপির নব গঠিত রাজ্য কমিটিতে তনুজাকে সহ-সভাপতি পদে আনা হয়েছে। উল্টো দিকে, মহিলা মোর্চার অন্দরে বিভিন্ন বিষয়ে ফাল্গুনীর সঙ্গে শশী অগ্নিহোত্রীর শিবিরের টানাপড়েন নিয়ে চর্চা চলছিল বলে দাবি। সেই শশীকে মহিলা মোর্চা থেকে তুলে এনে দলের রাজ্য কমিটির সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ সম্পাদক পদে আনা হয়েছে। আবার,গত লোকসভা নির্বাচনে ব্যারাকপুর থেকে টিকিট না-পেয়ে ফাল্গুনী ‘ক্ষুব্ধ’ ছিলেন বলে দলীয় সূত্রে দাবি। মোর্চা সভাপতি পদে তাঁর পুনর্নির্বাচন সেই ক্ষোভ কমানোর চেষ্টা কি না, তা নিয়েও চর্চা রয়েছে। যদিও ফাল্গুনীর বক্তব্য, “আমাদের দলে ব্যক্তি নন, সংগঠন বড়। আমরা সকলে যে কাজ করছি, দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। তৃতীয় নয়ন সব সময় আমাদের উপরে লক্ষ্য রাখছে! পরিবর্তন বা থেকে যাওয়া, সবটা এই সূত্রেই হয়েছে।”

দলের মধ্যে যুব মোর্চার দৃশ্যমান কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও সংগঠনের রাজ্য সভাপতি হিসেবে থেকে গিয়েছেন ইন্দ্রনীল খাঁ। দলীয় সূত্রে ব্যাখ্যা, ‘কথা কম, কাজ বেশি’ নীতি মেনে ইন্দ্রনীল সংগঠনকে মণ্ডল স্তর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে পেরেছেন। এর আগে যুব মোর্চার মণ্ডল স্তর পর্যন্ত সাংগঠনিক কমিটি ছিল না। পাশাপাশি, ইন্দ্রনীলের নেতৃত্বেই সীমান্ত-এলাকায় রাত্রিবাস, ২৯৪টি কেন্দ্রে চাটাই বৈঠক, ‘নমো যুব ওয়ারিয়র্স’, যুব বক্তা তৈরির জন্য বিধানসভায় শিবির করার মতো বিভিন্ন কর্মসূচিও নজর কেড়েছে শীর্ষ নেতৃত্বের।

বাকি পাঁচ মোর্চায় রাজ্য সভাপতি বদল হয়েছে। সংখ্যালঘু, এসসি, এসটি, ওবিসি এবং কিসান মোর্চায় রাজ্য সভাপতি হয়েছেন যথাক্রমে আলি হোসেন, সুজিত বিশ্বাস, খগেন মুর্মু, শুভেন্দু সরকার, রাজীব মল্লিক। প্রসঙ্গত, কিসান মোর্চার প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি মহাদেব সরকারকে রাজ্য বিজেপির সম্পাদকপদে আনা হয়েছে। দলের সংখ্যালঘু মোর্চার সভাপতি ছিলেন চার্লস নন্দী। দলের অভ্যন্তরে এত দিন প্রশ্ন ছিল, যেখানে পশ্চিমবঙ্গে জনসংখ্যার একটা বড় অংশ মুসলিম, সেখানে সংখ্যালঘু মোর্চার সভাপতি পদে মুসলিম নেই কেন? এই সূত্র ধরেই সংখ্যালঘু মোর্চার সভাপতি করা হয়েছে দলের দীর্ঘদিনের কর্মী তথা কোচবিহারের নেতা আলি হোসেনকে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

BJP Morcha BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy