Advertisement
E-Paper

আমলাগিরি নয়, পড়াতে চান প্রধান শিক্ষকেরা

শ্যাম রাখি না কূল!পেশা-পরিচয়ে ওঁরা শিক্ষক। তার থেকে একটু বেশিই— শিক্ষকদের প্রধান। কিন্তু প্রশাসনিক চাপের মুখে সেই শিক্ষকতাটাই আর করা হয়ে উঠছে না প্রধান শিক্ষকদের।

সুপ্রিয় তরফদার

শেষ আপডেট: ০৯ মার্চ ২০১৭ ০৪:২৩
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

শ্যাম রাখি না কূল!

পেশা-পরিচয়ে ওঁরা শিক্ষক। তার থেকে একটু বেশিই— শিক্ষকদের প্রধান। কিন্তু প্রশাসনিক চাপের মুখে সেই শিক্ষকতাটাই আর করা হয়ে উঠছে না প্রধান শিক্ষকদের। টানা ১০-১৫ বছর প্রধান শিক্ষকের পদে রয়েছেন, এমন অনেকেরই আক্ষেপ, ‘‘হরেক সরকারি প্রকল্পের চাপে শিক্ষকতাটাই করা হয়ে উঠল না!’’

শিক্ষকেরা কে কখন আসছেন, কে কেমন ক্লাস নিচ্ছেন, তা ঘুরে ঘুরে দেখাটাও প্রধান শিক্ষকদের কাজের অঙ্গ। কিন্তু সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের হিসেব রাখতে আর সইসাবুদ করতে করতেই দিন কেটে যাওয়ায় স্কুলে সেই দৈনন্দিন পরিদর্শনের কাজটাও ঠিকমতো করা হচ্ছে না বলে খেদ প্রকাশ করছেন অনেক প্রধান শিক্ষক। পড়ানো দূরের কথা, প্রশ্নপত্র কেমন হল, অনেক প্রধান শিক্ষক প্রায়শই তা খতিয়ে দেখার কাজটাও করে উঠতে পারেন না। এক প্রধান শিক্ষকের মন্তব্য, ‘‘এখন আমাদের যে-কাজ করতে হয়, সেটা কোনও আমলাই করে দিতে পারেন। তার জন্য কোনও শিক্ষকের প্রয়োজন নেই।’’ বিভিন্ন আমলাতান্ত্রিক কাজের চাপে স্কুলে পড়াশোনা কেমন হচ্ছে, তা দেখা সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ অনেক প্রধান শিক্ষকেরই।

এই আমলাতান্ত্রিক কাজের ফাঁস থেকে বেরিয়ে অনেক প্রধান শিক্ষক এখন শিক্ষকতাই করতে চাইছেন। কী ভাবে তা সম্ভব, তার উপায় খুঁজতে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হতে চলেছে প্রধান শিক্ষকদের স‌ংগঠন। স্কুলে পঠনপাঠনের মান বজায় রাখতে গেলে দ্রুত ভিন্ন প্রশাসক নিয়োগের প্রয়োজন বলে অভিমত শিক্ষক শিবিরের।

‘‘স্কুলশিক্ষা দফতর থেকে প্রায়ই নির্দেশ আসে, সবুজ সাথীর তালিকা যথাযথ ভাবে তৈরি করতে হবে। দেখতে হবে মিড-ডে মিল, সর্বশিক্ষা অভিযান-সহ যাবতীয় প্রকল্পের কাজকর্ম। সব মিলিয়ে পঠনপাঠনের দিকে নজরই দিতে পারছেন না প্রধান শিক্ষকেরা,’’ আক্ষেপের সুরে বলছেন পশ্চিমবঙ্গ প্রধান শিক্ষক সমিতির সম্পাদক নীহারেন্দু চৌধুরী।

অথচ শিক্ষাজগতের বক্তব্য, প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নেওয়ার সময়ে বলে দেওয়া হয়, প্রত্যেককে ক্লাস করতেই হবে। কারণ শিক্ষক হিসেবে প্রধান কাজটাই হল পড়ানো। পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজ করার কথাও বলা হয়। কিন্তু ক্লাস করা, পঠনপাঠনের খোঁজখবর নেওয়ার বিষয়টিরই অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা। কিন্তু কন্যাশ্রী, সবুজ সাথী, মিড-ডে মিলের সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রছাত্রীরা যাতে নানান প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধা পায়, তার জন্য ব্যাঙ্কেরও যাবতীয় কাজকর্ম করতে হচ্ছে প্রধান শিক্ষকদের!

নীহারেন্দুবাবুর বক্তব্য, প্রশাসনিক কাজ করার জন্য তো প্রশাসক থাকতেই পারেন। প্রধান শিক্ষককে ক্লাসটুকু করতে দেওয়া উচিত। ‘‘এই সব কাজ (কন্যাশ্রী, সবুজ সাথী, মিড-ডে মিল...) স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে দেওয়া যেতে পারে। এর থেকে মুক্তি চাই,’’ বলছেন নীহারেন্দুবাবু। আর নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণপ্রসন্ন ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘প্রধান শিক্ষকদের উপরে এ ভাবে অন্য কাজ চাপিয়ে দিলে ছাত্রছাত্রীদের পঠনপাঠনেরই ক্ষতি হয়। এটা সরকারের বোঝা উচিত।’’

স্কুলশিক্ষা দফতরের এক কর্তা জানাচ্ছেন, প্রধান শিক্ষকদের বক্তব্য অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই। সমস্যার সমাধান কী ভাবে করা যায়, সেটা ভেবে দেখতে হবে।

Bureaucracy, HeadMasters School Teaching
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy