Advertisement
E-Paper

কাঁকসার সেই ছাত্রকে দিল্লিতে টানা জেরা এনআইএ-র

কাঁকসার পলিটেকনিক কলেজের ছাত্র আসিক আহমেদকে এ বার দিল্লি নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। তাদের দাবি, হুগলির ধনেখালির বাসিন্দা আসিক ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গি সংগঠনের দিকে ঝুঁকেছিলেন বলে প্রাথমিক ভাবে প্রমাণ মিলেছে। সোমবার রাতে বিমানে আসিককে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়।

সুরবেক বিশ্বাস

শেষ আপডেট: ০১ মার্চ ২০১৬ ১৬:৫৫

কাঁকসার পলিটেকনিক কলেজের ছাত্র আসিক আহমেদকে এ বার দিল্লি নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। তাদের দাবি, হুগলির ধনেখালির বাসিন্দা আসিক ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গি সংগঠনের দিকে ঝুঁকেছিলেন বলে প্রাথমিক ভাবে প্রমাণ মিলেছে। সোমবার রাতে বিমানে আসিককে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়। জয় সিংহ রোডে এনআইএ-র সদর দফতরে মঙ্গলবার সকাল থেকে আসিককে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

গোয়েন্দাদের একাংশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন তাঁদের সঙ্গে আসিক সহযোগিতা করছেন।

এনআইএ জানিয়েছে, আসিকের এটা দ্বিতীয় দফার জিজ্ঞাসাবাদ। ১৯ বছরের ওই তরুণকে গ্রেফতার করা হবে না কি ছেড়ে দিয়ে নজরদারিতে রাখা হবে, সেই ব্যাপারে এই দফার জেরার পরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এক তদন্তকারী অফিসার বলেন, ‘‘গত ২৩ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি আসিককে সল্টলেকে এনআইএ-র শাখা অফিসে প্রথম দফায় জেরা করা হয়। ওই দফায় মূলত তাঁর বক্তব্য বা জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। আর এ বার আমাদের হাতে আসা বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ এবং আইএস যোগে জানুয়ারি মাসে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধৃত ২২ জনের কেউ কেউ তাঁর সম্পর্কে যা যা তথ্য দিয়েছেন, সেগুলো তুলে ধরে জেরা করা হবে।’’

আরও পড়ুন

তরুণদের দলে টানতে ভিডিও আইএমের

এনআইএ-র একটি সূত্রের খবর, এই দফায় জিজ্ঞাসাবাদের সময়ে কর্নাটকের টুমাকুরু জেলার বাসিন্দা সৈয়দ মুজাহিদ ও হায়দরাবাদের মহম্মদ নাফিস খান ওরফে আক্রমের মুখোমুখি বসিয়ে আসিককে জেরা করা হবে। তদন্তকারীদের বক্তব্য, প্রথম দফায় জিজ্ঞাসাবাদের সময়েই আসিক জানিয়েছে, হায়দরাবাদ থেকে নাফিস জানুয়ারি মাসে কাঁকসার কাছে এক জায়গায় এসে আসিকের সঙ্গে দেখা করে গিয়েছিল। একটি সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের চ্যাটে নাফিস ও মুজাহিদের সঙ্গে আসিকের সব চেয়ে বেশি যোগাযোগ ছিল।

কিন্তু বাঙালি ওই ছাত্রকে কি আইএস জঙ্গি বা আইএস- মনোভাবাপন্ন বলে মনে করছে এনআইএ?

এক তদন্তকারী অফিসার বলেন, ‘‘আসিকের দিক থেকে নিশ্চয়ই ইতিবাচক সাড়া মিলেছিল। না হলে ওরা ওই ছাত্রের সঙ্গে এত বেশি করে যোগাযোগ রাখবে কেন? এমনকী, পশ্চিমবঙ্গে এসে ওর সঙ্গে দেখাও করে গেল নাফিস।’’ ওই গোয়েন্দা-অফিসারের কথায়, ‘‘আইএস এমন ভাবে বহু লোককেই টোপ দেয়। অনেকে গেলে না। আসিক কিন্তু টোপটা গিলেছিল। সে ক্ষেত্রে আমরা আসিককে আইএসের ওই মডিউল বা গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত বলেই মনে করব।’’

তবে এনআইএ-রই আর এক অফিসার বলছেন, ‘‘আমাদের মনে হয়েছে, আসিক অপরিণতমনস্ক। কৌতূহল ও আবেগ থেকেই যতটুকু এগোনোর, এগিয়েছিল। কোনও দায়িত্ব নেওয়ার পক্ষে আসিক কতটা উপযুক্ত, সেটা যাচাই করে দেখতেই নাফিস এখানে এসেছিল। কিন্তু কোনও দায়িত্ব ওকে দেওয়া হয়েছিল বলে এখনও মনে হচ্ছে না।’’

এনআইএ-র সদর দফতরের গোয়েন্দারা মামলাটির তদন্ত করছেন। তাঁরাই নাফিস ও মুজাহিদের কাছ থেকে আসিকের নাম পেয়েছেন। তবে এনআইএ-র পশ্চিমবঙ্গ শাখার অফিসারদের একাংশ আসিককে গ্রেফতার করার পক্ষপাতী নন।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy