আগের ম্যাচে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে আইপিএলের ইতিহাসে নিজেদের সবচেয়ে বড় জয় পেয়েছিল চেন্নাই সুপার কিংস। ফলে রবিবার ঘরের মাঠে গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে আত্মবিশ্বাস নিয়ে নেমেছিল তারা। কিন্তু ম্যাচে অন্য ছবি দেখা গেল। প্রথম ১০ ওভারে চেন্নাইয়ের ব্যাটিং তাদের হারিয়ে দিল। সেখানেই খেলা থেকে বেরিয়ে গেল তারা। বোঝা গেল, সঞ্জু স্যামসন শুরুতে রান না পেলে এই দলের জেতা কঠিন। অন্য দিকে জোড়া হারের পর জয়ে ফিরে স্বস্তি পেলেন শুভমন গিল। গুজরাতের জয়ের নায়ক সাই সুদর্শন।
প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫৮ রান করে চেন্নাই। ৬০ বলে অপরাজিত ৭৪ রান করেন অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড়। কিন্তু তা কাজে লাগেনি। সাই সুদর্শনের ৮৭ রানে ভর করে ২০ বল বাকি থাকতে ৮ উইকেটে ম্যাচ জিতে যায় গুজরাত।
আগের কয়েকটি ম্যাচে চেন্নাইয়ের ব্যাটিং টেনেছিলেন সঞ্জু স্যামসন। কিন্তু এই ম্যাচে ব্যর্থ তিনি। শুরু থেকেই মারতে পারছিলেন না। কাগিসো রাবাডার বলে ১১ রানের মাথায় খোঁচা মেরে আউট হন তিনি। ১১ রান করতে ১৫ বল নেন সঞ্জু। এই ম্যাচে আয়ুষ মাত্রের পরিবর্তে উর্বিল পটেলকে খেলায় চেন্নাই। ৪ রান করে রাবাডার বলেই আউট হন তিনি। সরফরাজ় খানকে প্রথম বলেই শূন্য রানে আউট করেন মহম্মদ সিরাজ। রান পাননি ডেওয়াল্ড ব্রেভিসও। গুজরাতের বাঁহাতি স্পিনার মানব সুথারের বলে ২ রানে আউট হন তিনি।
পর পর উইকেট পড়ায় পাওয়ার প্লে-তে মাত্র ২৮ রান হয় চেন্নাইয়ের। ব্রেভিস যখন ফিরছেন তখন দলের স্কোর ৮.২ ওভারে ৩৭/৪। দেখে মনে হচ্ছিল, ১০০ রান পার করতে সমস্যায় পড়বে তারা। সেখান থেকে দলের ইনিংস টানেন অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড় ও শিবম দুবে।
শুরুতে রুতুরাজ খুব ধীরে খেলছিলেন। অপর প্রান্তে পর পর উইকেট পড়ায় ঝুঁকি নিতে পারেননি। ১২-১৩ ওভারের পর থেকে রান তোলার গতি বাড়ায় চেন্নাই। রশিদ খান এক ওভারে ২১ রান দেন। সেই ওভার চেন্নাইয়ের রান তোলার গতি বাড়িয়ে দেয়। যদিও শিবম বেশি ক্ষণ থাকেননি। ১৭ বলে ২২ রান করে আরশাদ খানের বলে বোল্ড হন তিনি।
কার্তিক শর্মা নেমে হাত খুলে মারছিলেন। ৯ বলে ১৫ রান করেন তিনি। কিন্তু তত ক্ষণে ছন্দে রুতুরাজ। শেষ দিকে একের পর এক বড় শট মারেন। চেন্নাইয়ের রান শুধু ১০০ নয়, ১৫০ পার করান তিনি। রুতুরাজকে সঙ্গ দেন জেমি ওভারটন। ৬ বলে ১৮ রান করেন এই অলরাউন্ডার। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫৮ রান করে চেন্নাই। রতুরাজ ৬০ বলে ৭৪ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষ ১০ ওভারে ১১৫ রান করে চেন্নাই। রতুরাজ দলকে ভদ্রস্থ স্কোরে নিয়ে যান।
আরও পড়ুন:
১৫৮ রান করে জিততে হলে শুরুতেই উইকেট তুলতে হত চেন্নাইকে। কিন্তু পাওয়ার প্লে-তে উইকেট নিতে পারেননি চেন্নাইয়ের বোলারেরা। সাই সুদর্শন ও শুভমন গিল বল দেখে খেলছিলেন। লক্ষ্য বেশি না থাকায় তাড়াহুড়ো করতে হয়নি তাঁদের। ফিল্ডিংয়ের ফাঁক দেখে শট মারছিলেন দু’জনে। পাওয়ার প্লে-তে বিনা উইকেটে ৫৫ রান করে গুজরাত। সেখানেই খেলা চেন্নাইয়ের হাত থেকে বেরিয়ে যায়।
গুজরাতের ওপেনিং জুটি ভাঙেন নুর আহমেদ। শুভমনকে এগিয়ে আসতে দেখে লেগ সাইডে বল করেন তিনি। বল ওয়াইড হয়। কিন্তু শুভমনকে ভাল স্টাম্প আউট করেন সঞ্জু। ২৩ বলে ৩৩ রান করে আউট হন গুজরাতের অধিনায়ক। আগের ম্যাচে শতরান করা সুদর্শন ভাল খেলছিলেন। বড় শট মারার পাশাপাশি দৌড়েও রান নিচ্ছিলেন।
চেন্নাইয়ের মাঠে এ দিনের ম্যাচের পিচে ব্যাট করা ততটা সহজ ছিল না। পিচে গতি কম ছিল। ফলে বলের গতি কম রাখলে শট মারতে সমস্যা হচ্ছিল। সুদর্শন ও জয় বাটলার ক্রিজ় থেকে বেরিয়ে খেলছিলেন। শেষ ১০ ওভারে গুজরাতের জিততে দরকার ছিল ৭৭ রান। হাতে ছিল ৯ উইকেট। ফলে উইকেট তুলতে না পারলে চেন্নাইয়ের জেতার সুযোগ ছিল না। প্রথম ১০ ওভারেই ছয় বোলার ব্যবহার করেন রুতুরাজ। হাতের সব তাস খেলে ফেলেন তিনি।
কিন্তু উইকেট ফেলতে পারছিল না চেন্নাই। আগের ম্যাচে শতরানের পর এই ম্যাচে অর্ধশতরান করেন সুদর্শন। পরিণত ইনিংস খেলেন তিনি। সুদর্শন ও বাটলার জানতেন, এই পিচে নেমে নেমেই বড় শট খেলা কঠিন। ফলে তাঁরা খেলা শেষ করে আসার চেষ্টা করছিলেন। বুদ্ধি করে রান করছিলেন দুই ব্যাটার।
খেলা যত গড়াচ্ছিল, তত জয় থেকে দূরে যাচ্ছিল চেন্নাই। শেষ দিকে রান তোলার গতি বাড়িয়ে দেন গুজরাত। তখন নেট রানরেটের অঙ্ক ঘুরছিল তাঁদের মাথায়। ৪৬ বলে ৮৭ রান করে আউট হন সুদর্শন। তত ক্ষণে খেলা প্রায় জিতে গিয়েছে গুজরাত। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ম্যাচ জিতে যায় গুজরাত। বাটলার ৩০ বলে ৩৯ রানে অপরাজিত থাকেন।
এই জয়ের ফলে পয়েন্ট তালিকায় দিল্লি ও চেন্নাইকে টপকে পাঁচ নম্বরে উঠল গুজরাত। আট ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৮। আট ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচ থেকে ছ’নম্বরে নামল চেন্নাই।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ২৮ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতা। গত বছর প্রয়াত ১১ সমর্থকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ বার হয়নি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
- এখনও পর্যন্ত আইপিএলের গ্রুপ পর্বের ৭০টি ম্যাচের সূচি ঘোষণা হয়েছে। প্রথমে ২০টি ম্যাচের সূচি জানিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। পরে বাকি ৫০টি ম্যাচেরও সূচি ঘোষণা করেছে তারা। তবে প্লে-অফের সূচি এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
- আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি, পাঁচ বার করে ট্রফি জিতেছে চেন্নাই সুপার কিংস এবং মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। কলকাতা নাইট রাইডার্স জিতেছে তিন বার। গত বছর প্রথম বার ট্রফি জিতেছিল বেঙ্গালুরু।
-
১৯:২২
দু’ম্যাচেই পড়ল ১৬ ক্যাচ! নতুন রোগ ছড়াচ্ছে আইপিএলে, কেন পড়ছে এত ক্যাচ, কারণ খুঁজল আনন্দবাজার ডট কম -
সরাসরি
১৯:০১
লখনউয়ের বিরুদ্ধে টসে হারলেন রাহানে, প্রথমে ব্যাট করবে কেকেআর, সুযোগ দেওয়া হল না পাথিরানাকে -
১৪:০৬
কয়েক ঘণ্টায় চার বার মালিকানা বদল আইপিএলের কমলা টুপির! কার মাথায় কতক্ষণ থাকল সবচেয়ে বেশি রান করার তাজ? -
১২:১৯
কেকেআর সবার শেষে থাকলেও নেতা রাহানে ‘লাস্ট বয়’ নন! আইপিএলের ১০ অধিনায়কের মার্কশিট, কে কোথায় -
০৯:০৭
দ্বিতীয় জয়ের লক্ষ্যে কেকেআর, রবিবার লখনউয়ের বিরুদ্ধে দুই নতুন বিদেশি নিয়ে খেলতে নামার সম্ভাবনা রাহানেদের