মালদহের মোথাবাড়িতে এসআইআরের কাজে নিযুক্ত বিচারকদের আটকে রাখার ঘটনায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-কে দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। দু’মাস সময়ও বেঁধে দেওয়া হল। ওই মামলার শুনানিতে সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, এসআইআরের কাজে নিযুক্ত বিচারকদের নিরাপত্তা আপাতত অব্যাহত থাকবে। যাঁদের ক্ষেত্রে হুমকির আশঙ্কা নেই বলে পুলিশ-সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনে করবেন, তাঁদের নিরাপত্তা তুলে নেওয়ার ক্ষেত্রে উপযুক্ত পদক্ষেপ করা যাবে।
মোথাবাড়ি-কাণ্ডে সোমবার সুপ্রিম কোর্টে তদন্তের স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিয়েছে এনআইএ। তাদের আইনজীবী জানান, তদন্ত চলছে। পরবর্তী শুনানির দিন সর্বশেষ স্টেটাস রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে। এনআইএর উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘‘তদন্ত শেষ হয়ে থাকলে চার্জশিট জমা দিন।’’ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, তদন্তকারী সংস্থাকে দ্রুত তদন্ত শেষ করতে হবে এবং সম্ভব হলে আগামী দু’মাসের মধ্যে তা সম্পূর্ণ করতে হবে। আইন নিজস্ব পথে চলবে। আপাতত বিচারকদের নিরাপত্তা অব্যাহত থাকবে। যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনে করেন, কারও হুমকির আশঙ্কা নেই, তবে উপযুক্ত পদক্ষেপ করতে পারবে। বিচারকদের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন পুলিশ সুপার। তাঁরা মনে করলে নিরাপত্তা প্রত্যাহারের বিষয়ে পদক্ষেপ করতে পারবেন।
আরও পড়ুন:
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে গত এপ্রিলে দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল মালদহের মোথাবাড়ি, সুজাপুর-সহ বিভিন্ন এলাকা। এসআইআরের কাজে নিযুক্ত সাত জন বিচারককে কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসের ভিতরে রাত পর্যন্ত আটকে রেখেছিল উত্তেজিত জনতা। সেই বিষয় গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। মামলাটি শুনেছিল প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে এনআইএ জানায়, মোথাবাড়ির ঘটনার মূল চক্রান্তকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার আগের কয়েক দিনে তারা কী তদন্ত করেছে, তার স্টেটাস রিপোর্টও জমা দেয় এনআইএ। প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন করেছিলেন, ‘‘এখন আমরা জানতে চাই, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কারও কোনও রাজনৈতিক যোগসূত্র ছিল কি? আমরা চাই না, বিষয়টি শুধু কাগজেকলমে সীমাবদ্ধ থাকুক।’’
এ বার এনআইএ-কে দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দিল সু্প্রিম কোর্ট।