গোলমাল ঠেকাতে বিধানসভার চলতি অধিবেশনেই কঠোর আইন আনার কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার নবান্নে স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষকে সঙ্গে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এমন আইন হবে, যাতে অপরাধ করার আগে অন্তত পাঁচ বার ভাববে দুষ্কৃতীরা। ঘটনাচক্রে, গত ১৬ জুন ফলতার ঘটনার পরে সরকারের এমন পদক্ষেপের কথা জানা গেল।
গ্রেফতার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের মুক্তির দাবিতে ফলতায় ব্যাপক গোলমাল হয়। ওই দিন জাহাঙ্গিরের স্ত্রীয়ের নেতৃত্বে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। অভিযোগ, সেখানেই পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের উপরে চড়াও হয়েছিল দুষ্কৃতীরা। পাল্টা লাঠিচার্জও করে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। পালাতে গিয়ে পুকুরে ঝাঁপ দিতেও দেখা যায় অনেককে। সেই ঘটনায় তিনটি মামলা রুজু হয়েছে। তাতে সব মিলিয়ে ২৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী জানান, অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে এবং তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিপূরণ আদায় করবে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ফলতায় এক জন দুষ্কৃতী-মাফিয়ার মুক্তির দাবিতে সেখানে একটা ঘটনা ঘটেছিল। সেই সংক্রান্ত মামলায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার উপযুক্ত ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে। এই হামলা রাষ্ট্র বিরোধিতার মতো। যদিও তারা সফল হয়নি। খুব শক্ত হাতে মোকাবিলা করেছে পুলিশ এবং আধা সেনা।’’ এই সূত্রেই তাঁর সংযোজন, ‘‘আরও কঠোর আইন আনছে স্বরাষ্ট্র দফতর।’’ অতীতে আসানসোলের একটি ঘটনায় অভিযুক্তদের থেকেই ভাঙচুর হওয়া সরকারি সম্পত্তির দাম উদ্ধারকরেছিল সরকার।
নতুন আইনে কী বলা থাকবে, তা নিয়ে অবশ্য কিছু স্পষ্ট করেননি মুখ্যমন্ত্রী। জানান, বিধানসভা চলাকালীন আইনের খুঁটিনাটি আগে থেকে বলে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে আধিকারিকদের একাংশের মতে, এমন বিক্ষোভ এবং অশান্তি ঠেকাতে যে আইন কার্যকর করার পরিকল্পনা করছে সরকার, তাতে পুলিশের হাত আরও শক্ত হবে। ফলে এমন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে সরকার। অতীতে পার্ক সার্কাসের একটি গোলমালের ঘটনার পরে মুখ্যমন্ত্রী রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন অভিযুক্তদের। এ বার নতুন আইনের ঘোষণা তাই তাৎপর্যপূর্ণ।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)