E-Paper

গ্রুপ ডি: বাড়তি নম্বরে অসন্তোষ

পরীক্ষার্থীরা জানাচ্ছেন, গ্রুপ ডি-র লিখিত পরীক্ষায় ৪০ নম্বর ধার্য করা হয়েছে। এর পর পাঁচ নম্বর ইন্টারভিউ এবং পাঁচ নম্বর অভিজ্ঞতার জন্য ধার্য।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ মার্চ ২০২৬ ০৮:০৮
মধ্য হাওড়ার একটি পরীক্ষা কেন্দ্রে।

মধ্য হাওড়ার একটি পরীক্ষা কেন্দ্রে। ছবি: দীপঙ্কর মজুমদার

আট লক্ষের কিছু বেশি পরীক্ষার্থী। শূন্যপদ সাড়ে পাঁচ হাজারের মতো। কঠিন এই প্রতিযোগিতায় অভিজ্ঞরা পাঁচ নম্বর পেয়ে এগিয়ে থাকবেন কেন? রবিবারের গ্রুপ ডি পদে পরীক্ষা দিতে এসে নতুনদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করলেন।

শ্যামবাজারের মণীন্দ্র কলেজে গোবরডাঙা কলেজ থেকে একদল কলেজ ছাত্র পরীক্ষা দিতে এসেছেন। তাঁরা কেউ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র, কেউ বা তৃতীয় বর্ষের। সবাই জীবনে প্রথম বার সরকারি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসলেন। তাঁরা জানান, প্রশ্ন মোটামুটি সহজ। কিন্তু তাঁদের মতো নতুনরা কি শেষ পর্যন্ত সুযোগ পাবেন? কারণ এই গ্রুপ ডি পরীক্ষাতেও তো অভিজ্ঞদের জন্য পাঁচ নম্বর বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এগিয়ে তো অভিজ্ঞরাই।

পরীক্ষার্থীরা জানাচ্ছেন, গ্রুপ ডি-র লিখিত পরীক্ষায় ৪০ নম্বর ধার্য করা হয়েছে। এর পর পাঁচ নম্বর ইন্টারভিউ এবং পাঁচ নম্বর অভিজ্ঞতার জন্য ধার্য। অর্থাৎ মোট নম্বর ৫০। এর মধ্যে পাঁচ নম্বর, অর্থাৎ দশ শতাংশ নম্বর অভিজ্ঞরা আগে থেকে পেয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের মতে, গ্রুপ সি-তে অভিজ্ঞরা পাঁচ নম্বর পেলেও সেখানে বরং নতুনদের সুযোগ বেশি। কারণ, গ্রুপ সি-তে মোট নম্বর ১০০।

দমদমের পরীক্ষার্থী সায়নী দাস বলেন, “প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সব পরীক্ষার্থীর ক্ষেত্রে সমতা থাকলে আরও ভাল হত। এক দল এগিয়ে শুরু করলে আমরা তো পিছিয়ে পড়বই।” কলেজ ছাত্র, পরীক্ষার্থী সৌরভ মুখোপাধ্যায় বলেন, “এমনিতেই কঠিন প্রতিযোগিতা। অভিজ্ঞরা পাঁচ নম্বর পেয়ে এগিয়ে থাকা মানে জীবনের প্রথম সরকারি পরীক্ষার দৌড় শুরু করলাম কিছুটা পিছন থেকে।” অভিষিক্তা সরকার নামে এক নতুন পরীক্ষার্থীর মতে, “দুর্নীতির জন্য ২০১৬ সালের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের প্যানেল বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে যে সব গ্রুপ ডি কর্মীর নাম দাগীদের তালিকায় নেই তাঁরাও এই পরীক্ষায় বসেছেন। তাঁরাও অতিরিক্ত পাঁচ নম্বর পাচ্ছেন। আমরা চেয়েছিলাম নতুনদের জন্য আলাদা পরীক্ষা হোক।”

২০১৬ সালের গ্রুপ ডি চাকররিহারা শিক্ষাকর্মী, যাঁদের নাম দাগীদের তালিকায় তালিকায় ওঠেনি, তাঁদের মধ্যে অমিত মণ্ডল এ বার গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি পরীক্ষা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “গ্রুপ ডি-তে আমাদের জন্য আলাদা করে পাঁচ নম্বর ধার্য থাকলেও প্রতিযোগিতা কিন্তু খুব কঠিন। আমাদের যাঁরা পরীক্ষা দিচ্ছেন তাঁদের ১১ মাসের বেতন নেই। কেউ মুদির দোকানে, কেউ টিউশন পড়িয়ে দিন গুজরান করছেন। পড়ার সময় পাইনি। আমাদের দাবি, যত দ্রুত সম্ভব ফল বার করে নিয়োগ শেষ করতে হবে।”

এসএসসি জানিয়েছে, এ দিনের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে হয়েছে। উত্তরবঙ্গে কয়েকটি জেলা, বিশেষ করে মালদহের কয়েকটি কেন্দ্র থেকে বেশ কিছু মোবাইল ফোন পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই উদ্ধার হয়েছে। এসএসসির এক কর্তা বলেন, “এদিনও বেশ কিছু পরীক্ষার্থী মোবাইল আনায় পরীক্ষা বাতিল হয়েছে।” শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু তাঁর এক্স হ্যান্ডলে জানান, ‘আট লক্ষ ১৭ হাজার ৩৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮৬ শতাংশ পরীক্ষায় হাজির ছিলেন। তার মধ্যে ২৭৫১ জন ভিন্ রাজ্যের। এর মধ্যে আছেন পাশ্ববর্তী বিহার, উত্তর প্রদেশের পরীক্ষার্থীও।’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

School service commission

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy