E-Paper

স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ‘সিন্ডিকেট রাজ’ নয়, বৈঠকে বার্তা

প্রায় আড়াই ঘণ্টার বৈঠকে মূলত মেডিক্যাল এডুকেশন সার্ভিস, হেলথ সার্ভিস, মেডিক্যাল পড়ুয়াদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা এবং বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের বিষয়ে বিশদে আলোচনা হয়েছে। কিছুটা আলোচনা হয়েছে ডেন্টাল সার্ভিস ও ফার্মাসি কাউন্সিলের বিষয়েও।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ মে ২০২৬ ০৭:৫০

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

দীর্ঘ দিন ধরেই বিশেষ ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর অঙ্গুলিহেলনে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বদলি, পোস্টিং নিয়ে স্বজনপোষণ, প্রতিহিংসার অভিযোগ রয়েছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় কোনও ‘সিন্ডিকেট-রাজ’ চলবে না বলে সোমবার স্বাস্থ্য কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বার্তা দিলেন বিজেপির ন’জন বিধায়ক-চিকিৎসক। তাঁদের দাবি, রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এত বছর ধরে যে দুর্নীতি, কাটমানি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ রয়েছে, তা দূর করতে মুখ্যমন্ত্রীর ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি আধিকারিকদের সামনে স্পষ্ট করা হয়েছে। পাশাপাশি, মেডিক্যাল কলেজগুলিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

সরকারি চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের একাংশের দাবি, ‘‘দীর্ঘ দিন ধরে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আনাচেকানাচে যে ঘুণ জমেছে, তা এক বার দূর করলেই হবে না। বরং ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।’’ সোমবার স্বাস্থ্য ভবনে স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম-সহ অন্যান্য শীর্ষ কর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন বিজেপির বিধায়ক-চিকিৎসক ইন্দ্রনীল খাঁ, শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, অরূপকুমার দাস, সুময় হিরা, বিজন মুখোপাধ্যায়, অজয় পোদ্দার, পীযূষকান্তি দাস, হরেকৃষ্ণ বেরা ও প্রণত টুডু।

প্রায় আড়াই ঘণ্টার বৈঠকে মূলত মেডিক্যাল এডুকেশন সার্ভিস, হেলথ সার্ভিস, মেডিক্যাল পড়ুয়াদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা এবং বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের বিষয়ে বিশদে আলোচনা হয়েছে। কিছুটা আলোচনা হয়েছে ডেন্টাল সার্ভিস ও ফার্মাসি কাউন্সিলের বিষয়েও। শারদ্বত বলেন, ‘‘সদর্থক আলোচনা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে। তাঁর নির্দেশ মতো পরবর্তী পদক্ষেপ হবে।’’ আবার ইন্দ্রনীল জানান, আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে শুরু করে সম্প্রতি পুরুলিয়ায় নিগ্রহের ঘটনা প্রমাণ করছে এখনও চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীরা কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ নন। তাঁর কথায়, ‘‘স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান মানুষের কাছে আরোগ্য মন্দির, তা কখনও কোনও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রিত হতে পারে না।’’

পাশাপাশি, মেধার ভিত্তিতে কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে সিনিয়র রেসিডেন্টদের নিয়োগ নিশ্চিতের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্য দিকে, জঙ্গলমহলের স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামোর উন্নয়নে বেলপাহাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালের শয্যা ৬০ থেকে ১০০টি করা, ট্রমা কেয়ার পরিষেবা চালু এবং সরকারি হাসপাতালে নির্দিষ্ট সময়ে বহির্বিভাগ চালুর বিষয়টিও তুলে ধরেন বিনপুরের বিধায়ক চিকিৎসক প্রণত টুডু।

বৈঠকের শেষে ইন্দ্রনীলের হাতে তাঁদের দীর্ঘ দিনের বঞ্চনার বিষয়টি লিখিত ভাবে তুলে দেন পশ্চিমবঙ্গ আশাকর্মী সংগঠনের সদস্যেরা। আবার আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও নিজের জেলার পোস্টিংয়ের ক্ষেত্রে স্বজনপোষণের অভিযোগ জানান ‘অক্সিলিয়ারি নার্স মিডওয়াইফারি’ বা ‘এএনএম’-রা।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

West Bengal health department West Bengal government Syndicate Raj

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy